৩০ জেলায় ৬৫ হাজার বৃক্ষরোপণ
সবুজের ফেরিওয়ালা নওগাঁর অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান
Advertisement
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার রাঁইগা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আরিফুর রহমান বৃক্ষপ্রেমী হিসাবে পরিচিত। সবুজায়নের উদ্দেশ্যে তিনি ছাত্রজীবন থেকে তাল, ফলদ ও শোভাবর্ধনকারীসহ বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করেছেন, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ পর্যন্ত দেশের ৩০টি জেলায় ৬৫ হাজার বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করেছেন তিনি। জেলার বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কের সাতগ্রাম থেকে ডাবরকুড়ি পর্যন্ত ৩ কিলোমিটার সড়কের দুইপাশে রয়েছে অসংখ্য তালগাছ। তিন দশক আগে অধ্যক্ষ আরিফুরের রোপণ করা এসব চারা এখন সড়কের পাশে শোভাবর্ধনের পাশাপাশি ফল ও ছায়া দিয়ে আসছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে, অপরদিকে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন স্থানীয়রা। সড়কটি এখন তালপার্ক নামেও পরিচিত। মহাদেবপুর উপজেলার রাইগাঁ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ও রাইগাঁ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আরিফুর। তিনি সবুজের ফেরিওয়ালা খ্যাত অধ্যক্ষ আরিফুর। পরিবেশের প্রতি ভালোবাসার মাধ্যমে তিনি এখন অনেকের কাছেই সবুজ বিপ্লবের অনুপ্রেরণার নাম।
গাছ পাগল এ মানুষটি বেতনের একটি অংশ জমা করে নিজস্ব অর্থায়নে গাছের চারা বিতরণ ও রোপণ করে আসছেন। রাস্তার দুই ধারে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, পলাশ, শিমুলসহ নানান ফুল ও ফলের গাছও রোপণ করেন, যা কৃষ্ণচূড়া ভ্যালি নামে পরিচিত। সান্তাহার রেলস্টেশন, নওগাঁর হাঁসাইগাড়ি বিল ও পত্নীতলা উপজেলার নদীর পশ্চিম পাশসহ বিভিন্ন জায়গায় বনায়ন করেছেন তিনি।
এক কথায় চারপাশে সবুজের সমারোহ গড়ে তোলার এক অদম্য নেশা অধ্যক্ষ আরিফুরের। নিজের ভালো লাগা থেকেই বন্ধুদের নিয়ে ছাত্রজীবন থেকে বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করে আসছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে বজ পাত থেকে রক্ষার কথা চিন্তা থেকে তাল গাছের চারা রোপণ শুরু হয়। শিক্ষার্থী ও ইউনিয়ন পরিষদে আসা সেবাগ্রহীতাদের মধ্যেও তিনি গাছের চারা বিতরণ করেন। কোথাও ঘুরতে গেলেও সঙ্গে গাছ রাখেন। শুধু মহাদেবপুর নয়, উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তেও পৌঁছে গেছে তার এই সবুজের উপহার। সবুজায়নের লক্ষ্যে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিজ উদ্যোগে গাছের চারা বিতরণসহ রোপণ করে আসছেন তিনি। প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে গাছের পরিচর্যাও করেন।
ডাবরকুড়ি গ্রামের বাসিন্দা বয়োজ্যেষ্ঠ লুৎফর রহমান বলেন, প্রায় ৩০-৩৫ বছর আগে বদলগাছী-পত্নীতলা আঞ্চলিক সড়কটি প্রশস্তকরণে মাটি ফেলা হয়েছিল। সে সময় আরিফুর তার কয়েকজন বন্ধু নিয়ে তালবীজ রোপণ করেছিল, যা এখন দৃশ্যমান। সাতগ্রাম থেকে ডাবরকুড়ি পর্যন্ত সড়কের দুইপাশে অসংখ্য তালগাছ আছে, যা সৌন্দর্য বহন করছে। মাঠে কাজ করা শ্রমিকরা গাছের ছায়ায় বিশ্রাম করেন। ঝড়-বৃষ্টিতে আশ্রয় নেন।
অধ্যক্ষ আরিফুর বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব থেকে পরিবেশ রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী রেখে যাওয়ার ইচ্ছা। এ পর্যন্ত রাজশাহী, রংপুর ও সিলেট বিভাগসহ দেশের ৩০টি জেলায় ৬৫ হাজার বিভিন্ন গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। স্বপ্ন দেখি এক সবুজ শ্যামল বাংলাদেশের।
