৭০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন সমাবেশ
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে রাজপথে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
Advertisement
মোহাম্মদপুর (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
মোহাম্মদপুর-আদাবর সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের বিশেষ শোভাযাত্রায় মঙ্গলবার যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদারসহ অন্যরা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও আদাবরের কিশোর গ্যাং, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে এলাকার অন্তত ৭০টি কিন্ডারগার্টেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার সামনে বিশেষ র্যালি করেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘মাদক নয়, স্বপ্ন চাই’, ‘যে মুখে মা ডাকি, সে মুখে মাদক নয়’, ‘গ্যাং নয়, গড়ব ন্যায়নির্ভর সমাজ’-এমন নানা প্ল্যাকার্ড হাতে শিক্ষার্থীরা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করে। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক, স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনীতিবিদরা উপস্থিত ছিলেন। মঙ্গলবার মোহাম্মদপুর শিয়া মসজিদের সামনে বিশেষ র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে মোহাম্মদপুর ও আদাবরের বিভিন্ন এলাকায় র্যালি করা হয়। মোহাম্মদপুর-আদাবর সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত র্যালিতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদপুরের প্রবীণ রাজনীতিবিদ বীর মুক্তিযোদ্ধা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. আবদুস সালাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে যুগান্তর সম্পাদক আব্দুল হাই শিকদার বলেন, মোহাম্মদপুর সম্পর্কে একটি খারাপ ধারণা রয়েছে। মোহাম্মদপুর মানেই সন্ত্রাস, খুন, মাদক। মোহাম্মদপুরে এত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকতে কেন এমনটা হয়। আজকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়েছো। এই শিক্ষার্থীরাই হাসিনার মতো ফ্যাসিস্টকে বিতাড়িত করেছে। সেই শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নামলে বাংলাদেশ পালটে যাবে। আমি মনে করি জুলাই আন্দোলনে আবু সাঈদ যে কারণে প্রাণ দিয়েছিল, মানবিক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়বিচারের বাংলাদেশ গড়ার জন্য। আমরা যদি দেশকে ভালোবাসি, দেশের ভালো চাই, তাহলে মাদককে ‘না’ বলতে হবে। সন্ত্রাসকে ‘না’ বলতে হবে। অন্যায়কে রুখতে হবে। ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠায় আমাদের শিক্ষার্থীরা যে ভূমিকা পালন করছে সেটি অবিস্মরণীয়। এমন ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ুক। মোহাম্মদপুরের প্রবীণ রাজনীতিবিদ আবদুস সালাম বলেন, আজকে এটা কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠান না।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আপনারা জানেন, মোহাম্মদপুরের আইনশৃঙ্খলার যে চরম অবনতি হয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। এভাবেই আমরা মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত এবং চাঁদাবাজমুক্ত মোহাম্মদপুর গড়ে তুলব। আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে বসবাসযোগ্য সমাজ গড়ে তুলব।
শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, মোহাম্মদপুর আদাবরের শিক্ষক সমাজ ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ মোহাম্মদপুর আদাবরের সব অন্যায় দূর হবে। ব্যতিক্রমী এমন আয়োজনের প্রধান সময়ন্বকারী আলফা স্টার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. কামরুল হাসান বলেন, মোহাম্মদপুর আদাবরের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও রাজনীতিবিদরা একসঙ্গে কাজ করলে সমাজ পরিবর্তন হতে বাধ্য। আরেক সামাজিক সংগঠন ‘চেতনায় বাংলাদেশ’-এর আদাবর থানার সভাপতি মনোয়ার হোসেন জীবন বলেন, আমাদের সমাজে কিশোর গ্যাং, মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূলে সবাই এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সচেতনতায় অভিভাবকদের বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে।
মানববন্ধন ও র্যালিতে মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধন শেষে র্যালিটি কেন্দ্রীয় কলেজ থেকে বের হয়ে তাজমহল রোড, নূরজাহান রোড, আসাদ অ্যাভিনিউ, টাউন হল ও শেরশাহ সূরী রোড ঘুরে কিশলয় উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
