Logo
Logo
×

Advertisement

প্রথম পাতা

দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে গ্যাস সংকট

উৎপাদন কর্মসংস্থান ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

উৎপাদন কর্মসংস্থান ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ

গ্যাসের চাপ কম থাকায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোয় গাড়ির দীর্ঘ সারি। মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে -যুগান্তর

Advertisement

শিগ্গিরই কাটছে না গ্যাস সংকট। এ সমস্যা আরও এক থেকে দেড় বছর দীর্ঘায়িত হতে পারে। যে কারণে শিল্পমালিকদের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই। অনেক উদ্যোক্তা ঋণ নিয়ে অবকাঠামো নির্মাণ ও মেশিন স্থাপন করেও গ্যাস সংযোগ পানননি। যে কারণে উৎপাদনে যেতে পারছেন না। আবার যেসব কারখানায় সংযোগ আছে, সেখানে গ্যাস না থাকায় শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। কিন্তু কারখানায় উৎপাদন অব্যাহত রাখতে না পারলে শ্রমিকদের বেতন এবং ব্যাংক ঋণের কিস্তি কীভাবে পরিশোধ হবে-সেই দুশ্চিন্তার পরিসর বড় হচ্ছে। এজন্য ভুক্তভোগী শিল্পোদ্যোক্তাদের অনেকে এখন দিশেহারা। ফলে নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থান ধরে রাখাই এখন উদ্যোক্তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য তারা সরকারের আশু হস্তক্ষেপ চান।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা রয়েছে ৪০০ কোটি ঘনফুট। যদিও চাহিদা অনুযায়ী কখনো গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি সরকার। ১৫ দিন আগেও সরবরাহ করা হতো ২৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস। রেশনিংয়ের মাধ্যমে যা শিল্প, সার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহ করা হতো। এখন কমে সরবরাহ দাঁড়িয়েছে ২১৩ কোটি ঘনফুটে। এ কারণে নারায়ণগঞ্জ, আড়াইহাজার, ভুলতা, গাউছিয়া, গাজীপুরের কোনাবাড়ী, সাভার, আশুলিয়া, ময়মনসিংহের ভালুকা এলাকায় শিল্পকারখানা উৎপাদন শূন্যের কোঠায় নেমেছে। গ্যাসের অভাবে সংকটে পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোও। রাজধানী থেকে জেলা শহর-কোথাও গ্যাসের চাপ নেই। অনেক স্টেশন দিনে বন্ধ রেখে রাতে গ্যাস সরবরাহ করছে।

এমনিতেই বিশ্ববাজারে তৈরি পোশাকের চাহিদা হ্রাস, গ্যাস সংকট, ঋণের উচ্চ সুদ-এই তিন কারণে ৩ বছরে ৫ শতাধিক শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক এতে বেকার হয়েছে। বিজিএমইএ-এর তথ্যমতে, তিন বছরে সংগঠনটির প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া আরও বহু কারখানা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বিটিএমএ বলছে, ২৩৪টি টেক্সটাইল ও স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে। আর শিল্পপুলিশের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছরে ৪৫৭টি শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক কারখানা রয়েছে ১৭০টি। বাকি ২৮৭টি পোশাকবহির্ভূত।

বাংলাদেশ নিটপণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম যুগান্তরকে বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে ১২ দিন ধরে কোথাও শিল্পকারখানা পুরোপুরি বন্ধ, আবার কোথাও আংশিক চালু আছে। ইতোমধ্যে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ৮ আগস্টের আগে এ সংকট সমাধান সম্ভব নয়। এত দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শিল্পমালিকরা। প্রথমত, উৎপাদন চালু বা বন্ধ থাক, মাসের প্রথম সাত কর্মদিবসের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন দিতে হবে। এ টাকা মালিকরা পাবেন কোত্থেকে? উৎপাদন না হলে এবং পণ্য রপ্তানি বন্ধ থাকলে টাকা তো পাওয়া সম্ভব নয়। তাই সরকার শ্রমিকদের বেতন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সফট ঋণ দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় যথাসময়ে পণ্য রপ্তানি সম্ভব না হলে স্বভাবতই ক্রেতা এয়ার শিপমেন্ট অথবা ডিসকাউন্ট চাইবে। এই অনাকাক্সিক্ষত লোকসানের বোঝা কে বহন করবে? তৃতীয়ত, গ্যাস সংকট নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রেতারাও উদ্বিগ্ন। অনেক ক্রেতাই ইতোমধ্যে নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করছেন।

তিনি আরও বলেন, উৎপাদন চালু রাখতে অনেক গার্মেন্ট ফিলিং স্টেশন থেকে সিলিন্ডারে গ্যাস কারখানায় নিচ্ছিল। কিন্তু তিতাস কর্তৃপক্ষ আদেশ জারির মাধ্যমে এ পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়েছে। তিনি বলেন, এ অবস্থায় যেখানে গ্যাস দিতে না পারার কারণে তিতাসের ‘গিল্টি ফিলিংস’ হওয়ার কথা, সেটা না করে তারা আদেশ জারির মাধ্যমে সিলিন্ডারে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে। আমরা এর নিন্দা জানাই।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। কিন্তু এভাবে শিল্পে উৎপাদন বন্ধ থাকলে সরকার রাজস্ব পাবে না, কর্মসংস্থান হারাবে মানুষ। আবার রাজস্ব আদায় করতে না পারলে সরকারের পক্ষে বাজেট বাস্তবায়নও সম্ভব হবে না। অপরদিকে ব্যাংকের ঋণের টাকা যথাসময়ে পরিশোধ সম্ভব না হলে ব্যাংকিং খাতে ধস নামবে। এসব কারণে এই সংকটের স্থায়ী সমাধান করতে না পারলে পুরো অর্থনীতিতে ধস নামতে বাধ্য। তিনি আরও বলেন, আজকের গ্যাস সংকটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার দায়ী। কিন্তু এ বিষয়ে কেউ তাদের প্রশ্ন করছে না, জবাবদিহিও করছে না। ওই সরকারে অনেক জ্ঞানী-গুণী উপদেষ্টা থাকার পরও কেন, কোন যুক্তিতে তখন নতুন একটি ভাসমান স্টোরেজ ইউনিট স্থাপনের চুক্তি বাতিল করা হলো। সেই স্টোরেজ ইউনিট স্থাপনের চুক্তি বাতিল করা না হলে আজ সেটি অপারেশনে থাকত। যার মাধ্যমে সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা সম্ভব ছিল।

শওকত আজিজ রাসেল আরও বলেন, এ সরকারের কাছ থেকে শুধু ঘোষণাই পাচ্ছি। বাস্তবায়ন দেখছি না। সরকার বন্ধ কারখানা চালু করতে প্রণোদনা দিল, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের আশ্বাস দিল; কিন্তু দৃষ্টান্তমূলক কিছুই দেখছি না। তিনি বলেন, সরকার শিল্পের জন্য স্বল্পসময়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেবে বলে আশা করছি।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল ইসলাম বলেন, ঢাকার মতো চট্টগ্রামেও গ্যাস সংকট আছে। শিল্পকারখানা গ্যাসের অভাবে উৎপাদন করতে পারছে না। দিনের বড় সময় কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন ভাসমান স্টোরেজ ইউনিটের চুক্তি বাতিল ভুল ছিল। এটি কেন করেছে, তারাই ভালো বলতে পারবে। কিন্তু সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে, সেটা যে সরকারই হোক না কেন, ব্যবসায়ীরা কেন ভুগবে। গ্যাসের বিল দুই দিন দেরিতে দিলে জরিমানা আদায় করা হয়। অথচ সিকিউরিটি ডিপোজিট জমা, ডিমান্ড নোট পাওয়ার পরও যখন সংযোগ দেওয়া হয় না-এর জন্য দায়ী কে? ব্যবসায়ীরা তো ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করেন। উৎপাদন বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের বেতন দেবেন কীভাবে? এ বিষয়গুলো সরকারের ভেবে দেখা দরকার।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

রাজধানীর যেসব এলাকায় আজ ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

রাজধানীর যেসব এলাকায় আজ ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না

গ্যাসের মজুত তলানিতে, শীতের আগে বিপাকে ইউরোপ

গ্যাসের মজুত তলানিতে, শীতের আগে বিপাকে ইউরোপ

শনিবার ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

শনিবার ৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণ: মা-বাবার পর প্রাণ গেল মেয়ের

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ বিস্ফোরণ: মা-বাবার পর প্রাণ গেল মেয়ের

৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুই নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

৫৯২ কোটি টাকায় খনন হবে দুই নতুন কূপ, বাড়বে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু

টঙ্গীতে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনায় দুজনের মৃত্যু

আরও পড়ুন

টার্গেট ডিসেম্বর রাজনীতি আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

আতঙ্ক ছড়াচ্ছে কারা

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নতুন রূপরেখা প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগের প্রস্তাব উচ্চকক্ষ থেকে

থাইল্যান্ডে বসে চালাচ্ছেন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

শেখ পরিবারের ‘ঘনিষ্ঠ’ রাজী ফখরুল এখনো বেপরোয়া

হামলার আশঙ্কায় বন্ধ ব্যাংক-ভূমিসেবাসহ বহু ওয়েবসাইট সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

সাইবার সুরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে বড় প্রশ্ন

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম