Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

রিপাবলিকানদের ভরাডুবি

ট্রাম্পের জন্য বড় সতর্কবার্তা

Icon

প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টির শোচনীয় পরাজয় দেশটির রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট-কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো শুধু ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনি বিপর্যয় নয়, এটি ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি, রাজনৈতিক অগ্রাধিকার এবং শাসনপদ্ধতির প্রতি মার্কিন ভোটারদের অনাস্থারও বহিঃপ্রকাশ।

মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জন্য কঠিন পরীক্ষা। প্রেসিডেন্টের জনপ্রিয়তা, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন এ নির্বাচনে প্রতিফলিত হয়। তবে এবারের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ব্যাপ্তি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত টেক্সাস, কানসাস ও সাউথ ক্যারোলাইনার মতো অঙ্গরাজ্যেও ডেমোক্র্যাটদের জয় দলটির রাজনৈতিক ভিতের দুর্বলতা প্রকাশ করেছে। সিনেটে ৫৪টি আসন এবং প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের মধ্য দিয়ে ডেমোক্র্যাটরা শুধু নির্বাচনি সাফল্যই পায়নি, ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুযোগও পেয়েছে।

রিপাবলিকানদের এই বিপর্যয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে অর্থনৈতিক অসন্তোষ। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে কঠিন করে তুলেছে। প্রায় ৮০ শতাংশ ভোটার মূল্যস্ফীতির কারণে পারিবারিক আর্থিক চাপে থাকার কথা জানিয়েছেন। এ তথ্য ক্ষমতাসীনদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট-জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা পররাষ্ট্রনীতির সাফল্যের প্রচারণা দিয়ে মানুষের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক দুর্ভোগ আড়াল করা যায় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিণতি। ইসরাইলের পক্ষে ঘনিষ্ঠ অবস্থান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং তেলের দাম বৃদ্ধির অভিঘাত শুধু যুক্তরাষ্ট্রে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের ব্যয়, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতা ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়িয়েছে।

নির্বাচনে মুসলিম ও সংখ্যালঘু প্রার্থীদের সাফল্য উল্লেখযোগ্য। প্রথম মুসলিম হিসাবে সিনেটে আবদুল আল-সায়েদের বিজয় এবং রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমরের পুনর্নির্বাচন মার্কিন রাজনীতিতে বহুত্ববাদী প্রতিনিধিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেছে। এটি প্রমাণ করে, ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের বাইরে গিয়ে ভোটাররা যোগ্যতা, অবস্থান ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তবে ডেমোক্র্যাটদের এই বিজয়কে নিছক ক্ষমতা পরিবর্তনের সুযোগ হিসাবে দেখলে চলবে না। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলে তাদেরও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, কর্মসংস্থান, শ্রমিক অধিকার ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করাই এখন দলটির প্রধান পরীক্ষা। অন্যদিকে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে এখন অনেক বেশি জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। বাজেট, আইন প্রণয়ন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে বিরোধী দলের নজরদারি বাড়বে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষার জন্য ইতিবাচক হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই নির্বাচন বিশ্ববাসীকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছে-যুদ্ধ, আধিপত্যবাদী মনোভাব কিংবা ক্ষমতার দম্ভ দিয়ে জনগণের সমর্থন ধরে রাখা যায় না। জনগণের জীবনমান, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও শান্তির আকাঙ্ক্ষাই শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। ট্রাম্পের জন্য এটি নিঃসন্দেহে সতর্কবার্তা; আর ডেমোক্র্যাটদের জন্য এটি জনগণের আস্থা অর্জনের এক বড় সুযোগ।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

রিপাবলিকানদের ভরাডুবি

রিপাবলিকানদের ভরাডুবি

বেবিচকের সক্ষমতা

বেবিচকের সক্ষমতা

পোশাক খাতে অস্থিরতা

পোশাক খাতে অস্থিরতা

জনমিতিক সুবিধা ও কর্মসংস্থান

জনমিতিক সুবিধা ও কর্মসংস্থান

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম