বেবিচকের সক্ষমতা
প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিকল্প নেই
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
একটি দেশের বিমানবন্দর যে শুধু আন্তর্জাতিক যাতায়াতের প্রবেশদ্বার, তাই নয়; এটি বহির্বিশ্বে সেই জাতির মর্যাদা, সক্ষমতা ও নিরাপত্তার প্রথম প্রতিচ্ছবিও বটে। পরিতাপের বিষয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মতো স্পর্শকাতর স্থানে এর ব্যত্যয় পরিলক্ষিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) নিজস্ব জনবল গড়ে তোলার কথা থাকলেও দীর্ঘ নয় বছর পরও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে ওঠেনি। বরং অতিমাত্রায় প্রেষণনির্ভর হওয়ার কারণে বেবিচকের নিজস্ব কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সংকুচিত হচ্ছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এভসেকের নিজস্ব দক্ষ জনবল তৈরির প্রক্রিয়াও, যা উদ্বেগের বিষয়। উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রধান শর্তই হলো একটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জনবলকে যোগ্য, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলা।
বিমানবন্দরগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা রক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীর অবদান ও সাহচর্য নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ। তবে সেই সহযোগিতা যদি স্থায়ী প্রশাসনিক নির্ভরশীলতায় রূপ নেয়, তবে তা বেসামরিক একটি সংস্থার অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের বিকাশকে ব্যাহত করে। বেবিচকের নিজস্ব সনদপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে উচ্চতর দায়িত্ব ও পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থাকলে তা যে শুধু তাদের ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, তাই নয়, বরং পুরো ব্যবস্থার প্রতি হতাশাও তৈরি করবে। পদোন্নতির সীমাবদ্ধতার কারণে যদি নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশিক্ষিত কেউ চাকরি ছেড়ে চলে যায়, তাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয়ও ঘটে।
আশার কথা, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে এ বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এ অচলাবস্থা নিরসনে এক অনন্য সুযোগ এনে দিয়েছে। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকে টেকসই করতে হলে কোনো বাহিনীকে হুট করে সরিয়ে দেওয়াটাও সঠিক কাজ নয়। আমরা মনে করি, একটি বাস্তবসম্মত রূপরেখার মাধ্যমে বেবিচকের নিজস্ব জনবলের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের প্রস্তুত করার মেন্টরিং ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। কর্মীদের পদোন্নতি, কাজের নিরাপদ পরিবেশ এবং ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করে তাদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়াও জরুরি। দেশের আকাশপথের দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সহায়ক শক্তির পাশাপাশি বেবিচকের নিজস্ব এভসেককে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ, আত্মমর্যাদাশীল ও জবাবদিহিমূলক বেসামরিক কাঠামো হিসাবে গড়ে তোলা হবে, এটাই প্রত্যাশা।
