হার্ডলাইনে বিএনপি
শৃঙ্খলা ফেরাতে কঠোরতার বিকল্প নেই
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অনাকাঙ্ক্ষিত হামলা, ভাঙচুর ও অবৈধ দখলের চেষ্টার ঘটনা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে দরিদ্র ও প্রান্তিক মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসা একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। লুণ্ঠিত চিকিৎসাসামগ্রী এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামোর খবর কেবল জনমনে ভীতির সঞ্চার করেনি, প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছিল। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ায় শাসক দল কেবল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে থানায় আইনি ব্যবস্থার পথ উন্মুক্ত করেনি, বরং দলীয় শীর্ষ পর্যায় থেকেও দ্রুত ও নজিরবিহীন সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাণ্ডবের নেপথ্যে নাম উঠে আসায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও বহিষ্কারের পাশাপাশি বিএনপির সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ-সদস্যকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয়কে অগ্রাধিকার না দিয়ে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ও সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিতভাবেই একটি কঠোর বার্তা বহন করছে।
ক্ষমতাসীন দলের কোনো সংসদ-সদস্য বা প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে অতীতে প্রায়ই ঢাল হয়ে দাঁড়াত দলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যে রাজনৈতিক সদিচ্ছার স্বাক্ষর দেখা যাচ্ছে, তা রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেয়। রাষ্ট্র বা দলীয় ভাবমূর্তি রক্ষার জন্য এ ধরনের আপসহীন অবস্থান নিঃসন্দেহে সাধুবাদযোগ্য। যে কোনো গণতান্ত্রিক সরকার বা রাজনৈতিক দলের মূল শক্তি হলো জনগণের আস্থা ও আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার সক্ষমতা। রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল বানিয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি এবং প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের অসাধু প্রবণতা দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে। সেদিক থেকে বিবেচনা করলে শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশে একজন সংসদ-সদস্যের দ্রুত পদত্যাগ নিশ্চিত করা এবং কমিটি বিলুপ্তির সিদ্ধান্ত দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।
তবে এই কঠোর বার্তা কেবল ঢাকা মহানগরীর নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে মূল সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। মাঠপর্যায়ে শৃঙ্খলার যে ঘাটতি দৃশ্যমান, তা দূর করতে হলে দেশব্যাপী দলীয় সব ইউনিটে এমন কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে। কোনো নেতা বা জনপ্রতিনিধি যাতে নিজস্ব বলয় তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিজের হাতে তুলে নিতে না পারেন, সে বিষয়ে কেন্দ্রকে সদা সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কিংবা ভবিষ্যতের যে কোনো রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার আগে তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্গঠনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।
ভুলে গেলে চলবে না, আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে জনসেবার অঙ্গীকার কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে। অপরাধী যে-ই হোক না কেন, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে আইনি প্রক্রিয়াকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে। কেবল দলীয় বহিষ্কার বা পদত্যাগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে অভিযুক্তদের নিরপেক্ষ বিচারের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে সরকার আন্তরিকতার পরিচয় দেবে, এটাই প্রত্যাশা।
