৯ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বনিম্ন
বরিশালে ফল বিপর্যয়
পাশের হার কমেছে ১৭.৭৩ শতাংশ
Advertisement
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি পরীক্ষার ফলে বড় বিপর্যয় ঘটেছে। এবার পাশের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশে, যা ৯টি শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছর এ হার ছিল ৬২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাশের হার কমেছে ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ কমেছে। এবার জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৯৫০ জন, গত বছর পেয়েছিলেন ১ হাজার ৬৭৫ জন।
এবার বোর্ডের ১১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাশ করতে পারেননি। বিপরীতে শতভাগ পাশ করেছেন মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। বিভাগভিত্তিক ফলাফলে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মানবিকের। এ বিভাগে ৪০ হাজার ৪৮৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছেন ২৩ হাজার ৫০৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাশের হার ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে এবার পাশের হার ৫৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। বিষয়ভিত্তিক হিসাবে ইংরেজিতেও পাশের হার কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে।
যে ১১টি কলেজের কোনো পরীক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেননি-ভোলার চরমানিকা জালাল আহমেদ কলেজ, লালমোহনের রামাগঞ্জ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও সদর উপজেলার মিদুয়া কলেজ। পটুয়াখালীর গলাচিপার বিপিসি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মির্জাগঞ্জের মজিদবাড়িয়া কলেজ ও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর সাবিনা আক্তার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। পিরোজপুরের নাজিরপুরের দীঘিরজান স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কদমতলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠির নলছিটির অ্যাডভোকেট এইচআরকে ফাউন্ডেশন কৃষি প্রযুক্তি কলেজ এবং বরগুনার পাথরঘাটার হোগলাপাশা কলেজ।
ক্যাডেট কলেজের সবাই পেলেন জিপিএ-৫ : বোর্ডের সার্বিক ফল বিপর্যয়ের মধ্যে ব্যতিক্রমী সাফল্য দেখিয়েছে বরিশাল ক্যাডেট কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির বিজ্ঞান বিভাগের ৪১ জন ও মানবিক বিভাগের পাঁচজনসহ ৪৬ পরীক্ষার্থীর সবাই জিপিএ-৫ পেয়েছেন।
ইংরেজিতে বড় ধস : গত বছর এ বিষয়ে পাশের হার ছিল ৭৫ দশমিক ১৬ শতাংশ। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৫৪ দশমিক ০৮ শতাংশে। বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা বলেন, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ ইংরেজিতে ফেল করেছে। এ বিষয়ে ভালো করতে পারলে সামগ্রিক ফল আরও ভালো হতো।
মেয়েরা এগিয়ে : এবার ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ভালো ফল করেছেন। ছেলেদের পাশের হার ৩৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ। অন্যদিকে মেয়েদের পাশের হার ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
ফল বিপর্যয়ের কারণ কী : অধ্যাপক শরীফ মোর্শেদ রেজা ফল বিপর্যয়ের কারণ হিসাবে মানসম্মত শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার অভাব এবং শিক্ষক ও অভিভাবকদের অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থেকে পাঠ গ্রহণের পাশাপাশি বাড়িতে পড়াশোনা করতে হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন জরুরি। শুধু পরীক্ষার আগে প্রস্তুতি নয়, সারা বছর পড়াশোনার ধারাবাহিকতা রাখতে হবে।
তবে ফলাফলকে পুরোপুরি নেতিবাচকভাবে দেখতে চান না তিনি। তার মতে, জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রতিযোগিতার চেয়ে শিক্ষার্থীরা প্রকৃত অর্থে কতটা শিখছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার মান বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষাবিদ শাহ সাজেদা বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের ফল খারাপ হয়েছে, সেগুলোর বিষয়ভিত্তিক ফল বিশ্লেষণ করে দুর্বলতা চিহ্নিত করতে হবে। বিশেষ করে ইংরেজিতে পিছিয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি ক্লাস ও নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা জরুরি।
