Logo
Logo
×

Advertisement

নগর-মহানগর

সাজেকে পর্যটন বন্ধে বিপর্যস্ত অর্থনীতি, আটকে শান্তিসংলাপ

Icon

সুশীল প্রসাদ চাকমা, রাঙামাটি

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

রাঙামাটির বাঘাইছড়ির সাজেক উপত্যকায় চলমান অবরোধের নেপথ্যে ক্রমেই সামনে আসছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টি। আর অবরোধকারীদের অভিযোগ, সেখানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অবস্থান, তাদের তৎপরতা ও চাঁদাবাজিতে সাধারণ মানুষ জিম্মি হয়ে আছে। অন্যদিকে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাব বিস্তার ঘিরে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস-সন্তু লারমা) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত খীসা) মধ্যে বিরোধ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারের শান্তি সংলাপের উদ্যোগও আটকে গেছে। অবরোধের জেরে দীর্ঘদিনের পর্যটন ব্যবসা, পরিবহণ, কৃষি ও স্থানীয় জনজীবন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে, যে কারণে বিপর্যস্ত স্থানীয় অর্থনীতি।

সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, সাজেকের সংকটের মূল কারণ আধিপত্য বিস্তার ঘিরে। যদিও অভিযোগের কেন্দ্রে অবরোধ কর্মসূচির প্রকাশ্যে নেতৃত্বে রয়েছে দুই সংগঠন-সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠন দুটির দাবি, সাজেকের মাচালংসহ বিভিন্ন এলাকায় জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যরা অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের অভিযোগ, এসব তৎপরতায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই তাদের পাঁচ দফা দাবির অন্যতম সাজেক থেকে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া।

সাজেক গণঅধিকার কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার অভিযোগ, সাজেকে সেনাবাহিনী ও জেএসএস সশস্ত্র সদস্যরা সামনাসামনি অবস্থান করলেও সশস্ত্র সদস্যদের বিরুদ্ধে বা তাদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না। সশস্ত্র সদস্যদের সরানোসহ পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতা নয়-দাবি আদায়ে আমাদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলতে থাকবে। অন্যদিকে জেএসএস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সংগঠনটির সহতথ্য ও প্রচার সম্পাদক সাজীব চাকমার বক্তব্য, জেএসএস কোনো সশস্ত্র আন্দোলন পরিচালনা করছে না। অবরোধকারী সংগঠনগুলো ইউপিডিএফের ‘পকেট সংগঠন’ হিসাবে কাজ করছে। জেএসএসের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ইউপিডিএফ নিজেদের তৎপরতা আড়াল করতে চাইছে।

খাগড়াছড়ি সড়ক পরিবহণ জিপ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মীর হোসেনসহ পরিবহণ ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সাজেকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ডাকা অবরোধ পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে। সাজেকে শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট, পরিবহণ ও অন্যান্য ব্যবসার সঙ্গে বহু মানুষের জীবিকা জড়িত। পর্যটন বন্ধ থাকায় তাদের আয় বন্ধ হয়ে গেছে। ২৬ অক্টোবর খাগড়াছড়ির সংসদ-সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নেতৃত্বে সরকারি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বৈঠক হয়। এতে পাঁচ দফা দাবির চারটিতে অগ্রগতি বা সমঝোতার কথা জানানো হলেও মূল বিরোধ থেকে যায় সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়ার সময়সীমা নিয়ে। সরকার তিন সপ্তাহ সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা পাঁচ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ দাবি করেন। ফলে এদিনের বৈঠকটি চূড়ান্ত সমাধান ছাড়াই শেষ হয়, যা এখন থমকে গেছে। প্রশাসন সংলাপ, কমিটি গঠন ও নিরাপত্তা উদ্যোগ নিলেও সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো অধরা। ৫ নভেম্বর সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সাজেকের ক্ষতিগ্রস্ত স্থায়ী বাসিন্দা ও শ্রমজীবীদের ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব আসে। কিন্তু পর্যটন পুনরায় চালু, সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক করা এবং সশস্ত্র তৎপরতা বন্ধের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়ায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় বন্ধ রয়েছে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র। নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ বিধি-নিষেধ বহাল থাকবে বলে জানান বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

খুলেছে বন্ধ জুট মিলগুলো খুলনায় কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত

খুলনায় কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত

যশোরে ভ্যানিলা চাষ দামি মসলায় সম্ভাবনার দুয়ার

দামি মসলায় সম্ভাবনার দুয়ার

সাজেকে পর্যটন বন্ধে বিপর্যস্ত অর্থনীতি, আটকে শান্তিসংলাপ

সাজেকে পর্যটন বন্ধে বিপর্যস্ত অর্থনীতি, আটকে শান্তিসংলাপ

বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার রোজায় দাম সহনীয় রাখতে ১০ পণ্য আমদানিতে ছাড়

রোজায় দাম সহনীয় রাখতে ১০ পণ্য আমদানিতে ছাড়

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম