Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

ব্ল্যাক রাইসে স্বপ্ন কৃষকের

হারিয়ে যাচ্ছে দেশি ‘শনি’ ও ‘কালিরায়’

Advertisement

Icon

আনু মোস্তফা, রাজশাহী

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাজশাহী অঞ্চলে এককালে ‘শনি’ ও ‘কালিরায়’ নামের দুটি ধানের জাত বেশ জনপ্রিয় ছিল। দেশি জাতের এই ধান কালো রঙের হলেও এর চাল ছিল বাদামি। রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও পাবনা অঞ্চলে এগুলোর চাষ হতো। শনি ও কালিরায়ের চাল ছিল কিছুটা সরু, পুষ্টিতে ভরপুর ও স্বাদে অনন্য। শনি এখন তেমন একটা আবাদ হয় না। উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড ধানের দাপটে দেশীয় এই জাত বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায়। তবে নওগাঁ ও পাবনার বিলাঞ্চলে এখনো কালিরায় ধানের আবাদ কিছুটা টিকে আছে। এর মধ্যে নতুন করে উচ্চ ফলনশীল ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানের জাত জনপ্রিয় করতে উদ্যোগী হয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছে পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ বিশেষ জাতের ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধান। প্রচলিত ধানের তুলনায় এ বিশেষ জাতের কালো ধানের চালের বাজার সম্ভাবনা বেশি দেখছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। এই ধান চাষ করে আশাবাদী কৃষকও।

সরেজমিন দেখা গেছে, দুর্গাপুরের দেবীপুর গ্রামের উদ্যোক্তা সোহান আলী শালঘরিয়া মাঠের ১৬ কাঠা জমিতে এবং মাড়িয়া ইউনিয়নের পালি গ্রামের কৃষক আবু তালেব আড়াই বিঘা জমিতে কালো ধান চাষ করছেন। নতুন এ ধানের চাষাবাদ, ফলন ও বাজারজাতকরণের সম্ভাবনা যাচাইয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।

কৃষক আবু তালেব বলেন, কালো ধান নতুন জাতের একটি ধান। কৃষি বিভাগের উৎসাহে ও সহায়তায় পরীক্ষামূলকভাবে প্রথমবার আড়াই বিঘা জমিতে চাষ করেছি। ফলন ভালো হলে এবং বাজারে চালের ভালো দাম পাওয়া গেলে আগামীতে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে এই ধান আবাদের পরিকল্পনা আছে। কালো ধান দেখতে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষকরা আসছেন।

দুর্গাপুরের এই দুই কৃষকের আশা, তারা প্রতি বিঘায় ১৬ থকে ১৮ মন কালো ধান পাবেন। বাজারে প্রচলিত ধানের দাম প্রতি মন বর্তমানে ১ হাজার ১০০ টাকা করে। সেখানে কালো ধান প্রতি মন ৪ হাজার টাকা করে বিক্রির আশা করছেন তারা। বিভিন্ন বাণিজ্যিক কৃষি প্রতিষ্ঠান কালো ধানের চাল কেনার জন্য যোগাযোগ করছেন। সেই হিসাবে প্রতি বিঘাতে ৬৪ থেকে ৭২ হাজার টাকার চাল বিক্রি সম্ভব হবে। এ ধান আবাদের খরচ প্রচলিত ধানের মতোই। জানা যায়, কালিরায় ও শনি প্রতি বিঘায় ফলন হতো ১০ থেকে ১২ মন। আর এই কালো ধান বিঘায় সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ মন হতে পারে। কৃষিবিদরা বলছেন, ব্ল্যাক রাইস বা কালো ধানে অ্যান্থোসায়ানিন নামের প্রাকৃতিক রঞ্জক উপাদান থাকায় চালের রং কালো বা গাঢ় বেগুনি হয়। এতে ফাইবারসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এ চালের বাজারমূল্য বেশি। তবে বাণিজ্যিক সাফল্যের জন্য স্থানীয় চাহিদা ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ।

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাহানা পারভীন লাবণী বলেন, দুর্গাপুরে প্রথমবারের মতো কালো ধান চাষে ও কৃষিতে বৈচিত্র্য আনার ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। নতুন ও সম্ভাবনাময় ফসল চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ ও তদারকি করছেন তারা। ফলন, উৎপাদন ব্যয় ও বাজার সম্ভাবনা মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধান চাষ সম্প্রসারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে।

এই কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কালো ধান চাষের খরচ অন্য প্রচলিত ধানের মতোই। দেশে চেইন শপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলোতে কালো চালের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এই ধান আবাদ সম্প্রসারণ ও জনপ্রিয় করার ক্ষেত্রে আশা জাগাচ্ছে। এতে কৃষকরা লাভবান হবেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন চেয়েছে মন্ত্রণালয় এলজিইডির ৬ শতাধিক প্রকৌশলী ক্যাডার হচ্ছে

এলজিইডির ৬ শতাধিক প্রকৌশলী ক্যাডার হচ্ছে

ব্ল্যাক রাইসে স্বপ্ন কৃষকের

ব্ল্যাক রাইসে স্বপ্ন কৃষকের

ইনানী ট্র্যাজেডি আরেক লাশের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপে ফের তল্লাশি

আরেক লাশের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপে ফের তল্লাশি

ব্রহ্মপুত্রে তীব্র ভাঙন রৌমারীতে এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ১৭ ভিটে

রৌমারীতে এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ১৭ ভিটে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম