আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য
নাশকতাকারীদের কোনো ছাড় নয়
Advertisement
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
তৈরি পোশাক খাতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের সুযোগ নিয়ে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে যারা, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এ অস্থিরতার প্রভাব পড়ছে শিল্প খাতে। সোমবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও রাজধানীর মিরপুরের মতো জনবহুল এলাকায় শ্রমিক বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষের ফলে সাত শতাধিক পোশাক কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ না করেই বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন এবং একরকম থমকে গেছে দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি এই রপ্তানি খাত। উদ্বেগের বিষয়, সাধারণ শ্রমিকদের ন্যায়সংগত অধিকার আদায়ের আন্দোলনের আড়ালে একটি কুচক্রী মহল ও রাজনৈতিক অপশক্তির দোসররা পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা ও নাশকতা সৃষ্টি করছে বলে বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
গোয়েন্দা তথ্যে আরও জানা যায়, শিল্পাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কে আগুন জ্বালানো, গাড়ি ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার নেপথ্যে রয়েছে সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্র। দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে বহির্বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করাই এই অপশক্তির মূল উদ্দেশ্য। অথচ সরকার ইতোমধ্যে শ্রমিকদের দাবি আমলে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে যৌক্তিক মজুরি নির্ধারণের কাজ শুরু করেছে। মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম যখন চলমান, তখন আন্দোলনের নামে অযৌক্তিক ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে এবং বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এই সংকট নিরসনে মালিক ও শ্রমিক উভয় পক্ষের মধ্যে আস্থার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে বলে মনে করি আমরা। শ্রমিকদের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে, কোনো স্বার্থান্বেষী মহলের প্ররোচনায় বিভ্রান্ত না হয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যান এবং নিয়মতান্ত্রিক আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের পথ বেছে নিন। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যেন কোনো নিরপরাধ শ্রমিক অহেতুক হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে নাশকতাকারীদের কঠোর আইনের আওতায় এনে শিল্পাঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দেশের স্বার্থে এবং অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন, এটাই প্রত্যাশা।
