মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বৃদ্ধি
চাই সময়োপযোগী ও কার্যকর পদক্ষেপ
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মূল্যস্ফীতির ক্রমবর্ধমান চাপ ও সার্বিক অর্থনীতির চলমান মন্দাবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন ত্রৈমাসিক যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, তা মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। মুদ্রানীতিতে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাব্য প্রভাব এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে আমদানিতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি-এসব কারণে আগামী দিনে পণ্য ও সেবার মূল্যবৃদ্ধির ঝুঁকি প্রবল হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
আশার কথা, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ-দুই দিক থেকেই মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির জন্য মূল্যস্ফীতি যখন দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত উভয় খাতকে গ্রাস করে, তখন কেবল সুদের হার স্থির রেখে নীতিগত সতর্কতা অবলম্বন করাই যথেষ্ট কি না, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে।
ভুলে গেলে চলবে না, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো সহনীয় পর্যায়ে আসেনি। তদুপরি, অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসাবে বিবেচিত শিল্প উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ এবং বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি এখনো আশানুরূপ গতি পায়নি। একদিকে উৎপাদন খাতের স্থবিরতা এবং অন্যদিকে অব্যাহত মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি-এই দ্বিমুখী সংকটে কেবল নীতি সুদহার সাড়ে ৯ শতাংশে ধরে রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কতটুকু সুফল পাবে, তা আলোচনার দাবি রাখে।
অবশ্য বন্ধ শিল্পকারখানা চালু এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে সুদের হার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মুদ্রা সরবরাহ সীমিত করার প্রচেষ্টা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য যে এক বিরাট চ্যালেঞ্জ, তা বলাই বাহুল্য।
এমতাবস্থায় দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃদ্ধির চাকা সচল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে কেবল সতর্কতা অবলম্বনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আমদানি ব্যয়ের লাগাম টানতে বিকল্প উৎস অনুসন্ধান এবং দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদারে গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও কর্মসংস্থানমুখী উৎপাদনশীল শিল্পে ঋণের প্রটোকলও সহজ করা দরকার, যাতে মুদ্রাস্ফীতি না বাড়িয়েও সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা যায়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনে যেভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, মূলধন বৃদ্ধি ও ঋণশৃঙ্খলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়নে সরকার পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা।
