ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর
জাতীয় ঐক্যের অনন্য প্রতীক
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশের জাতীয় ও রাজনৈতিক ইতিহাসে ৭ নভেম্বর এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। এদিন সিপাহি-জনতার অভূতপূর্ব ঐক্যের মধ্য দিয়ে দেশ এক ক্রান্তিকাল থেকে মুক্ত হয়েছিল। বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার ঘোর কাটিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। এক সংকটাক্রান্ত মুহূর্তে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসাবে তার আবির্ভাব ঘটেছিল। সিপাহি ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ সেদিন স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাকে যেভাবে গ্রহণ করেছিল, তা আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে এক অনন্য নজির হিসাবে গণ্য হয়।
দেশের অভ্যন্তরে বিদেশি আধিপত্য কায়েম করার নানা ষড়যন্ত্র তখন দানা বেঁধেছিল। ক্ষমতার শূন্যতা দেশকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে সাধারণ সিপাহি ও দেশের মুক্তিকামী জনতা রাজপথে নেমে এসে আধিপত্যবাদী চক্রান্তের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন এক শক্তির উদয় ঘটে, যা জাতীয় রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলেছে।
একজন রাষ্ট্রনায়কের আসল পরিচয় প্রকাশ পায় সংকটকালে তার প্রজ্ঞার সিদ্ধান্তে। জাতীয় জীবনের গভীর অনিশ্চয়তার মুহূর্তে জিয়াউর রহমান বীরত্ব, সংযম ও দূরদর্শিতা দিয়ে দেশকে এক চরম বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন। তিনি ক্ষমতা বা ব্যক্তিগত খ্যাতির মোহে আবদ্ধ না থেকে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত দূর করার ওপর প্রথম আলোকপাত করেছিলেন। স্বাধীন বাংলাদেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা পুনঃপ্রবর্তন এবং উৎপাদনে গতি এনে অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে তিনি এ দেশের সাধারণ মানুষের সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেন। তার প্রচারিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল শক্তি ছিল ভূখণ্ড, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের এক নিখুঁত মেলবন্ধন। বলা বাহুল্য, সব জাতি-ধর্ম-বর্ণের মানুষকে একই পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ করার এই চিন্তা আজও সমাজ বিনির্মাণে প্রাসঙ্গিক।
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরের মূল বাণী হলো জাতীয় ঐক্য ও আত্মমর্যাদাবোধ। শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং এ দিনটি উদযাপনের প্রকৃত অর্থ হলো, তার সেই মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও ঐক্যবদ্ধের দর্শনকে বর্তমান প্রেক্ষিতে ধারণ করা। দেশ গড়ার প্রশ্নে পারস্পরিক আস্থা ও মানবিক মূল্যবোধই হতে পারে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের একমাত্র ভিত্তি। আজ যখন আমরা একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি, তখন ৭ নভেম্বরের সেই সংহতির চেতনা এবং জিয়াউর রহমানের সাহসী নেতৃত্বের শিক্ষা আরও বেশি গুরুত্ব দাবি করে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকা স্বাভাবিক; কিন্তু রাষ্ট্রের মৌলিক মূল্যবোধ ও মানবিক অগ্রযাত্রার প্রশ্নে দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসাবে সবাইকে একসূত্রে গাঁথা পড়তে হবে। ইতিহাস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, নেতৃত্বের সততা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে যে কোনো সংকটের ঘূর্ণাবর্ত থেকে জাতিকে আলোর ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
