আলুর চাষ ও বাজার, কৃষকের স্বার্থ উপেক্ষিত কেন?
সম্পাদকীয়
প্রকাশ: ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আলু আমাদের দ্বিতীয় খাদ্য, বলা যায়। খাদ্য হিসাবে এর ব্যবহার বহুবিধ। কিন্তু এবার এই আলুর চাষ ও বাজারে এর অবস্থাটা কেমন দাঁড়াবে? রাজশাহী অঞ্চলে আগাম আলু উঠবে এক মাসের মধ্যে। অথচ এ অঞ্চলের হিমাগারগুলো অর্ধেক ভর্তি হয়ে আছে আগের বছরের অবিক্রীত আলু দিয়ে।
স্বাভাবিকভাবেই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। মালিকরা যদিও ৩০ নভেম্বরের মধ্যে হিমারগুলো খালি করার নোটিশ দিয়েছেন, তবে এই নোটিশ কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না। কথা হচ্ছে, জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে হিমারগুলোকে এ মৌসুমের আলুর জন্য খালি করতে হবে। এ কাজটা সম্পন্ন করতে না পারলে একটা বড় বিপদ দেখা দেবে।
বর্তমানে বাজারে আলুর দাম কেজিতে ১২ থেকে ১৪ টাকা। খুবই কম এই দাম। আলু উৎপাদন ও হিমাগারের খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজিতে কৃষকের খরচ হয়েছে ২২ থেকে ২৫ টাকা। অর্থাৎ কেজিতে লোকসান হচ্ছে ১১ টাকা। আলুর দাম বাড়ার কারণে এর চাহিদা কমে গেছে আর তাই কৃষক ও ব্যবসায়ীরা হিমাগার থেকে আলু নামাচ্ছেন না।
এ পর্যন্ত হিমাগার থেকে ৬ লাখ টন আলুর অর্ধেক নামানো হয়েছে। বাকি আলুর ৩ ভাগের ১ ভাগ বীজ আলু হিসাবে ব্যবহৃত হবে। অর্থাৎ এখনো দেড় লাখ টন আলু অবিক্রীত রয়েছে। এক-দেড় মাসের মধ্যে নতুন আলু যখন তোলা হবে, তখন পুরোনো আলুর যে চাহিদা থাকবে না, তা বলাই বাহুল্য। বস্তুত কৃষক পড়েছেন উভয়সংকটে। হিমাগার থেকে আলু নামালে ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না, আবার না নামালেও বিপদ। সেক্ষেত্রে হিমাগারের মালিকরা সেগুলো নিলামে বিক্রি করে তাদের ভাড়া উসুল করবে।
বস্তুত আলুচাষিদের দুরবস্থা এখন চরমে। তারা কেন ন্যায্য দামে আলু বিক্রি করতে পারছে না, এ প্রশ্নের জবাব কে দেবে? দেশে কৃষি মন্ত্রণালয় নামে একটি মন্ত্রণালয় আছে, আবার আছে কৃষিসংশ্লিষ্ট নানা প্রতিষ্ঠান। অথচ কৃষকের চাওয়াপাওয়া, তাদের সুখ-দুঃখের খবর কেউ রাখতে পারে না। তারা ফসল ফলায় এবং কখনো প্রতারণার মাধ্যমে কখনো বা অব্যবস্থাপনার কারণে সেই ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। অহোরাত্র পরিশ্রম করেও এতটুকু স্বস্তির জীবন নেই তাদের। আমাদের বক্তব্য হলো, শুধু আলু নয়, কৃষকের ফলানো সব ফসলেরই ন্যায্য মূল্য পেতে হবে তাদের। এটা বাস্তবায়ন করতে যা যা করণীয়, সবই করতে হবে। অসৎ ব্যবসায়ী অথবা মধ্যস্বত্বভোগীদের কবল থেকে বাঁচাতে হবে কৃষককে।
