Logo
Logo
×

Advertisement

সম্পাদকীয়

চালের বাজারে আবারও অস্থিরতা

বাজার তদারকিতে কঠোর হতে হবে

Icon

সম্পাদকীয়

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

চালের বাজারে আবারও অস্থিরতা

Advertisement

কয়েকদিন পরপর চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়। এতে সীমিত ও নিম্ন আয়ের মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গতকাল যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের নিরাপদ মজুত রয়েছে। বাজারেও রয়েছে পর্যাপ্ত সরবরাহ। তবে মিলারদের দাদন বাণিজ্যের প্রভাবেই বোরোর ভরা মৌসুমেও চালের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কৃষকের মাঠের ধান মনপ্রতি ১১০০-১২০০ টাকায় কিনে গুদামজাত করেছেন মিলাররা। পরে সংকট দেখিয়ে নিজেরাই বাড়াচ্ছেন দাম। আর ধানের দাম বাড়ার অজুহাতে মিল পর্যায়ে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। তিন মাস ধরে চলছে এমন পরিস্থিতি। এর প্রভাবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে হু-হু করে বাড়ছে চালের দাম। খুচরা বাজারে এক কেজি মোটা চাল কিনতেও এখন ৬০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। সরু চালের কেজি গিয়ে ঠেকেছে ৯০ টাকায়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও বাজার তদারকি সংস্থার তৎপরতা দৃশ্যমান নয়। ফলে নির্বিঘ্নে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে মিলাররা। আর নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্য কিনতে নাভিশ্বাস উঠছে ক্রেতার। বোরো মৌসুমে চালের বাজার অস্থির হওয়ার কথা নয়। কেন এ অস্থিরতা দেখা দিল, কর্তৃপক্ষের উচিত তা খতিয়ে দেখে প্রতিকারে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া।

বাজারে অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে মানুষ কম কিনে ব্যয় কমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু চালের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। দাম যত বেশিই হোক, প্রয়োজনমতো চাল ক্রয় করতে হয় ভোক্তাকে। গরিব মানুষের আয়ের সিংহভাগ ব্যয় করতে হয় এ পণ্য ক্রয় করতে। এ কারণে চালের বাজার অস্থির হলে গরিব মানুষের দুর্ভোগই বাড়ে বেশি। লক্ষ করা যায়, চালের দাম বাড়ার জন্য মিলমালিক ও আড়তদাররা একে অন্যের ওপর দায় চাপান। এর প্রকৃত দায় কার, তা নির্ধারণ করার এবং চালের বাজারের অস্থিরতা দূর করার দায়িত্ব সরকারের। মিলমালিক ও আড়তদারদের কারসাজি রোধে সরকারকে মৌসুমের শুরুতে কৃষকের কাছ থেকে বেশি বেশি ধান-চাল ক্রয় করতে হবে। এতে কৃষকও উপকৃত হবেন।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর চাল আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চাল আমদানি হয়েছে ১০ লাখ ৩৪ হাজার ৮৭৯ টন। এ ছাড়া বোরো মৌসুমে ফলনও ভালো হয়েছে। তারপরও সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়, বিভিন্ন পক্ষ কারসাজি করেই দফায় দফায় চালের দাম বাড়াচ্ছে। কাজেই কারসাজি করে কেউ যাতে চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে না পারে, সেজন্য কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে হবে। চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা রোধে খোলাবাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে তা বিক্রি করতে হবে। তবে সেটা যেন লোকদেখানো না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। টিসিবির ট্রাকের সামনে মানুষের দীর্ঘ সারি থেকেই স্পষ্ট, তারা কতটা কষ্টে আছেন। গরিব মানুষ বর্তমানে অনেক কষ্টে আছেন। তাদের কষ্ট যাতে কোনোভাবেই না বাড়ে, তা নিশ্চিত করতে হবে। যেভাবেই হোক চালের বাজার স্থিতিশীল রাখতে হবে। প্রয়োজনে এ পণ্যের আমদানি বাড়াতে হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ফের এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি

ফের এলপিজির মূল্যবৃদ্ধি

আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য

আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য

পোশাকশিল্পে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা

পোশাকশিল্পে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা

এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের বার্তা

এইচএসসির ফল বিপর্যয়ের বার্তা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম