বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার
রোজায় দাম সহনীয় রাখতে ১০ পণ্য আমদানিতে ছাড়
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সামনে রোজার মাস। এ সময় বেশকিছু পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। বাজার সামলাতে ১০টি পণ্য আমদানিতে ছাড় দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এসব পণ্যের এলসি মার্জিন শিথিল করা হয়েছে। এখন থেকে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে এলসি খোলা যাবে। নগদ মার্জিনও ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে বলা হয়েছে। পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে-চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, ছোলা, চিনি ও খেজুর। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত এই সুবিধা পাবেন আমদানিকারকরা। রোজায় বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাড়াতে এবং দাম স্থিতিশীল রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবছর রোজার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এবারও নেওয়া হলো। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, এর ফলে রোজার বাড়তি চাহিদা মেটাতে এসব পণ্যের আমদানি বাড়বে। পাশাপাশি বাজারে সরবরাহও বৃদ্ধি পাবে। ফলে দাম স্থিতিশীল থাকবে। পণ্যগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে-গম (আটা), পেঁয়াজ, মটর ও মসলা। সার্কুলারে বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে আমদানি এলসি খোলার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকাররা জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় আলোচ্য পণ্য বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো ৩০ শতাংশ পর্যন্ত নগদ মার্জিন নিয়ে থাকে। রোজার কারণে এলসি মার্জিন শিথিল করায় এখন ৫ থেকে ১০ শতাংশ মার্জিন নেওয়া হতে পারে। তবে যেসব গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে ভালো লেনদেন করছেন তাদের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো আরও কমে মার্জিন নিয়ে থাকে। নতুন সিন্ধান্তের ফলে এসব পণ্যে আমদানির এলসি খুলতে গ্রাহককে নগদ টাকা কম দিতে হবে। ব্যাংক ঋণ হিসাবে বেশি টাকা দেবে। ফলে উদ্যোক্তাদের এলসি খুলতে নগদ টাকার প্রয়োজন কম হবে। ফলে তারা বেশি এলসি খুলতে উৎসাহিত হবে। যে কারণে পণ্যের সরবরাহ বাড়বে এবং দামও সহনীয় পর্যায়ে থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুর দিকে রোজা হবে। সে হিসাবে এখনো তিন মাস বাকি। এখন এসব পণ্য আমদানির এলসি খোলা হলে রোজার আগেই এগুলো বাজারে চলে আসবে, যা রোজার বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হবে। এদিকে, ব্যাংকগুলোতে এলসি খোলার প্রবণতা ইতোমধ্যে বেড়েছে। পাশাপাশি ডলারের দামও বেড়েছে। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ডলারের দাম প্রায় ১ টাকা বেড়ে গেছে। এছাড়া বিশ্বব্যাংক গত মাসের শেষের দিকে বলেছিল চলতি বছর আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। এটি কমলে আন্তর্জাতিক বাজারেও পণ্যের দাম কিছুটা কমতে পারে। এতে দেশে পণ্যের দামে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে।
