১৭ হাজার চেয়ে হজ কোটায় মিলল ৫ হাজার
সৌদির সক্ষমতা সংকটে আটকে বাংলাদেশের হজযাত্রীর স্বপ্ন * ৯ নভেম্বর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত * কোটার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে : ধর্মমন্ত্রী
হুমায়ুন কবির
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের জন্য ২০২৭ সালের হজে আরও ৫ হাজার কোটা বাড়িয়েছে সৌদি আরব। এতে মোট হজ কোটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩ হাজার ৫০০ জনে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৭ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের সুযোগ পাবেন। তবে বাংলাদেশের চাহিদা ছিল অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৫০০ কোটা। সেই হিসাবে চাহিদার মাত্র ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ পূরণ হয়েছে। বাকি ১২ হাজার ৫০০ হজযাত্রীর হজ পালনের সুযোগ পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। আগামী ৯ নভেম্বর সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের হজ চুক্তি হওয়ার কথা রয়েছে। ওই চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য চূড়ান্ত কোটা নির্ধারণ করা হবে। অতিরিক্ত কোটা পাওয়ার বিষয়ে এখনো আশাবাদী ধর্ম মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগে বাংলাদেশের হজের কোটা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮টি। কয়েক বছর ধরে নির্ধারিত কোটা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। গত বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে ৭৮ হাজার ৫০০ জন বাংলাদেশি হজ পালন করেন। এ পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালের হজের জন্য শুরুতে একই পরিমাণ কোটা বরাদ্দ দেয় সৌদি সরকার। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬ হাজার এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭২ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারিত ছিল।
তবে এবার হজ ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন, ব্যয় হ্রাস এবং সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে হজযাত্রীদের আগ্রহ বেড়েছে। নির্ধারিত কোটা পূর্ণ হওয়ার পরও ১৭ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ হজ পালনের অপেক্ষায় রয়েছেন। অতিরিক্ত আগ্রহীদের অপেক্ষমাণ তালিকায় রেখে নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ করা হয়। এ অবস্থায় হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) আরও ২০ হাজার কোটা বরাদ্দের দাবি জানায়।
অতিরিক্ত কোটা আদায়ে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) ব্যক্তিগতভাবেও উদ্যোগ নিয়েছেন। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহবিষয়ক মন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানোর পাশাপাশি সরাসরি কথা বলেছেন তিনি। বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘কোটার মালিক আল্লাহ। আল্লাহ যা চান, তাই হবে। আমরা চেষ্টা করছি, করার মালিক আল্লাহ। তবে সৌদি মন্ত্রী আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি চেষ্টা করবেন। কারণ তারা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত আন্তরিক।’
ধর্মমন্ত্রী আরও জানান, সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে অনলাইন বৈঠকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বাংলাদেশের কোটা বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, আগামী হজ চুক্তিতে ধর্মমন্ত্রী সৌদি সরকারের কাছে কোটা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরবেন। চুক্তির আগেই এ বিষয়ে একটি সমাধান হবে বলে তারা আশা করছেন।
চাহিদার ২৮ শতাংশ কোটা বৃদ্ধি : বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৫০০ কোটা চাওয়ার পর সৌদি সরকার প্রথম পর্যায়ে ৫ হাজার কোটা অনুমোদন করেছে। গত ৩ অক্টোবর সৌদি সরকারের নুসুক মাসার ব্যবস্থায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় ২৮টি বেসরকারি লিড এজেন্সির মধ্যে তাদের চাহিদার অনুপাতে বাড়তি কোটা বণ্টন করে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানায়, আরও কোটা পাওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম নিয়মিত এ বিষয়ে তৎপরতা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমেও কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন।
জেদ্দায় বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর মো. কামরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের কোটা বাড়ানোর বিষয়ে সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ১৭ হাজার ৫০০ কোটা বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি সরকার ইতোমধ্যে ৫ হাজার অতিরিক্ত কোটা অনুমোদন করেছে। বাকি কোটা পাওয়ার বিষয়েও বাংলাদেশ আশাবাদী। তবে মিনায় তাঁবুসহ হজ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং অন্যান্য দেশের চাহিদার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। আগামী ৯ নভেম্বর দুই দেশের হজ চুক্তির সময় বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা হবে। বাংলাদেশের হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ সুযোগ নিশ্চিত করতে হজ মিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তবে বাংলাদেশের চাহিদা অনুযায়ী আরও কোটা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে সৌদি আরবের আবাসন ও ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতা। সৌদি আরবের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মিনায় তাঁবু নির্মাণের কাজ চলমান থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় প্রস্তুত তাঁবুর সংখ্যা এখনো কম। তাঁবুর ভেতরে সাধারণ ব্যবহার ও চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখার বাধ্যবাধকতা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাড়তি চাহিদার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার হজ ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিংয়ে সরকারের কঠোর নজরদারি এবং বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে হজযাত্রীদের ভোগান্তি ও অনিয়ম কমেছে। পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় হজের ব্যয়ও কমানো সম্ভব হয়েছে। এসব কারণে এবার হজ পালনে আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) ও ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ একটি প্রতিনিধিদল ইতোমধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। আগামী ৯ নভেম্বর দুই দেশের মধ্যে হজ চুক্তি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই চুক্তিতেই ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের চূড়ান্ত কোটা নির্ধারণ করা হবে।
