ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন
রৌমারীতে এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ১৭ ভিটে
কাঁচা ধান কাটতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা * বিঘার পর বিঘা ফসলের খেত বিলীন
Advertisement
আহসান হাবীব নীলু, কুড়িগ্রাম
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামে গত এক সপ্তাহেই নদীভাঙনে বিলিন হয়েছে ১৭টি পরিবারের ভিটেমাটি। বসতবাড়ির পাশাপাশি নদীগর্ভে চলে গেছে বিঘার পর বিঘা কাঁচা-পাকা আমন ধান, ভুট্টা খেতসহ শাকসবজি। ভাঙন এতটাই তীব্র রূপ নিয়েছে-একদিকে নদীর পাড় ভাঙছে, অপরদিকে পাড়ের কাছে ঝুঁকির মধ্যে থাকা খেত থেকে কাঁচা ধান কেটে নিতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। এসবের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিকমাধ্যমেও।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরেই প্রায় সাড়ে পাঁচ শতাধিক পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গৃহহীন হয়েছে। শৌলমারী ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ-পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) থেকে ছয়-সাত মাস আগে ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেললেও তদারকির অভাবে এখন সেগুলো নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে নদীর পাড় দ্রুত ভাঙছে।
চর শৌলমারী ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, গত এক সপ্তাহে তার ওয়ার্ডে সাতটি এবং পার্শ্ববর্তী ৮নং ওয়ার্ডের খেদাইমারী গ্রামে ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বসতবাড়ির পাশাপাশি নদীভাঙনের গ্রাসে নিঃস্ব হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক। গতকাল সামাজিকমাধ্যমে সুখেরবাতি চরে ভয়াবহ ভাঙনের মুখে কৃষকদের নিরুপায় হয়ে কাঁচা ধান কাটার কিছু ছবি ভাইরাল হয়। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, এলাকার ইউনুছ মোল্লার দেড় বিঘা আমন ধানের জমির পুরোটাই নদীতে চলে গেছে। এছাড়া ছবুর প্রামাণিকের চার বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা আমন খেত বিলীন হয়েছে। একই সঙ্গে ৮নং ওয়ার্ডের জমসের আলীর ভিটেবাড়িসহ তিন বিঘা ধানি জমিও নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
এদিকে হঠাৎ করে ভাঙন তীব্র হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। নিঃস্ব পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে ও অন্যের জমিতে আশ্রয় নিচ্ছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্রুত ও স্থায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ভাঙনের শিকার জমসের আলী মোবাইলে জানান, ‘আমাগো ভিটেবাড়িসহ তিন বিঘা জমি নদীতে গেছে। অহন আমি কি করুম। ধারদেনা করি মানুষের জমিতে ঘর উঠাইছি। সরকারি-বেসরকারিভাবে কেউ সহযোগিতা করে নাই।’
এ বিষয়ে চর শৌলমারী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জানান, আবাদি জমি, গাছপালা ও বাড়িঘর বিনা বাধায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভেঙে নিয়ে যাচ্ছে। ফলে অসহায় গরিব মানুষের জন্য নতুন করে মাথা গোঁজা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জরুরি কাজের জন্য এখন কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি।
