সারের জন্য হাহাকার
অযৌক্তিক সংকট নিরসন কাম্য
Advertisement
প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
উত্তর-পশ্চিমের শস্যভান্ডার হিসাবে খ্যাত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বর্তমানে তীব্র সার সংকট দেখা দিয়েছে। রোববার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ, আম ও মাষকলাইয়ের শীর্ষ উৎপাদনকারী এই জেলায় এক বস্তা সারের জন্য ডিলার পয়েন্টগুলোতে হাজার হাজার কৃষককে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। চার দিন ঘুরেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বহু কৃষককে। অথচ জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সারের কোনো সংকট নেই বলে দাবি করা হচ্ছে। বলা বাহুল্য, এ চিত্র কৃষি উৎপাদনে বড় বাধাই শুধু নয়, বরং মেহনতি কৃষকদের চরম দুর্ভোগের এক অনাকাঙ্ক্ষিত চিত্রও বটে। ফলন বহুমুখীকরণের ফলে অঞ্চলটিতে যেখানে সারের চাহিদা বহুগুণ বেড়েছে, সেখানে বরাদ্দ কমে যাওয়ার কারণে কৃষকদের এমন দিশেহারা অবস্থা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, গত এক দশকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সারের ঘাটতি ছিল ২৫ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত। দেখা যাচ্ছে, ডিলার পয়েন্টে সার না মিললেও চরের মুদি দোকান বা স্থানীয় বাজারে চড়া দামে অর্থাৎ দ্বিগুণ মূল্যে কালোবাজারে সার বিক্রির রমরমা বাণিজ্য চলছে। অথচ সংশ্লিষ্ট বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর নেই। শিবগঞ্জ, গোমস্তাপুর ও নাচোলসহ বিভিন্ন এলাকায় কৃষকদের লাইনে দাঁড়িয়েও সার না পেয়ে হাহাকার করা কিংবা ডিলারের দোকানে হামলার ঘটনা প্রমাণ করে, পরিস্থিতি কতটা গুরুতর। আমরা মনে করি, সারের এই কৃত্রিম সংকট এবং ডিলার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে না পারলে সরিষা, আলু ও ডাল জাতীয় ফসলের আবাদ মার খাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এই সংকট নিরসনে অবিলম্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জে সারের বরাদ্দ যৌক্তিকভাবে বাড়াতে হবে এবং বিগত বছরের ঘাটতি পূরণে বিশেষ পদক্ষেপ নিতে হবে। জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির নজরদারি জোরালো করার পাশাপাশি কালোবাজারে সার সরবরাহকারীদের কঠোর আইনের আওতায় আনতে হবে। কৃষি কর্মকর্তাদের যোগসাজশ বা সিন্ডিকেটের যে কোনো অভিযোগ খতিয়ে দেখে স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের হাতে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করাও জরুরি। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সব বিসিআইসি ও বিএডিসির অনুমোদিত ডিলারদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করতে হবে, যাতে কোনো অসাধু চক্র সাধারণ কৃষকদের জিম্মি করে ফায়দা লুটতে না পারে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষকদের অন্নদাতা হিসাবে বাঁচিয়ে রাখতে দ্রুত কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে-এটাই প্রত্যাশা।
