বাস ভাড়া বৃদ্ধি
সরকার নির্ধারিত তালিকা যেন সড়কে কার্যকর হয়
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সারা দেশে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকার সারা দেশে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে। যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এবং দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ১১ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আন্তঃজেলার প্রতি কিলোমিটারেও বাড়ানো হবে ১১ পয়সা। প্রতি কিলোমিটারে ১১ পয়সা হারে এই বৃদ্ধি আপাতদৃষ্টিতে কম মনে হলেও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ব্যয়ের ওপর এর একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়বে। তবে এই সিদ্ধান্তের একটি ইতিবাচক দিক হলো-ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীতে সর্বনিম্ন ভাড়া (১০ ও ৮ টাকা) অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে এবং সিএনজিচালিত পরিবহণকে এই বৃদ্ধির আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। সরকারের এই ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান এবং পরিবহণ মালিকদের অযৌক্তিক দাবির কাছে নতি স্বীকার না করার বিষয়টি প্রশংসার দাবি রাখে।
তবে ভাড়ার এই সরকারি তালিকা ঘোষণা করা যতটা সহজ, মাঠপর্যায়ে তার বাস্তবায়ন ততটাই চ্যালেঞ্জিং। অভিজ্ঞতা বলে, স্বচ্ছ নজরদারি ও জবাবদিহির অভাবে যাত্রীরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হয়েছেন। যখনই জ্বালানির দাম সামান্য বাড়ে, পরিবহণ শ্রমিক ও মালিকদের একটি অংশ কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বা সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে বহুগুণ বেশি ভাড়া আদায় শুরু করে। এবার যেন সেই পুরোনো নৈরাজ্য ফিরে না আসে, সেদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তীক্ষ্ণ নজর রাখতে হবে। সরকার নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রতিটি বাসের দৃশ্যমান স্থানে বাধ্যতামূলকভাবে টাঙিয়ে রাখার পাশাপাশি বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালতকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই বাড়তি ভাড়া আদায় না করা হয়। ভুক্তভোগী যাত্রীরা যাতে দ্রুত অভিযোগ জানাতে পারেন, সেজন্য একটি কার্যকর হটলাইন ব্যবস্থা জোরদার করাও প্রয়োজন।
এছাড়া সিএনজিচালিত বাসের তদারকিতেও গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। ভুলে গেলে চলবে না, জ্বালানির দাম বেড়েছে কেবল ডিজেল ও পেট্রোলের। কিন্তু অভিজ্ঞতা বলে, সিএনজিচালিত বাসের চালকরাও অনেক সময় তেলের দাম বাড়ার অজুহাতে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া দাবি করেন। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এটি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, সিএনজিচালিত বাসের ক্ষেত্রে বর্ধিত ভাড়া প্রযোজ্য নয়। এই নির্দেশের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মালিক ও শ্রমিকদের দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়াও জরুরি। বলা বাহুল্য, জ্বালানি সংকট একটি বৈশ্বিক সমস্যা। এই কঠিন সময়ে পরিবহণ মালিক ও শ্রমিকদের উচিত ব্যবসায়িক মুনাফার চেয়ে মানবিকতাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া। সংকটের দায়ভার কেবল সাধারণ যাত্রীদের ওপর চাপিয়ে না দিয়ে সহনশীলতার পরিচয় দিলে সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
সরকার জনগণকে আশ্বস্ত করেছে যে, জ্বালানির দাম কমলে ভাড়ার হার পুনরায় সমন্বয় করা হবে। এটি একটি ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি। তবে বর্তমানে যে বর্ধিত হার কার্যকর হয়েছে, তা যেন সড়কে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা বাদানুবাদের কারণ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। পরিবহণ খাত একটি দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি; এখানে যাত্রী, মালিক ও সরকার-এই তিন পক্ষের মধ্যে একটি আস্থার সম্পর্ক গড়ে তোলাই প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত। কঠোর আইনের চেয়েও যদি পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিয়ম মানার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, তবেই এমন সংকটে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিমুক্ত থাকতে পারে।
