টাকার জন্য বর্ষাকে নির্যাতন
গভীর রাতে বাবাকে ভিডিও কল, বাসায় গিয়ে পেলেন লাশ
Advertisement
তেজগাঁও (ঢাকা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে গভীর রাতে বাবাকে ভিডিও কল করেছিলেন জুমরাতুন নেছা বর্ষা (২৪)। নির্যাতনের কথা জানিয়ে মা-বাবার কাছে সাহায্য চান তিনি। একপর্যায়ে ভিডিও কলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মেয়ের বাসায় খোঁজ নিতে গিয়ে পরিবার জানতে পারেন, বর্ষা আর বেঁচে নেই। বর্ষার পরিবারের সদস্যরা যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মণিপুরিপাড়ার এ ঘটনার পর বর্ষাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন বর্ষার বাবা লালবাগের স্থায়ী বাসিন্দা শেখ মনোয়ার হোসেন। বর্ষার চাচা শেখ জাকির হোসেন যুগান্তরকে বলেন, ভালোবেসে এক বছর আগে বর্ষা ও নাবিদ হোসাইনের বিয়ে হয়েছিল। নাবিদ কোনো কাজ করতেন না। বিয়ের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে শ্বশুরের কাছে টাকা চাইতেন। বর্ষার পরিবার কয়েকবার তাকে টাকা দিয়েছে। তবে টাকা চাওয়া নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বর্ষাকে মারধরও করা হতো। এর আগেও একবার মারধরের শিকার বর্ষাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছিল। তবে এর কিছুই তাদেরকে জানানো হয়নি।
জাকির হোসেন আরও বলেন, মঙ্গলবার আবার টাকা চাওয়া নিয়ে বর্ষাকে মারধর করা হয়। শ্বশুরবাড়ির একজন মারধরের দৃশ্য ধারণ করে বর্ষার পরিবারকে পাঠায়। মারধর সহ্য করতে না পেরে রাত ১২টার দিকে বর্ষা তার বাবাকে ভিডিও কল দেন। ভিডিও কলে কান্নাকাটি করে বারবার বলতে থাকে তাকে যেন ওই বাসা থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। নইলে তাকে মেরে ফেলবে। একপর্যায়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
জাকির হোসেন বলেন, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর বর্ষার মা-বাবা ওই বাসার উদ্দেশে রওয়ানা হন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে মণিপুরিপাড়ার ওই বাসার সামনে গিয়ে তারা অ্যাম্বুলেন্স দেখতে পান। পরে শ্বশুরকে জিজ্ঞাসা করার পর তারা জানান, বর্ষা আত্মহত্যা করেছে। তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এই কথা শোনার পর তারাও হাসপাতালে যান।
বর্ষার স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে ব্যবসা ও মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য বর্ষাকে চাপ দিতেন নাবিদ। বর্ষার বাবা কয়েকবার টাকা দিলেও তা দিয়ে তিনি মাদক সেবন করেন। সে কারণে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় বর্ষার পরিবার। এর জেরে বর্ষার ওপর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। মারধরের কথা সব সময় পরিবারকেও জানাতেন না বর্ষা।
তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, নাবিদ হোসাইন যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় বর্ষাকে মারধর করতেন। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বর্ষার বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। পরে হাসপাতাল থেকে নাবিদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে আদালতেও পাঠানো হয়েছে। তদন্ত চলছে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
