হত্যার অভিযোগ
তুরাগে ভাসছিল তাহসিফের লাশ
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নীল আকাশের স্বপ্নবোনা এক তরুণ প্রাণ নিথর হয়ে ভেসে রইল তুরাগের বুকে। মায়ের কাছে ‘নিচ থেকে আসছি’ বলে ঘর থেকে বের হওয়া পা দুটি আর ফিরে এলো না। বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি (২৮) বিদায় নিলেন এক বুক রহস্য আর স্বজনদের অন্তহীন হাহাকার রেখে।
রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের নিজের বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদের কচুরিপানার ভেতর থেকে বুধবার বিকালে উদ্ধার করা হয় তার লাশ। এ ঘটনার পর প্রশ্ন উঠেছে-এটি কী নিছক কোনো দুর্ঘটনা নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো গভীর রহস্য? ঘটনা যাই ঘটুক না কেন, মোটিভ জানতে চায় দেশবাসী। এদিকে লাশ উদ্ধারের পর তাহসিফের পকেট থেকে মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হলেও তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের হদিস মেলেনি এখনো।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের একটি বহুল আলোচিত ভিডিওচিত্রের সঙ্গে তাহসিফের নাম জড়িয়ে আছে। এর পর থেকেই তিনি ছিলেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তুরাগ নদে তার এই রহস্যজনক সলিলসমাধি সেই পুরোনো বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে। এছাড়া জন্ম দিয়েছে অসংখ্য প্রশ্ন ও ধোঁয়াশার। যে চরিত্রটি সবচেয়ে বেশি রহস্যের জন্ম দিয়েছে, তা হলো তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু ‘দ্বীপ’। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্ধু স্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তার সঙ্গে প্রায় ৬ ঘণ্টা ছিলেন তাহসিফ।
এদিকে অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরিকে হত্যা করে তার লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তার বাবা এ কে এম এনায়েতুল করিম। তিনি বলেছেন, ছেলের আত্মহত্যা করার কোনো কারণ ছিল না।
বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ সন্দেহের কথা জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, তাহসিফ মাঝেমধ্যে আমাকে বলত, সে একটু আশঙ্কার মধ্যে আছে। তবে কী নিয়ে আশঙ্কা, তা কখনো জানায়নি।
তাহসিফের পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যার ঠিক আগমুহূর্ত পর্যন্ত তাহসিফ তার মায়ের সঙ্গেই ছিলেন, এমনকি কেনাকাটাও করেছিলেন। ঠিক সন্ধ্যার পর বাসার নিচে থেকে জুনিয়র বন্ধু ‘দ্বীপ’ তাকে ডেকে নিয়ে যায়। মাকে লক্ষ্য করে তাহসিফ বলে যান, ‘দ্বীপ আসছে, ওর সঙ্গে একটু কথা বলে আসি।’ এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। প্রশ্ন উঠেছে, হঠাৎ সন্ধ্যার পর কোন জরুরি প্রয়োজনে দ্বীপ তাকে ডাকল? তাদের মধ্যে শেষ কথোপকথন কী হয়েছিল? এসব নিয়ে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার ভেতরেও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের আগে কোনো মন্তব্য করতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, প্রাথমিক তদন্ত ও লাশের ময়নাতদন্তের পর বিস্তারিত জেনে এ বিষয়ে কথা বলবেন। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে তাহসিফের মৃত্যুর যোগসূত্র নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে এখন কোনো কথা বলতে চাচ্ছি না। কারণ একটা প্রাথমিক তদন্ত হতে হবে আর লাশের ময়নাতদন্ত হচ্ছে। তারপর আমরা সব বিষয় জেনে কথা বলব।
নৌপুলিশের প্রধান ও বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি রেজাউল করিম যুগান্তরকে বলেন, মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে বাহ্যিকভাবে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে এটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি নিছক দুর্ঘটনা-তা ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বিষক্রিয়া বা শ্বাসরোধের মতো বিষয়গুলোও মাথায় রেখে তাদের একাধিক টিম কাজ করছে বলে তিনি জানান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্তকারী দল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ইতোমধ্যেই তাহসিফদের উত্তরা আবাসিক এলাকার বাসা এবং আশপাশের সড়কের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাগুলোর ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে-মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সবুজ রঙের পাঞ্জাবি পরা তাহসিফ বাসা থেকে নেমে নিচে আসেন। নিচতলায় নামার পর তাকে অপর এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে এবং হাত মেলাতে দেখা যায়। ওই সময় সেখানে একটি নীল রঙের মোটরসাইকেল চালু অবস্থায় বা সেটির হেডলাইট জ্বালানো অবস্থায় দাঁড়ানো ছিল। ওই ব্যক্তির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথাবার্তার পর দুজনকে ওই স্থান থেকে একসঙ্গে পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে নির্দিষ্ট গন্তব্যের দিকে রওয়ানা হতে দেখা যায়। ফুটেজে জুনিয়র বন্ধু দ্বীপের উপস্থিতি এবং তাদের উভয়ের গন্তব্য কোনদিকে ছিল, তা নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
মায়ের নম্বরে আসে খুদেবার্তা : তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিখোঁজ থাকার দীর্ঘ সময় পর রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন থেকে তার মায়ের নম্বরে একটি খুদেবার্তা (মেসেজ) আসে। সেই মেসেজে সংক্ষেপে জানান, তিনি আসছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, গভীর রাতের এই মেসেজটি কি আসলেই তাহসিফ নিজে পাঠিয়েছিলেন, নাকি তার ফোনটি তখন অন্য কারও নিয়ন্ত্রণে ছিল? পরিবার ও স্বজনদের সন্দেহ, বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য অন্য কেউ তার মোবাইল থেকে ওই মেসেজ টাইপ করে পাঠিয়েছিল কি না, সেটি তদন্ত করে দেখা উচিত। ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমেই বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে। কারণ ওই মেসেজের পর থেকে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরদিন লাশ উদ্ধার হয় তুরাগ নদ থেকে। সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহসিফের বুক, পেট, পিঠ, দুই পা ও অন্যান্য অঙ্গ স্বাভাবিক ছিল। তার শরীরে বাহ্যিক কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। লাশ উদ্ধারের সময় তার নাক দিয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়তে বা বের হতে দেখা গেছে। তার উচ্চতা ছিল আনুমানিক ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি। মাথার চুল কালো এবং মুখে ছোট ছোট কালো দাড়ি ও গোঁফ ছিল। লাশ উদ্ধারের সময় তার চোখ ও মুখ বন্ধ ছিল। তার দুই হাত মাথার সামনের দিকে কিছুটা বাঁকানো এবং মুষ্টিবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পেট কিছুটা ফোলা ছিল। হাতে একটি হাতঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। পুলিশের তৈরি এই প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনের পর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টায় উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের রুয়াপ কেন্দ্রীয় মসজিদে তাহসিফের জানাজা সম্পন্ন হয়। এর আগে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে নিয়ে আসা হয়। লাশবাহী গাড়ি এলাকায় পৌঁছলে স্বজন ও প্রতিবেশীরা ভিড় করেন। এ সময় স্বজনদের কান্নায় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। জানাজা শেষে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টর কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
ছেলের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না তাহসিফের বাবা কেএম এনায়েতুল করিম হেলাল। গণমাধ্যমকে শোকার্ত বাবা জানান, ‘তাহসিফ অত্যন্ত ভদ্র ও মিশুক প্রকৃতির ছিল। সে কোনো বড় হুমকির কথা না বললেও মাঝেমধ্যে নিজেকে এক ধরনের আশঙ্কার মধ্যে থাকার কথা জানাত।’ এনায়েতুল করিম জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় দ্বীপ নামের এক ছোট ভাই বাসার নিচে এসে তাকে ডাকে। দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে ফিরবে জানিয়ে নিচে নামে তাহসিফ। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। তাহসিফ বাসায় না ফেরায় তার মা একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু তাকে পাননি। রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে মায়ের মুঠোফোনে একটি বার্তা পাঠান তাহসিফ। তাতে জানান, তিনি বাসায় ফিরছেন। তবে বার্তাটি পড়ে ছেলেকে ব্যস্ত মনে হয়েছিল।
‘ভিডিও ফাঁসের ঘটনায় মানসিক হেনস্তা’ : তাহসিফের সহপাঠী ও বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির (বিএমএ) ৭৯তম ইক্যুইভ্যালেন্ট কোর্সমেট কেএসএম ইনতিসার ইনজিমাম সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ ও সংশয় প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘৫ আগস্টের সেই আলোচিত ভিডিও ফাঁসের ঘটনার পর থেকেই তাহসিফকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়েছিল।’
পুলিশ জানিয়েছে, রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল ভিডিও বিতর্ক এবং পেশাগত ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব-এই দুটি বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত চলছে। ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের সময়কার সেই ভিডিও ধারণ বা ছড়িয়ে দেওয়ার নেপথ্য নায়ক হিসাবে তাহসিফের নাম যেভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছিল, তার কোনো জের ধরে তাহসিফ প্রভাবশালী কোনো মহলের আক্রোশের শিকার হয়েছিলেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বিমানবাহিনী থেকে অব্যাহতি পাওয়ার পর তাহসিফ বিসিবি, নেত্র নিউজ এবং সর্বশেষ ভার্গো টোব্যাকোতে কাজ করেছেন। এই কর্মক্ষেত্রগুলোতে বা ব্যক্তিগত জীবনে কারও সঙ্গে বড় কোনো বিরোধ তৈরি হয়েছিল কিনা-তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাহসিফের জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে তার চাকরিচ্যুতি বা অবসর। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করেই তাকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসর দেওয়া হয়েছে।
জীবনপ্রদীপ নিভে যাওয়ার মাত্র ৩ মাস ৮ দিন আগে ২১ জুলাই ‘স্পিক উইথ রশীদ’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের পডকাস্টে হাজির হয়ে নিজের বরখাস্ত ও জীবনের নানা বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছিলেন তাহসিফ। সেই পডকাস্টে উপস্থাপকের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ‘যে ঘটনাগুলো ওই সময় ঘটেছিল, সবকিছু আমি বলব না। আমারও কিছু অপারগতা আছে। আমার মনে হয় এই এলিগেশনের কারণে তারা এই জিনিসটা করেছে।’ শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ফাঁসের বিষয়ে তাকে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি এর সুনির্দিষ্ট প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি যদি ভিডিওটা করেও থাকি বা ছড়িয়েও থাকি, হোয়াট ইজ দ্য প্রুফ... আর এটাও হতে পারে যে এজন্যই আমি আজকে হয়তো এয়ারফোর্সে নেই।’ তার এই বিস্ফোরক পডকাস্ট ইন্টারভিউ এখন নতুন করে ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।
যা বলল জুনিয়র বন্ধু দ্বীপ : তাহসিফের জুনিয়র বন্ধু দ্বীপ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার ও তাহসিফের মোটরসাইকেলের মডেল একই ছিল। তাহসিফের মোটরসাইকেলটি অকেজো হয়ে পড়ায় সেটি চালু করতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর তাহসিফের বাসার নিচ থেকে তারা দুজনে মিলে উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে যান। সেখানে তাহসিফের মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনসহ কিছু কাজ করানো হয়। কাজ শেষ করে তারা একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর রাত ১২টার দিকে দ্বীপ নিজের বাসার দিকে চলে যান এবং তাহসিফ অন্যদিকে চলে যান। তাহসিফের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের বিষয়ে দ্বীপ জানান, বয়সে বড় হওয়ায় তিনি তাহসিফকে বড় ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন এবং তাদের মধ্যে পারিবারিক ও সুসম্পর্ক ছিল। তিনি বলেন, তাহসিফ ভাই বয়সে আমার চেয়ে ২-৩ বছরের সিনিয়র হলেও আমরা দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
মাঝেমধ্যে আশঙ্কার কথা জানাত-বাবা : তাহসিফের বাবা এনায়েতুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, আত্মহত্যার তো প্রশ্নই আসে না, সে অত্যন্ত ‘প্লেজেন্ট পারসোনালিটির’ একজন মানুষ। আর একজন কমিশনড অফিসার তো অনেক কষ্ট করে তাকে এটা অর্জন করতে হয়। তিনি বলেন, হত্যা করা হয়েছে। তাকে নিয়ে নদীতে ফেলে দিয়েছে বলে আমি সাসপেক্ট করি। ছেলের সঙ্গে নিজের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি বাবা হিসাবে তার সঙ্গে খুব ফ্রেন্ডলি ছিলাম। আমার সঙ্গে অনেক কিছু সে শেয়ার করত। তাহসিফ মাঝে-মধ্যে আমাকে বলত, সে একটু আশঙ্কার মধ্যে আছে। তবে কী নিয়ে আশঙ্কা, তা কখনো জানায়নি।
