হাতিয়ায় চর দখল নিয়ে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ৫
নোয়াখালী ও হাতিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় চর দখলকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে পাঁচজন নিহত এবং আরও ১০ জন আহত হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সুখচর ইউনিয়নের জাগলার চরে প্রতিপক্ষ কোপা সামসু বাহিনী ও আলাউদ্দিন বাহিনীর মধ্যে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এতে আলাউদ্দিনসহ পাঁচজন মারাত্মক আহত হন। গুলিবিদ্ধ আলাউদ্দিনকে (৪০) উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে সামসু বাহিনীর প্রধান সামসু রয়েছেন। অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি। স্থানীয়দের আশঙ্কা নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম জানান, দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ঘটনাস্থল থেকে চারজনের এবং নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি জানান। হাতিয়া কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবুল কাশেম জানান, জাগলার চরে দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জাগলার চরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি চর এখনো সরকারিভাবে কাউকে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়নি। একে সুযোগ হিসাবে নিয়েছে কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ। গত বছরের ৫ আগস্টের পর জাহাজমারা ইউনিয়নের কোপা সামছু বাহিনী প্রথমে জাগলার চরের জমি দখল করে বিক্রি শুরু করে। এর কিছুদিন পর সুখচর ইউনিয়নের আলাউদ্দিন বাহিনী সেই জমির দখলে নিতে মরিয়া হয়ে মাঠে নামে। এরপর সেখানে ফরিদ কমান্ডারের বাহিনীও জড়িয়ে পড়ে। চরের জমিতে বাঁশের খুঁটি পুঁতে, মাটির স্তূপ তুলে সীমানা নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ঘরবাড়ির চারপাশেও সীমানা টানা হয়। চর দখল নিয়ে তিন বাহিনী মুখোমুখি অবস্থান নেয়। গ্রুপগুলোর মধ্যে একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সুখচর ইউনিয়নের ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী মেঘনার বুকের জাগলার চরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। গোলাগুলিতে সামসু বাহিনীর প্রধান সামসুদ্দিন এবং আলাউদ্দিন বাহিনীর প্রধান আলাউদ্দিন নিহত হন। সংঘর্ষের পর বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে ফরিদ কমান্ডার ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। সংঘর্ষের সময় চরের একাধিক বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক শূন্য হয়ে ছোটাছুটি করে। নিহত আলাউদ্দিন সুখচর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর আমান উল্যাহ গ্রামের ছেরাং বাড়ির মহিউদ্দিনের ছেলে।
অভিযোগ-চর দখলে জড়িত আলাউদ্দিনের সঙ্গে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিম ও নবী এবং আওয়ামী লীগ নেতা নিজাম মেম্বার জড়িত। সামসু বাহিনীকে চর থেকে বিতাড়িত করে জাগলার চরের জমি দখলের উদ্দেশ্যে তারা আলাউদ্দিন বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ ব্যাপারে জানতে সুখচর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি বেলায়েত হোসেন সেলিমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
