Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে আপস নয়

Advertisement

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল

Advertisement

২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে গতকাল। ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে সার্বিক পাশের হার দাঁড়িয়েছে ৫২.১২ শতাংশে এবং মোট ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এই সাফল্য আগামী দিনের উচ্চশিক্ষা ও আলোকিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের পথপ্রদর্শক হোক, এটাই কামনা। জীবনের এই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করার পর দেশ গড়ার প্রত্যয়ে সবাই সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, শিক্ষার্থীদের প্রতি এটাই প্রত্যাশা।

এবারের ফলাফল পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, পাশের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে গত ২২ বছরের মধ্যে দেশের সার্বিক পাশের হার এবার সর্বনিম্ন এবং কিছু নির্দিষ্ট আঞ্চলিক বোর্ডে গত দেড় দশকের মধ্যে পাশের হার সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। উপরন্তু, ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস এবং অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৫ লাখ ৯৪ হাজারেরও বেশি। তবে এই পরিসংখ্যানকে কেবল ব্যর্থতা হিসাবে না দেখে শিক্ষার প্রকৃত মান পুনর্মূল্যায়নের একটি সুযোগ হিসাবে গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি আমরা। খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনা এবং কঠোর তদারকি করার ফলে যদি প্রকৃত চিত্র ফুটে উঠে থাকে, তবে তা দীর্ঘমেয়াদে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা চিহ্নিত করতে নিশ্চয়ই সাহায্য করবে।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে পাশ করা শিক্ষার্থীদের পড়ার সুযোগ নিয়ে অবশ্য চিন্তার কোনো কারণ নেই, কেননা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো মিলিয়ে মোট আসনসংখ্যা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি। শনিবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দেওয়া ঘোষণা অনুযায়ী উত্তীর্ণ প্রত্যেক শিক্ষার্থীই এবার উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে, যা অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। তবে শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত পাশের হার কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করা।

শূন্য পাশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্ধ না করে কাছাকাছি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একীভূত করার যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা প্রশংসনীয়। একইসঙ্গে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের হতাশ না করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া এবং পুনর্নিরীক্ষণের ব্যবস্থা রাখা শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে দৃঢ় রাখবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, পাশের হারের কৃত্রিম বৃদ্ধি কখনোই শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করে না। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ এবং মফস্বলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিকাঠামো জোরদার করা এখন সময়ের দাবি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বোর্ড কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষক-অভিভাবকদের যৌথ উদ্যোগে ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিলে আগামী দিনে শিক্ষার্থীরা যেমন যোগ্য হয়ে উঠবে, তেমনি শিক্ষাব্যবস্থা একটি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে তরুণ প্রজন্ম দেশকে মেধা ও মননে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবে-এটাই প্রত্যাশা। সফলভাবে উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থীকে যুগান্তরের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল

রেল খাতের দুর্নীতি

রেল খাতের দুর্নীতি

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ফের ত্রুটি

প্রধানমন্ত্রীর বিমানে ফের ত্রুটি

মাদকের অবাধ কারবার

মাদকের অবাধ কারবার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম