কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সংস্কার
যোগসাজশে কয়েক কোটি টাকার মাটি বিক্রি
Advertisement
আবুল খায়ের, কুমিল্লা
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লায় মহাসড়ক সংস্কারের কয়েক কোটি টাকার মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক সংস্কার এবং সম্প্রসারণে সড়কের পাশের মাটি উত্তোলন করে দেদার বিক্রি করা হচ্ছে। সড়ক বিভাগের দায়িত্বরত তদারক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারের লোকজন এসব মাটি বিক্রি করছে বলে অভিযোগ। মহাসড়কের দেবিদ্বার থেকে ময়নামতি পর্যন্ত বিভিন্ন অংশে সম্প্রসারণ শেষে সড়কের পাশের বিপুল পরিমাণ মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। এতে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
কুমিল্লা সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের আওতায় কুমিল্লার ময়নামতি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধরখার পর্যন্ত ৫৪ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরনের চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়। ৭ হাজার ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল। পরে ভারতীয় অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সড়কটির প্রয়োজনীয়তার কথা চিন্তা করে সরকার দুই পাশে সামান্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কের দুই পাশ ৩৪ ফুট প্রশস্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, মহাসড়ক সম্প্রসারণে দুই পাশে ৩-৪ ফুট গভীর থেকে ইট বালু দিয়ে রুলিং করা হয়। কিন্তু ভেকু দিয়ে দুই পাশের মাটি তুলে সড়কের জন্য পাশে না ফেলে বিপুল পরিমাণ মাটি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, এরই মাঝে সড়কের দেবিদ্বার, বারেরা, বিরাল্লা, বেগমাবাদ, জাফরগঞ্জ, কংশনগর, পারুয়ারা, রামপুর, দেবপুর, ময়নামতি এলাকায় সড়কের দুই পাশে মাটি তুলে কয়েক কোটি টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এসব মাটি আশপাশের কৃষি জমি এবং জলাশয় ভরাটে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫টি ড্রাম ট্রাকে করে মাটি বিক্রি করা হয়েছে। ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে সাহেবের বাজারসংলগ্ন গরুর বাজার পর্যন্ত সড়কের পাশের এক কিলোমিটার অংশের মাটি এর পশ্চিম এলাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন তদারকির দায়িত্বে থাকলেও তার সামনেই এসব মাটি বিক্রি হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্লাসিক বিল্ডার্স ওই সড়কটির সম্প্রসারণের কাজ করছে।
মহাসড়কের বারেরা এলাকার বাসিন্দা এজাজ আহমেদ বলেন, সড়কের দু’পাশ খনন করে মাটি বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। এতে সড়কটি ঝুঁকিতে পড়েছে। বর্ষায় সড়কের দু’পাশ ভেঙে পড়বে। জাফরগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, মাটিগুলো ড্রাম ট্রাকে করে এখান থেকে কোথায় নিয়ে গেছে জানি না। তবে এর কারণে সড়কটি স্থায়ী ও টেকসই হবে না। বর্ষা মৌসুমে দুই পাশ দিয়ে ভেঙে পড়তে পারে। এদিকে, সড়ক সংস্কারের মাটি বিক্রির অভিযোগে দেবপুর ফাঁড়ির পুলিশ একাধিক ড্রাম ট্রাক আটক করেছে।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, ‘সড়কের মাটি বিক্রির খবর পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘সড়কের দুইপাশ থেকে মাটি বিক্রির কোনো নিয়ম নেই। এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। এ ঘটনায় কারো জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
