Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

অবশেষে পাবনা-১ ও ২ আসনের ভোট স্থগিত

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন ও পাবনা প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

নানা নাটকীয়তার পর পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন স্থগিত করে চিঠি ইস্যু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ দুই আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা পাবনার ডিসির কাছে শনিবার এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠিয়েছে ইসি। চিঠিতে নির্বাচন স্থগিতের তারিখ ৬ জানুয়ারি উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে শুক্রবার নির্বাচন স্থগিতসংক্রান্ত গণমাধ্যমের সংবাদ ‘অসত্য’ দাবি করে প্রচার বন্ধের অনুরোধ জানিয়ে প্রেস বিজ্ঞপ্তি ইস্যু করেছিল ইসি। অবশ্য শনিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিতের কথা স্বীকার করেছেন। ফলে বাকি ২৯৮টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনি কার্যক্রম চলমান থাকবে। এ বিষয়ে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদ মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন স্থগিত করে ইসির দেওয়া চিঠি শনিবার পেয়েছি। আপিল বিভাগে ৫ জানুয়ারি যে আদেশ হয়েছে, তার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ভোট স্থগিত করেছে। আমরা স্থগিতসংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি জারি করে দেব। এদিকে এই সিদ্ধান্তে আসন দুটির প্রার্থী ও ভোটাররা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।

এ দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত করে ইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের সীমানাসংক্রান্ত সিএমপি নং-১১০৫/২০২৫ এ আপিল বিভাগের ৫ জানুয়ারি আদেশের প্রেক্ষিতে ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠেয় নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে।’

পাবনার এ দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত করার বিষয়ে শুক্রবার দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর পরই নির্বাচন কমিশন প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নির্বাচন কমিশন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়নি এবং ওই সংবাদ অসত্য বলে উল্লেখ করে। একই ভাবে তথ্য অধিদপ্তরও একটি তথ্য বিবরণী প্রকাশ করে। ফলে ওই নির্বাচন নিয়ে ধূম্রজাল তৈরি হয়। পাবনা-১ ও ২ আসনে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির তৈরি হয়। এমন পরিস্থিতির মধ্যে শনিবার নির্বাচন স্থগিত করে চিঠি পাঠাল ইসি। এই চিঠির ফলে ওই আসনের নির্বাচন আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। জাতীয় সংসদের বাকি ২৯৮টি আসনে নির্বাচনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত নিয়ে নাটকীয়তার বিষয়ে ইসির সচিবের কাছে জানতে চান সাংবাদিকরা। তিনি বলেন, এটা তিনভাবে দেখা যায়, ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর করা, চিঠি জারির তারিখ থেকে কার্যকর করা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য তারিখ দিয়ে চিঠি কার্যকর করা যায়। এতে কোনো অসুবিধা নেই। তিনি বলেন, তথ্যগতভাবে কিছু অসম্পূর্ণতা ছিল, সেটাকে সম্পূর্ণ করে দেওয়া হয়েছে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে আপিল বিভাগের রায় হয় ৫ জানুয়ারি। এর আগে হাইকোর্ট আরেকটি রায় দিয়েছিলেন। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন আপিল আবেদন করলেও হঠাৎ তা প্রত্যাহার করে নেয় এবং ২৪ ডিসেম্বর পাবনা-১ ও ২ এবং ফরিদপুর-২ আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনে গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এতে সাঁথিয়া উপজেলার পাশাপাশি বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন নিয়ে পাবনা-১ আসন গঠন করা হয়। একইভাবে পাবনা-২ আসনে সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলার ওই পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন বাদ দেওয়া হয়। ইসির নতুন সীমানার গেজেট ৫ জানুয়ারি স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।

প্রার্থী ও ভোটারদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া : পাবনা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী পরিষদের সদস্য একেএম সেলিম রেজা হাবিব ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে যুগান্তরকে বলেন, এই আসনের প্রার্থী হিসাবে আমি মামলাসংক্রান্ত বিষয়ে যুক্ত নই। তাহলে আমি কেন ক্ষতিগ্রস্ত হব। মানুষ ১৭ বছর ভোট দিতে পারেনি। ভোটাররা উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দিতে যাবে, আশায় বুক বেঁধে আছে। কিন্তু মাঝপথে এসে নির্বাচন স্থগিত করাটা কতটা যুক্তিসংগত? আমাদের দাবি, ১২ ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশের সঙ্গে পাবনা-২ আসনের নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

একই আসনের জামায়াতের প্রার্থী মো. হেসাব উদ্দিন বলেন, এটা কোনো কথা হলো? নির্বাচনি এলাকার সীমানা নিয়ে কী রায় হবে না হবে সেটা আদালতের ব্যাপার। কিন্তু আমরা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হব। এই স্থগিতাদেশ মানি না। যথা শিগগির এ আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।

পাবনা-১ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও সাবেক জামায়াত আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনও তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সরকারের দায়িত্ব বিচার ও নির্বাচন। বিচার হচ্ছে এবং নির্বাচনের তারিখ হয়েছে। আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি নির্বাচনের জন্য। এটি বন্ধ হতে পারে না। প্রয়োজন হলে আমি মামলার বাদীদের সঙ্গে কথা বলব মামলা তুলে নেওয়ার জন্য। তাদের বলব, নির্বাচন আগের অবস্থাতেই হোক। তবু আমরা নির্বাচন চাই।

এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমানও নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত দুঃখজনক। আমরা চাই সারা দেশের সঙ্গে পাবনা-১ আসনের নির্বাচন মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হবে। এ দুটি আসনের সাধারণ ভোটাররাও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেন, আমরা সারা দেশের সঙ্গে নির্বাচন চাই।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

বাইরে আন্দোলন, ভেতরে চুক্তি ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি

ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি

বিশ্ব ডাক দিবস আজ মুমূর্ষু ডাকঘর, নেই সেবা

মুমূর্ষু ডাকঘর, নেই সেবা

বিটিআরসির সিদ্ধান্তে বাড়তি সুবিধা এস আলমের কোম্পানির পোয়াবারো, নতুন বিতর্ক

এস আলমের কোম্পানির পোয়াবারো, নতুন বিতর্ক

শাহজালাল বিমানবন্দর ঘিরে অপরাধ ভাড়ায় খাটে দুর্ধর্ষ ডাকাতরা

ভাড়ায় খাটে দুর্ধর্ষ ডাকাতরা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম