শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে শতবর্ষী লাকসাম পাইলট উচ্চবিদ্যালয়
Advertisement
কুমিল্লা ব্যুরো
প্রকাশ: ২৯ জুন ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লাকসাম সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়। শিক্ষা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় এ বিদ্যাপীঠ আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে যুগের পর যুগ। প্রতি বছর এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেধাবী পরিচয়ে ছড়িয়ে পড়ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এসএসসির ফলাফলেও প্রতিবছর কুমিল্লার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মেধাবী তৈরির কারিগর হিসাবে পরিচিতি লাভ করে আসছে।
লাকসামের প্রাণকেন্দ্র জগ্ননাথ দিঘির পাড়ে অবস্থিত লাকসাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি। তার সামনে মাঠের দক্ষিণ পাসে রয়েছে জগ্ননাথ মন্দির। বিদ্যালয়টি এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে আলোকিত করছে দেশের শিক্ষাঙ্গন। ১৯২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কুমিল্লা জেলার বৃহত্তম এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসাবে সুপরিচিত।
বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠা ও বিকাশে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন তৎকালীন প্রধান শিক্ষক প্রয়াত বাবু গুরুনাথ মিত্র এবং প্রভাবশালী জমিদার পরিবার। বিশেষ করে জমিদার মাতা যশোধা রানী চৌধুরানী ও তার চার পুত্র-অতুল কৃষ্ণ রায় চৌধুরী, নবীন কৃষ্ণ রায় চৌধুরী, চন্দ্র কুমার রায় চৌধুরী এবং জিতেন্দ্র কৃষ্ণ রায় চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়ের ভিত্তি গড়ে ওঠে। প্রাথমিকভাবে এটি ‘অতুল হাইস্কুল’ নামে পরিচিত থাকলেও পরবর্তীতে ‘লাকসাম হাইস্কুল’ হয়ে বর্তমানে সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে রূপান্তরিত হয়।
শিক্ষার পাশাপাশি এখানকার সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়াচর্চা প্রশংসনীয়। এখান থেকেই উঠে এসেছেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক গোলকিপার বিপ্লব ভট্টাচার্য।
বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয় এবং শিক্ষার্থীরা জেএসসি ও এসএসসি-দুটি বোর্ড পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। পাঠ্যক্রম পরিচালিত হয় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) নির্দেশনা অনুযায়ী।
বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহাজাহান মোল্লা বলেন, শত বছরের সুনাম বিদ্যালয়টি এখনো ধরে রেখেছে, এখান থেকে পাশ করে মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন অনেকেই, আবার বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য পড়াশোনা করছে অনেক শিক্ষার্থী। এ বিদ্যালয়ে ছাত্ররা লাকসামের মুখ উজ্জ্বল করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটি ও শিক্ষকদের ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অক্ষুণ্ন রেখেছে।
