Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

জয়িতা ফাউন্ডেশন আইন হচ্ছে

নারীদের বহুমুখী ব্যবসায় সম্পৃক্ত করা হবে

Advertisement

Icon

আমিরুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

নারীদের বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় সম্পৃক্ত করে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নে নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার। ‘জয়িতা ফাউন্ডেশন আইন’ নামে প্রস্তাবিত এ আইনে নারীদের ব্যবসায় যুক্ত করা, নারী উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের মানোন্নয়ন ও আধুনিকীকরণে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থাকবে ঢাকায়।

খসড়া আইনে বলা হয়েছে, বহুমুখী ব্যবসায় নারীদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে জয়িতা ফাউন্ডেশন। বাংলাদেশে নারী-পুরুষের সমতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ তৈরির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা আয়োজন করা হবে। নারী উদ্যোক্তা তৈরি, তাদের পণ্যের মানোন্নয়ন ও মাননিয়ন্ত্রণ, আধুনিকীকরণে প্রশিক্ষণ এবং গবেষণায়ও ভূমিকা রাখবে এ ফাউন্ডেশন।

জয়িতা শব্দের অর্থ বিজয়ী নারী। ব্যবসাক্ষেত্রে নারীর বিজয়ের স্বপ্ন দেখায় জয়িতা। সে বিবেচনায় নারী মুক্তির একটি মহৎ স্বপ্নের নামও জয়িতা।

২০১১ সালের নভেম্বর মাসে সরকারের অর্থায়নে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ‘জয়িতা’ শীর্ষক একটি কর্মসূচি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করে। কর্মসূচিটির মেয়াদ ছিল তিন বছর। শুরুর পরই জয়িতাকেন্দ্রিক নারী মুক্তির স্বপ্ন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর ‘জয়িতা অন্বেষণে বাংলাদেশ’ নামে একটি কার্যক্রম শুরু করে। এতে জয়িতার পরিচিতি দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং নারীসমাজের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও আশাবাদ তৈরি হয়।

প্রাথমিকভাবে ঢাকায় নারীবান্ধব বিপণন অবকাঠামো গড়ে তুলে তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিপণনের সুযোগ দেওয়া হয়। এ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগী একটি অলাভজনক ও স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসাবে জয়িতা ফাউন্ডেশন গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে এটি সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্টে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান।

পরিচালনা পর্ষদে থাকবেন মন্ত্রীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা : খসড়া আইনে বলা হয়েছে, আইনটির উদ্দেশ্য পূরণে একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হবে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অথবা প্রতিমন্ত্রী পর্ষদের চেয়ারম্যান হবেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যানসহ অর্থ, বাণিজ্য, পররাষ্ট্র, শিল্প, মহিলা ও শিশুবিষয়ক, সমাজকল্যাণ, স্থানীয় সরকার এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের একজন করে যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা সদস্য থাকবেন।

এছাড়া বাংলাদেশ ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের প্রতিনিধি, জাতীয়ভাবে স্বীকৃত তিনজন নারী প্রতিনিধি এবং জয়িতা ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক সদস্য থাকবেন। মহাপরিচালক কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন।

পর্ষদ গঠনের পর দুই বছর বহাল থাকবে। চেয়ারম্যান সভা আহ্বান করবেন এবং বছরে তিনটি সভা হবে। উপস্থিত এক-তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম গঠিত হবে। তবে মুলতবি সভায় কোরামের প্রয়োজন হবে না। প্রত্যেক সদস্য একটি করে ভোট দিতে পারবেন। চেয়ারম্যানের থাকবে কাস্টিং ভোট। কোনো সদস্য অনুপস্থিত থাকলেও সভার কার্যক্রম অবৈধ হবে না।

থাকবেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক : জয়িতা ফাউন্ডেশনে একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) থাকবেন। যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কোনো কর্মকর্তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া যাবে। তিনি ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন। সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবেন।

নারী উদ্যোক্তা নির্বাচন, নিবন্ধন এবং ব্যবসা পরিচালনার শর্ত প্রবিধান অনুযায়ী নির্ধারণ করা হবে। সরকারের অর্থ, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের দান-অনুদান, বিনিয়োগের সুদ ও লভ্যাংশ, ঋণ, নিজস্ব সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে আয়, রয়্যালটি, সার্ভিস চার্জ ও ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা থেকে পাওয়া অর্থ ফাউন্ডেশনের তহবিলে জমা হবে। সরকার অনুমোদিত অন্য উৎস থেকেও অর্থ, দান বা অনুদান নেওয়া যাবে।

তহবিলের অর্থ প্রবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত খাতে ব্যয় করা হবে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। অর্থ তফসিলি ব্যাংকে জমা রাখা যাবে। প্রতি বছর পরবর্তী অর্থবছরের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়সহ বাজেট বিবরণী সরকারের কাছে জমা দিতে হবে এবং সরকারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।

হিসাব নিরীক্ষা ও বার্ষিক প্রতিবেদন : প্রতি বছর ফাউন্ডেশনের হিসাব নিরীক্ষা করা হবে। অর্থবছর শেষে নিরীক্ষা প্রতিবেদন পরিচালনা পর্ষদে অনুমোদন করাতে হবে। মহা হিসাব-নিরীক্ষক বা তার ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিরীক্ষার প্রয়োজনে ফাউন্ডেশনের কোনো কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবেন।

প্রতি অর্থবছর শেষে সম্পাদিত কার্যক্রমের বিবরণসহ বার্ষিক প্রতিবেদন পরবর্তী অর্থবছরের ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সরকারের কাছে দিতে হবে। সরকার প্রয়োজন মনে করলে যে কোনো সময় ফাউন্ডেশনের কাছে কোনো বিষয়ে বিবরণ, রিটার্ন বা প্রতিবেদন চাইতে পারবে। সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিও করতে পারবে ফাউন্ডেশন।

আইন কার্যকর হলে জয়িতা ফাউন্ডেশনের আগের সব আইনানুগ কাজ, সিদ্ধান্ত, নিয়োগ, আদেশ, প্রজ্ঞাপন ও অনুমোদন বৈধ বলে গণ্য হবে। বিদ্যমান স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ অর্থ, ব্যাংকে থাকা অর্থ, তহবিল, অধিকার, হিসাববহি, রেজিস্ট্রার ও রেকর্ড নতুন আইনের অধীন ফাউন্ডেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আগের সব ঋণ, দায়, আইনগত বাধ্যবাধকতা ও চুক্তি ফাউন্ডেশনের ঋণ, দায় ও বাধ্যবাধকতা হিসাবে গণ্য হবে। আগের মামলা ও আইনগত কার্যধারাও নতুন ফাউন্ডেশনের মামলা হিসাবে চলবে। ফাউন্ডেশন একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসাবে কাজ করবে। আইন ও বিধির অধীনে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি অর্জন ও হস্তান্তরের অধিকার থাকবে। নিজ নামে মামলা করতে পারবে এবং এর বিরুদ্ধেও মামলা করা যাবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

জয়িতা ফাউন্ডেশন আইন হচ্ছে নারীদের বহুমুখী ব্যবসায় সম্পৃক্ত করা হবে

নারীদের বহুমুখী ব্যবসায় সম্পৃক্ত করা হবে

শারদীয় দুর্গোৎসব : পেটের তাগিদে নয় শখ আর ভালোবাসায় টিকে আছে প্রতিমা গড়ার শিল্প

শখ আর ভালোবাসায় টিকে আছে প্রতিমা গড়ার শিল্প

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক কুমিল্লায় যানজটে দিনে ছিনতাই, রাতে ডাকাতি

কুমিল্লায় যানজটে দিনে ছিনতাই, রাতে ডাকাতি

সিসায় দুই কোটি শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

সিসায় দুই কোটি শিশু স্বাস্থ্যঝুঁকিতে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম