‘ফল বিপর্যয়’ মানতে নারাজ যশোর বোর্ড সচিব
পরীক্ষার পদ্ধতি, খাতা মূল্যায়নে প্রকৃত ফল
Advertisement
তৌহিদ জামান ও ইন্দ্রজিৎ রায়, যশোর
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চলতি বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। গতবারের চেয়ে যা ৫ দশমিক ৩২ শতাংশ কম। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮, গতবারের চেয়ে ২ হাজার ৭৬৭ কম। শনিবার বেলা ১১টায় শিক্ষা বোর্ডের কনফারেন্স রুমে এ পরীক্ষার ফল ঘোষণা করেন বোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন।
পাশের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা কম হওয়াকে ‘ফল বিপর্যয়’ মানতে নারাজ বোর্ড কর্তৃপক্ষ। বোর্ড সচিব বলেন, আগের চেয়ে পরীক্ষার পদ্ধতি ও খাতা মূল্যায়নের কারণে আমরা প্রকৃত ফলাফল পেয়েছি। শিক্ষকরা উত্তরপত্রে যেভাবে পেয়েছেন, মূল্যায়নও তেমন করেছেন। আমরা কোয়ালিটি চাই, কোয়ান্টিটি নয়।
এবার যশোর বোর্ডের অধীনে দশটি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৪০ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাশ করেছেন ৫০ হাজার ৬৬৮। পরীক্ষা চলাকালে বহিষ্কার হন ৪৩ জন।
যেসব বিষয়ে খারাপ ফল : এ বছর ইংরেজিতে পাশের হার ৫৪ দশমিক ৯৫। এছাড়া আইসিটিতে পাশ করেছেন ৬৭ দশমিক ৮৪ শতাংশ, তেমনই উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, রসায়নে ৭৭ দশমিক ৪৮, অ্যাকাউন্টিংয়ে ৭৬ দশমিক ২২ শতাংশ। বোর্ড সচিব বলেন, ইংরেজিতে পাশ খুবই কম হওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক ফলাফলে। এছাড়া আইসিটিতেও শিক্ষার্থীরা বেশ খারাপ করেছেন।
শীর্ষে যশোর, তলানিতে নড়াইল : এ বছর পাশের হারে শীর্ষে অবস্থান করছে যশোর জেলা, পাশের হার ৫২.৯৪, দ্বিতীয় খুলনা জেলা, ৪৬.৬৫, তৃতীয় চুয়াডাঙ্গা, ৪৬.১৩। এর পরে রয়েছে কুষ্টিয়া (৪৫.৩৮), সাতক্ষীরা (৪৩.৪৫), ঝিনাইদহ (৪১.৯৮), মেহেরপুর (৪০.৭৬), বাগেরহাট (৩৮.৮৬), মাগুরা (৩৭.৩৬) ও শেষে নড়াইল (৩৬.৭৮)।
তিন কলেজে শতভাগ পাশ : এ বোর্ডের অধীন শতভাগ পাশ করা প্রতিষ্ঠানগুলো-ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ (পরীক্ষার্থী ৪৩), খুলনার খালিশপুর নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ৬১) ও চুয়াডাঙ্গা জেলার ব্রাইট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ (পরীক্ষার্থী ২৩)।
১৬ প্রতিষ্ঠানের কেউ পাশ করেননি : এবার এ বোর্ডের অধীন ১৬ প্রতিষ্ঠানের কেউ-ই পাশ করতে পারেননি। এর মধ্যে খুলনার ছয় প্রতিষ্ঠান-ডুমুরিয়ার মডেল মহিলা কলেজ (পরীক্ষার্থী ৩), খুলনা সদরের ইন্ডিপেন্ডেন্স আইডিয়াল কলেজ (১১), কপিলমুনি সহচরী বিধ্যা মন্দির (৩), কয়রা শাকবাড়িয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২৭), রূপসার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল (১) ও খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিলস স্কুল অ্যান্ড কলেজ (১২), কুষ্টিয়ার মিরপুরের হাজি নুরুল ইসলাম কলেজ (৮) ও কুমারখালীর জগন্নাথপুর আইডিয়াল কলেজ (১), মাগুরার বুজরুক শ্রীকুন্ডি কলেজ (১৫) ও মহম্মদপুরের গোপীনাথপুর এম এ খালেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ (২), সাতক্ষীরার ইসলামিয়া মহিলা কলেজ (৩) ও একে ফজলুল হক এমসিএ কলেজ (৪৯), মেহেরপুরের মরকা জাগরণ কলেজ (১), ঝিনাইদহের মল্লিক শহিদুল ইসলাম কারিগরি কলেজ (১৯), যশোরের মণিরামপুরের সবুজপল্লী কলেজ (৭) এবং নড়াইলের মাকরাইল করিম খালেক সোলায়মান ইনস্টিটিউট (৪৩)।
বোর্ড সচিব বলেন, শূন্য পাশ প্রতিষ্ঠানকে আমরা এর আগেরবার শোকজ করেছি। এতে কিছুটা ফল দেখা গেছে। যেমন গতবার এ সংখ্যা ছিল ২০, এবার ১৬। এবার তাদের প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি নবায়ন কিংবা শর্তজুড়ে দেওয়া হবে।
