রেল খাতের দুর্নীতি
টেকসই সংস্কারের বিকল্প নেই
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কাগজে-কলমে ১৪০ কিলোমিটার গতির উচ্চাশা দেখিয়ে কেনা রেলের হাজার হাজার কোটি টাকার আধুনিক ইঞ্জিন ও যাত্রীবাহী কোচ এখন ৫০ থেকে ৬৭ কিলোমিটারের বেশি চলতে পারছে না। কোনো কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেকশনে এই গতি নেমে আসছে আশঙ্কাজনকভাবে ৫ থেকে ১০ কিলোমিটারে। শনিবার যুগান্তরের খবরে আরও জানা যায়, বিগত আমলে রোলিংস্টক বা ইঞ্জিন-কোচ কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির সিন্ডিকেট এবং সড়ক পরিবহণ খাতের প্রভাবশালী লবির চক্রান্তের কারণে গণপরিবহণের সবচেয়ে সাশ্রয়ী এ খাতটি আজ মারাত্মক সংকটে পড়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হলেও শুধু সচল ইঞ্জিন ও কোচের তীব্র অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অন্তত ৭৭টি ট্রেন। মাঝপথে চলন্ত ট্রেন বিকল হয়ে প্রতিদিন চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জানা যায়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সাড়ম্বরে কেনা ৭০টি নতুন ইঞ্জিনের মধ্যে ৩২টি ইতোমধ্যেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। আবার সচল থাকা ইঞ্জিনগুলোর বেশিরভাগই প্রয়োজনীয় চারটির বদলে দুটি ট্রাকশন মোটর নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা ও লাইনচ্যুতির ঘটনা। চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন, প্রাক-জাহাজীকরণ পরিদর্শন ছাড়া নিম্নমানের যন্ত্রাংশ গ্রহণ এবং কোটি কোটি টাকার ঘুস লেনদেনের যে চিত্র দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে, তা উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা অপচয় করে একশ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও পরিবহণ সিন্ডিকেটের এই অপতৎপরতা রেলকে কঙ্কালসার অবস্থায় দাঁড় করিয়েছে। কমলাপুর স্টেশনের বর্তমান পরিকাঠামো দিয়েই অন্তত ৩০০টি ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হলেও স্রেফ ইঞ্জিনের অভাবে তা থমকে আছে।
এই অচলাবস্থা নিরসনে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ এবং নতুন ইঞ্জিন ক্রয়ের পরিকল্পনা অবশ্যই আশাব্যঞ্জক। তবে নতুন ইঞ্জিন-কোচ কেনাই সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ নয়; বরং সর্বাগ্রে রেলের দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কাঠামোর আমূল সংস্কার জরুরি। অতীতে কেনাকাটায় যারা অনিয়ম করেছেন, তাদের কঠোর আইনি শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে, যেন ভবিষ্যতে কেউ জাতীয় সম্পদের এমন অপচয় করার সাহস না পায়। একইসঙ্গে শক্তিশালী সড়ক পরিবহণ লবির অবৈধ প্রভাব কাটাতে রেলকে একটি স্বাধীন ও লাভজনক গণপরিবহণ হিসাবে গড়ে তোলার সুস্পষ্ট রূপরেখা বাস্তবায়ন করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদ ও গতিশীল রেলসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে-এটাই প্রত্যাশা।
