রেলে ব্যয় বাড়ল বাড়বে লোকসান
Advertisement
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি তেলের (ডিজেল) দাম বাড়লেও রেলের ভাড়া বাড়েনি। এক দশকে ডিজেলের দাম বেশ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। এ সময়ে রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়নি। অথচ রেল ক্রমাগত লোকসান দিয়ে আসছে। প্রতিবছর রেল প্রায় পৌনে তিন হাজার কোটি টাকা লোকসান দিচ্ছে। সোমবার আবারও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। প্রতি লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়ে দাম ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। রেলে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ এতে দিনে ৪০ লাখ টাকা খরচ বাড়বে। বছরে ব্যয় বাড়বে ১৪৬ কোটি টাকা। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সড়ক, নৌ ও বিমানপথে ভাড়া বাড়ানোর হিড়িক লেগে যায়। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে রেল ভাড়া বাড়ায় না।
রেলওয়ে অপারেশন ও রোলিংস্টক দপ্তর সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০১৬ সালে রেলের ভাড়া বাড়ানো হয়। রেলে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। ডিজেলের দাম বাড়ানোয় রেলের লোকসানও বাড়বে। এ প্রসঙ্গে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রূপম আনোয়ার যুগান্তরকে বলেন, এখন রেলের ডিজেল কিনতে বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে। এতে লোকসান আরও বাড়বে। হঠাৎ ট্রেন ভাড়া বাড়ানো যায় না। বিষয়টি নিয়ে আমরা চিন্তা করছি। কীভাবে লোকসান কমানো যায় এবং কীভাবে ভাড়া বাড়ানো যায়, তা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বাহন রেলের ভাড়া কীভাবে সমন্বয় করা যায়, তা দেখা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেলের রোলিংস্টক দপ্তরের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ২০১৬ সালে ট্রেনের ভাড়া ৭ থেকে ৯ শতাংশ ভাড়া বাড়ানো হয়েছিল। সুফলহীন অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ঋণ পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে লোকসান বাড়ছে। ক্রমাগত লোকসানে চলা রেলের ভাড়া বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।
রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিংস্টক) প্রকৌশলী ফকির মো. মহিউদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, রেলের খরচ বেড়ে গেছে অনেকটাই। এছাড়া ইঞ্জিন ও কোচের অভাবে যথাযথভাবে ট্রেন পরিচালনা করা যাচ্ছে না। যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা আমরা নিশ্চিত করতে চাই। নতুন নতুন ট্রেন পরিচালনা করতে চাই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবহণ দপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, গণপরিবহণ হিসাবে রেলের সামাজিক দায়বদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে কোনো সংস্থাকে টিকিয়ে রাখা কঠিন। সাধারণ মানুষের ওপর বড় চাপ না দিয়ে অত্যন্ত সীমিত বা যৌক্তিক হারে ভাড়া সমন্বয়ক করা উচিত। একই সঙ্গে পণ্য পরিবহণে নজর দিয়ে বিকল্প আয় বাড়ানো না গেলে লোকসানের চোরাবালি থেকে রেলের মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন) মো. নাজমুল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ট্রেন চলে ডিজেল দিয়ে।
ডিজেলের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় অতিরিক্ত মূল্য দিয়ে তেল কিনতে হবে। আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি হচ্ছে। রেলের ভাড়া বাড়ানো যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

