Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

অ্যালুমিনিয়াম পাতিলে সিসাঝুঁকি

কী খাচ্ছি আমরা?

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অ্যালুমিনিয়াম পাতিলে সিসাঝুঁকি

Advertisement

আইসিডিডিআর,বি ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের প্রধান খাদ্য ভাত নিয়ে যে গবেষণা করেছে, এর ফলাফল উদ্বেগজনক। গবেষণায় রান্নার জন্য স্থানীয়ভাবে তৈরি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি-পাতিলের খাবারে সিসার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষণায় যেসব পাত্র ব্যবহার করা হয়েছে, প্রতিটি থেকেই খাবারে সিসা নির্গত হয়েছে। নতুন পাত্রে প্রথমবার রান্নার সময় প্রতি কেজি সাদা ভাতে সর্বাচ্চ ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম সিসা পাওয়া গেছে। খিচুড়ির ক্ষেত্রে সিসার পরিমাণ অনেক বেশি। খাবারে সিসার এ মাত্রা সবাইকে ভাবিয়ে তুলেছে। বিশেষত শিশুদের ক্ষেত্রে সিসা এক বিপজ্জনক পদার্থ। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন শিশুদের খাবারে সিসার মাত্রাগত সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে প্রতি কেজিতে সিসার পরিমাণ ১০ মাইক্রোগ্রাম। কিন্তু গবেষকরা খুঁজে পেয়েছেন, গ্রামাঞ্চলের শিশুরা প্রতিদিন যে ভাত খায়, তাতে একজন শিশু প্রতিদিন ১০ মাইক্রোগ্রামের ৫ গুণ বেশি সিসা গ্রহণ করে থাকে। বলা বাহুল্য, গ্রামাঞ্চলের শিশুরা শহরাঞ্চলের শিশুদের চেয়ে বেশি ভাত খেয়ে থাকে। অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র বেশিদিন ধরে ব্যবহার করা হলে সিসার মাত্রা কমে আসে বটে, তবে তা নিরাপদ মাত্রার নিচে নামে না। খাবারের পাত্র থেকে কী পরিমাণ সিসা খাবারে প্রবেশ করে, সেটা নির্ভর করে পাত্রটি কীভাবে ধোয়া হয়েছে, তার ওপর।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সিসা একটি বিষাক্ত ধাতু। শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ সিসা ভক্ষণে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মধ্যে পড়ে। ফলে খাবারে সিসার উপস্থিতির বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে হবে। গ্রামীণ গৃহকর্ত্রীরা সাধারণভাবে চিকিৎসাবিজ্ঞান সম্পর্কে অবহিত নন। অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র থেকে যে সিসা নির্গত হয়, এ তথ্যটি তাদের জানার কথা নয়। অথবা সিসা যে শিশুদের মস্তিষ্কে বিরূপ প্রতিক্রিয়া করে, এটাও তারা জানে না। শহুরে গৃহকর্ত্রীরাই বা কতটা জানে? ফলে ঝুঁকি কমাতে রান্নার পাত্রের ব্যাপারে তাদের সচেতন করে তোলার কোনো বিকল্প নেই। নতুন কিংবা দেখতে চকচকে হলেও যে সেটা নিরাপদ পাত্র, তা নয়। আবার স্থানীয়ভাবে তৈরি অনেক অ্যালুমিনিয়ামের পাত্র পুরোনো স্ক্র্যাপ ধাতু গলিয়ে তৈরি করা হয়। এ ধাতু ঠিকভাবে পরীক্ষা না করলে তৈরিকৃত পাত্রটিতে সিসা থেকে যেতে পারে। ভাতে মিশে যাওয়া সিসা দেখা যায় না, এর কোনো গন্ধ বা স্বাদও নেই। ফলে বোঝাও যায় না শিশুদের কী খাওয়ানো হচ্ছে। সবটা মিলিয়ে খাদ্যে সিসার মিশ্রণ রোধে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন হতে হবে। নিতে হবে কার্যকর ব্যবস্থা।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

অ্যালুমিনিয়াম পাতিলে সিসাঝুঁকি

অ্যালুমিনিয়াম পাতিলে সিসাঝুঁকি

রিপাবলিকানদের ভরাডুবি

রিপাবলিকানদের ভরাডুবি

বেবিচকের সক্ষমতা

বেবিচকের সক্ষমতা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম