বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর
খেলাপি ঋণ ২৫-৩০ শতাংশে পৌঁছে যাবে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৪, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
প্রতীকী ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আগামী দিনে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছে যাবে। এসব ঋণের বড় অংশই ২০১৭ সালের পর দেওয়া হয়েছে। এসব ঋণ এখন খেলাপি হচ্ছে। এখন যা সাড়ে ১২ শতাংশ। আগামী মাসে তা ১৫ শতাংশ, এরপর ১৭ শতাংশ হয়ে ধীরে ধীরে ৩০ শতাংশে পৌঁছে যেতে পারে। এসব ঋণ আগেই খেলাপি হয়ে আছে। আগে দেখানো হয়নি। এখন হিসাব করে তা দেখানো হচ্ছে। এটা কমিয়ে আনতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কাজ শুরু করেছে। তবে সময় লাগবে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতিবিষয়ক শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন জমা দেওয়া উপলক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় গভর্নর এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে। রোববার দুপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি প্রতিবেদনটি জমা দেয়। বক্তৃতায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, আমরা দেশের আর্থিক খাতের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছি। এতে আর্থিক খাতের যে চিত্র পাওয়া যাচ্ছে তাতে আঁতকে ওঠার মতো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সামনে খেলাপি ঋণ যা দাঁড়াবে, এর অর্ধেক বা আড়াই লাখ কোটি টাকা হবে এস আলম, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ বড় কয়েকটি গ্রুপ ও ব্যবসায়ীর। ২০১৭ সালের পরে জালজালিয়াতির মাধ্যমে এসব ঋণ নেওয়া হয়। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তা পাচার করা হয়। এসব তথ্য পাওয়ার সঙ্গে ওইসব ঋণ খেলাপি হচ্ছে। ফলে সামনে খেলাপি ঋণ ২৫ থেকে ৩০ শতাংশে পৌঁছে যাবে।
তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আর্থিক খাতের সার্বিক অবস্থা জানার পর পরিস্থিতি পুনরুদ্ধারে আরও জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে তদারকি জোরদার করতে হবে, যা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান পরীক্ষা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে করা হবে। এ কার্যক্রম ১১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। এ প্রক্রিয়ায় প্রথমে ১২টি ব্যাংক এবং পরে ২০টি ব্যাংকে নিরীক্ষা করা হবে। এতে আর্থিক খাতের লুটপাটের প্রকৃত চিত্র বের হয়ে আসবে বলে তিনি আশাবাদী। এসব তথ্য পেলে আর্থিক খাতের স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরে আরও বড় পরিসরে ও ব্যাপক আকারে নেওয়া হবে। কিছু ব্যাংকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আইন করা হচ্ছে। পাচারের টাকা ফেরত আনতে আন্তর্জাতিক সব সংস্থাকে কাজে লাগানো হচ্ছে। তবে এটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া।
অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, আর্থিক খাতকে একটি পর্যায়ে নেওয়ার পর এসব ব্যাংকের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। তবে অবশ্যই আমানতকারীদের রক্ষা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি গ্রাহকদের আমানতের সুরক্ষাও নিশ্চিত করা হবে। ব্যাংকগুলোকে টাকা দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে গ্রাহক আস্থা ফিরে পাবে।
