Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

নতুন মুদ্রানীতিতে উদ্বেগ

মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির ঝুঁকি

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার আরও বাড়ার ঝুঁকি দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর জন্য তিনটি কারণ শনাক্ত করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়ন এবং পণ্য আমদানিতে নানা বৈশ্বিক প্রতিবন্ধকতা। এসব কারণে দেশের ভেতরে বিভিন্ন পণ্য ও সেবার দাম বাড়তে পারে। যা আগামীতে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। তবে এই ঝুঁকি কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। এ লক্ষ্যে নীতিসুদের হার আর কমানো হচ্ছে না। তবে উৎপাদন খাত ও বন্ধ শিল্প-কারখানাগুলো চালু করতে ঋণের জোগান বাড়ানো হবে।

বুধবার ঘোষিত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন মুদ্রানীতিতে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন। এ সময় ডেপুটি গভর্নর সারোয়ার হোসেন ও আনিছুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রথমবারের মতো ত্রৈমাসিকভিত্তিতে মুদ্রানীতি ঘোষণা করল। আগে অর্ধবার্ষিক ভিত্তিতে ঘোষণা করা হতো। অক্টোবর-ডিসেম্বর মেয়াদের এই মুদ্রানীতিতে মূল্যস্ফীতির সম্ভাব্য ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। দেশের সার্বিক অর্থনীতির সঙ্গে মুদ্রানীতিকে আরও কার্যকর করার জন্য এখন থেকে ত্রৈমাসিকভিত্তিতে মুদ্রানীতি ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়-মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও অন্তর্নিহিত নানা ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন ও পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে নানা বাধার কারণে আগামীতে মূল্যস্ফীতির হারের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে। ইরানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য আমদানি বাধার মুখে পড়ায় এ ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ দুই দিক থেকেই মূল্যস্ফীতিতে চাপ বাড়ছে। এই চাপ রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। এর অংশ হিসাবে নীতিসুদের (পলিসি রেট) সাড়ে ৯ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। গত আগস্টের শুরু থেকে নীতিসুদের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এছাড়াও সুদের হার কমাতে আরও কিছু পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর প্রভাবে ব্যাংক ঋণের সুদের হার কমতে শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের সুদের হার নিম্নমুখী করার প্রবণতা থেকে সরে এসেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে নেমে এসেছে। যা গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। কিন্তু খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে রয়েছে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে-মূল্যস্ফীতির হার দীর্ঘমেয়াদে নিয়ন্ত্রণে আসার এখনো যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি।

মুদ্রানীতিতে বলা হয়, দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড এখনো চাপের মধ্যে রয়েছে। প্রবৃদ্ধির হার এখনো পুনরুদ্ধার হয়নি। শিল্প উৎপাদনে এখনো আগের গতি ফেরেনি। শিল্প উৎপাদন, জ্বালানি সরবরাহ এবং বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির মতো সূচকগুলো এখনো যথেষ্ট সক্রিয় হয়নি। এ কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি মন্থর। তবে নতুন অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে এসব খাতে কিছুটা পুনরুদ্ধারের লক্ষণ দেখা গেছে। তারপরও ঋণের উচ্চ সুদ, জ্বালানির সংকট, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও দেশি-বিদেশি চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তা প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী করতে হলে ব্যাংক পুনর্গঠন করতে হবে। ব্যাংকে সুশাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি মূলধন বাড়ানো ও ঋণশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সে লক্ষ্য নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

নতুন মুদ্রানীতিতে উদ্বেগ মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির ঝুঁকি

মূল্যস্ফীতি আরও বৃদ্ধির ঝুঁকি

নিঃসঙ্গ প্রবীণদের ভার নেবে কে

নিঃসঙ্গ প্রবীণদের ভার নেবে কে

জাতিসংঘের পর আনতালিয়া থেকে জলবায়ু লড়াই কপ-৩১ সম্মেলনে তারেক রহমানকে চায় তুরস্ক

কপ-৩১ সম্মেলনে তারেক রহমানকে চায় তুরস্ক

বরিশাল সিটি নির্বাচন প্রচারণার মাঠে জামায়াত মনোনয়ন দ্বন্দ্বে বিএনপি

প্রচারণার মাঠে জামায়াত মনোনয়ন দ্বন্দ্বে বিএনপি

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম