অস্ত্র কিনতে চান সাভার ছাত্রলীগের সভাপতি আতিক!
Advertisement
মতিউর রহমান ভান্ডারী, সাভার
প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৩, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক আগ্নেয়াস্ত্র কিনতে আবেদন করেছেন। তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ঠিকাদার হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স ইউসুফ এন্টারপ্রাইজের বছরে আয় ১ কোটি ২ লাখ ৩৩ হাজার ৬৪ টাকা। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে তিনি একটি শটগান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের এক নেতা যুগান্তরকে জানান, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রের ৫(গ) ধারা অনুযায়ী, ছাত্রলীগের পদে থাকা অবস্থায় কেউ ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারবে না। বিয়েও করতে পারবে না। কিন্তু গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে আতিক ঠিকাদারি ব্যবসাসহ একাধিক ব্যবসা করছেন। তিনি বিয়েও করেছেন। এটা দুঃখজনক। স্থানীয়রা জানান, সাভার আড়াপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে আতিক ২০১৫ সালে স্বর্ণা আক্তারকে বিয়ে করেন। আতিক এক কন্যাসন্তানের জনক। পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারটি দরপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন আতিকের ক্যাডার বাহিনী অন্যসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র জমা দিতে বাধা দেয়। প্রভাব খাটিয়ে তিনি চারটি দরপত্রের কার্যাদেশ বাগিয়ে নেন।
ঢাকা জেলা উত্তর ছাত্রলীগের সহসভাপতি মোবারক হোসেন খান পলক জানান, ২০১৫ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসাবে আতিকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। এরপর বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়লে ২০১৮ সালের মে মাসে ওই পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। সাভার উপজেলা শাখা ছাত্রলীগের কমিটিকেও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। তবে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি রেজোয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানি ওই কমিটি পুনর্বহাল করেন। দ্বিতীয়বার পদ পেয়ে আতিক বেপরোয়া হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ডিস ব্যবসার দখল নেওয়ার মধ্য দিয়ে আতিক অপকর্মের যাত্রা শুরু করেন। পর্যায়ক্রমে তিনি টেন্ডারবাজি, পরিবহণ ব্যবসার চাঁদার নিয়ন্ত্রণ, ঝুট ও বালুর ব্যবসা দখল করেন। বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্যে আধিপত্য বিস্তার করতে তিনি প্রকাশ্যে মারামারি ও হানাহানিতে জড়িয়ে পড়েন। এসব অপকর্ম করে আতিক বাড়িগাড়িসহ কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। এখন জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে আতিক আগ্নেয়াস্ত্রের আবেদন করেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতা জানান, পৌর এলাকার ভাটপাড়া মৌজায় ২০১৬ সালে সাড়ে ৫ শতাংশ জমি কেনেন আতিক। জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। ২০২১ সালে সাভারের অগ্রণী সোসাইটিতে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের আরেকটি প্লট কেনেন তিনি। এ জমিতে বর্তমানে তার আলিশান অফিস। মানিকগঞ্জ জেলায় তিনি অন্তত ২০ বিঘা জমি করেছেন। পৌরসভার ভাটপাড়া মহল্লার ফারুকুল ইসলাম জানান, আমার ১২ শতাংশ জমি ভুয়া মালিক সাজিয়ে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি করে আতিক জমি দখলে নেয়। বাধ্য হয়ে ঢাকা নিম্ন আদালতে আতিকের বিরুদ্ধে মামলা দিতে বাধ্য হয়েছি।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান বলেন, আগ্নেয়াস্ত্রের আবেদনে যেসব তথ্য দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক। এরপরও আমাকে লাইসেন্স দেওয়া হয়নি। চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি কুচক্রীমহল আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কোটি টাকা আয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি ঢাকা জেলা কমিটি খতিয়ে দেখবে। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগকে খুব শিগগিরই নির্দেশনা দেওয়া হবে। তথ্যপ্রমাণ ও গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
