জামায়াতের ৫ এমপির অভিযোগ
যশোরে সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণ
Advertisement
যশোর ব্যুরো ও হাতিয়া (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যশোরে সার ডিলার নিয়োগে ব্যাপক দলীয়করণ ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন জামায়াতের পাঁচ সংসদ সদস্য। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত ব্যবসায়ী ও কৃষির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বঞ্চিত করে রাজনৈতিক পরিচয় ও অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। এমনকি নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল করতে হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তারা। এতে লিখিত বক্তব্যে উপস্থাপন করেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রছুল।
তিনি বলেন, ‘যশোরের ৯৩টি ইউনিয়ন ও ৮টি পৌরসভায় সার ডিলার নিয়োগে চরম দলীয়করণ, অনিয়ম ও দুর্নীতি করা হয়েছে। যশোরের পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও তাদের পরামর্শ ও সুপারিশ উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসক সরকারি দলের দেওয়া তালিকা চূড়ান্ত করে কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারত্ব যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি।’
অধ্যাপক গোলাম রছুল বলেন, বাঘারপাড়ার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের হাবিবুর ট্রেডার্সের হাবিবুর রহমানকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ব্যাংক ডাকাতি ও প্রতারণার মামলা রয়েছে। মণিরামপুর পৌরসভায় নাফিজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মাসুদ পারভেজ রুবেলকে ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তিনি উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির ছেলে। মণিরামপুরের শ্যামকুড় ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট সালাউদ্দীন এবং নেহালপুর ইউনিয়নে তবিবর রহমানের ‘অনু’ নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মীকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় বিএনপির গ্রুপিংয়ের কারণে প্রকাশ পেয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য আজিজুর রহমান, যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোক্তার আলী, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আবু জাফর ও সহসেক্রেটারি গোলাম কুদ্দুস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
হাতিয়ায় নীতিমালা লঙ্ঘন করে সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ : সরকারি নীতিমালা তোয়াক্কা না করে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চরকিং ইউনিয়নে নির্ধারিত ধারণক্ষমতার গুদাম ছাড়াই সার ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. মনির উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চরকিং ইউনিয়নে বিসিআইসি সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান। এ প্রক্রিয়ায় ‘মেসার্স ওয়াসিম এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. আক্তার হোসেনকে ডিলার হিসাবে চূড়ান্ত করার তোড়জোড় চলছে। তবে সরকারি সার ডিলার নিয়োগ ও পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী একজন ডিলারের নিজস্ব বা ভাড়াকৃত গুদামের ন্যূনতম ধারণক্ষমতা ২৫ টন হওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রস্তাবিত গুদামটির দৈর্ঘ্য ২৩ ফুট ও প্রস্থ ১৪ ফুট; অর্থাৎ মেঝের মোট আয়তন মাত্র ৩২২ বর্গফুট। উপজেলা প্রকৌশলী এমদাদুল হকের দেওয়া প্রত্যয়নপত্রেও এই পরিমাপের উল্লেখ রয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, ৩২২ বর্গফুটের একটি ছোট কক্ষে কোনোভাবেই নির্ধারিত ২৫ মেট্রিক টন সার সংরক্ষণ করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করেই ওই প্রার্থীকে ডিলার হিসাবে নির্বাচিত করার অপচেষ্টা চলছে।
অভিযোগকারী মনির উদ্দিন জানান, অপর্যাপ্ত ধারণক্ষমতার গুদামে সার বরাদ্দ দিলে কৃষকদের সময়মতো ও ন্যায্যমূল্যে সার পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। এতে কৃত্রিম সংকট ও সার পাচারের ঝুঁকি তৈরি হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মেসার্স ওয়াসিম এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আক্তার হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে কীটনাশক ও সার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আমার গুদাম নীতিমালা মেনেই তৈরি করা হয়েছে। এ ছাড়া সার সংরক্ষণের জন্য আমার বিকল্প আরেকটি গুদামও রয়েছে। এ বিষয়ে হাতিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল বাছেদ সবুজের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
