বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন
দেশসেরা গৌরীপুরের জুলহাস
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
যতদূর চোখ যায় দুলছে ঝিঙা, চিচিঙ্গা আর বরবটি। যত কাছে যাওয়া যায় তত বিস্ময়! এ যেন আকাশ, বাতাস, জল, স্থল ও মাটির ভেতরেও ফসলের মাঠ। বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জুলহাস উদ্দিন। শুধু দৃষ্টান্ত নয়; দেশজুড়ে মাটির শতভাগ ব্যবহারের উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন এ যুবক। মাল্টিলেয়ার ফার্মিংয়ে কৃষি বিভাগের দেশসেরা এখন জুলহাস। তিনি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার মরিচালী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
সরেজমিন দেখা যায়, মাত্র ২০ শতাংশ জমি। শ্রম, মেধা আর স্বপ্ন জয়ের অক্লান্ত পরিশ্রমী এ তরুণ জমিটি সাজিয়েছেন পরিকল্পনামাফিক। জমির অগ্রভাগের ১৬ শতাংশ তিনি ধানের চারা রোপণ করেছেন। ৪ শতাংশ উন্মুক্ত ও গভীর গর্ত। সেখানে মাছ অক্সিজেন নেয় এবং মাছ ধরার সময় এ গর্তে চলে আসে। পুকুরের অন্য অংশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে বানিয়েছেন মাচা। পুকুরপাড়ে লাগানো চিচিঙ্গা, ঝিঙা যেন পুকুরজুড়ে দুলছে। এ পাড়ের একপাশে ঢ্যাঁড়শ গাছে হলুদাভ হয়ে ফুটছে ফুল। পাড়ের অপরপাশে বরবটি। যেন আকাশজুড়ে দুলছে। শুধু তাই নয়, পুকুরপাড়ে ফাঁকে ফাঁকে রয়েছে আদা।
এ প্রসঙ্গে জুলহাস উদ্দিন জানান, তার ২০ শতাংশ জমিতে প্রায় আট হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি চিচিঙ্গা ও ঝিঙা বিক্রি করেছেন ১১ হাজার টাকার। বরবটি বিক্রি হয়েছে এক হাজার ৮০০ টাকার। ঢ্যাঁড়শ বিক্রি করেছেন ৬০০ টাকার। মাত্র উত্তোলন শুরু হয়েছে। চলবে আরও দুই-তিন মাস। তিনি আরও জানান, এ রকমভাবেই সাজানো হয়েছে আরও ২৫ শতাংশ, ৩০ শতাংশ ও ২০ শতাংশের আরও তিনটি প্লট। দিন-রাত পরিশ্রম করে তিনি ফসল ফলান। পুকুরপাড়ে পাইকার এসে সবজি কিনে নিয়ে যায়। এ ফসলের আয়ে চলছে তার চার সদস্যের পরিবার।
উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, মাটির বহুস্তরে চাষাবাদের এ পদ্ধতির নাম মাল্টিলেয়ার ফার্মিং (বহুস্তরীয় চাষাবাদ)। একই জমিতে ওপর-নিচ করে বিভিন্ন উচ্চতার চারটি স্তরে ফসল বোনা হয়, অথবা চারফসলি শস্যবিন্যাস যেখানে বছরের বিভিন্ন সময়ে একই জমিতে মোট চারটি ফসল চাষ করা হয়। তবে মাল্টিলেয়ার ফার্মিংয়ে দেশে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তরুণ উদ্যোক্তা কৃষক জুলহাস। একই সময়ে উপরে, সমতলে, পানিতে ও মাটির নিচেও ফসল উৎপাদন করে মাল্টিলেয়ার ফার্মিংয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন তিনি।
উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা কাওছার আহম্মদ খান জানান, পুকুরপাড় ফসল উৎপাদনে চাষিরা লাভবান হচ্ছেন। তাই অন্যরাও উৎসাহিত হচ্ছেন।
মরিচালী গ্রামের আজিজুল হক, তোতা মিয়া, আরশেদ আলী বলেন, শুধু জুলহাস নয়; এ অঞ্চলে এখন সবজির বিপ্লব ঘটছে এমন করেই। প্রতিটি পুকুরের পাড় এখন সবজির বাগান, পুকুরেও সবজি চাষ হচ্ছে। কৃষকের এমন সাফল্যের প্রশংসা করেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু রায়হান। তিনি বলেন, এ ধরনের কৃষকের কারণে কৃষি ও কৃষকের উন্নতি হয়েছে। তারা দেশের সবুজ বিপ্লব করছেন। নিজে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখছেন।
