ইসির আসন বিন্যাস চূড়ান্ত
সংসদের ৪৬টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন
বাগেরহাটে একটি আসন কমল, বাড়ল গাজীপুরে
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জাতীয় সংসদের অন্তত ৪৬টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন এনেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব আসনসহ ৩০০ আসনের চূড়ান্ত সীমানার গেজেট বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রকাশ করা হয়েছে। এতে গাজীপুরে একটি আসন বেড়েছে। অপরদিকে বাগেরহাটে একটি আসন কমেছে। বাকি ২৫৪টি আসনের সীমানা আগের মতোই রয়েছে। নতুন গেজেটের সীমানায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
যেসব আসনের সীমানায় পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে-পঞ্চগড়-১ ও ২; রংপুর-১ ও ৩; সিরাজগঞ্জ-১ ও ২; পাবনা-১ ও ২; বাগেরহাট-১, ২ ও ৩; সাতক্ষীরা-২, ৩ ও ৪; মানিকগঞ্জ-২ ও ৩; ঢাকা-২, ৪, ৫, ৭, ১০ ও ১৪; গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬; নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫; ফরিদপুর-২ ও ৪; শরীয়তপুর-২ ও ৩; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩; কুমিল্লা-১, ২, ৬ ও ১০; নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫ এবং চট্টগ্রাম-৭ ও ৮।
গত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এবার সংসদীয় আসনের সীমানায় পরিবর্তন বেশি এসেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে ৪০টি, ২০১৮ সালের নির্বাচনে ২৫টি এবং সর্বশেষ নির্বাচনে ১০টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন করা হয়েছিল। এবার ২০২৩ সালের গেজেটের তুলনায় অন্তত ৪৬টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন এলো। যদিও গত ৩০ জুলাই নির্বাচন কমিশন ৪০টি আসনের সীমানা পরিবর্তন করে খসড়া তালিকা প্রকাশ করে। ওই তালিকার উপর সর্বমোট আপত্তি এবং সুপারিশ আবেদন জমা হয় এক হাজার ৮৯৩টি। গত ২৪ থেকে ২৭ আগস্ট টানা চার দিন ওইসব আবেদনের শুনানির পর চূড়ান্ত এই তালিকা প্রকাশ করেছে ইসি। এতে দেখা যাচ্ছে, ওই খসড়া তালিকায় যেসব আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনা হয়েছিল, সেগুলো আবারও পরিবর্তন করে চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। খসড়ায় কোনো কোনো আসনের সীমানা পরিবর্তন এলেও চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়নি। আবার খসড়া তালিকায় ছিল না এমন আসনের সীমানাতেও পরিবর্তন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল আগামী ডিসেম্বরে এবং আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্থে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে। আইন অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের সীমানা নির্ধারণের একক এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। সীমানা নির্ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিট করারও সুযোগ কম।
সীমানার চূড়ান্ত গেজেট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, একটি আসন বাড়ায় গাজীপুর-১, ২, ৩, ৫ ও ৬ আসনের সীমানায় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা কিছুটা হলেও বিপাকে পড়বেন। নতুন এলাকার ভোটারদের সঙ্গে সখ্য বাড়ানোর প্রয়োজন হবে। তবে গাজীপুর-৪ আগের মতো বহাল রয়েছে। একইভাবে বাগেরহাট-৪ আসন বাদ দিয়েছে ইসি। ওই আসনটি বাদ দেওয়ায় বাগেরহাটের তিনটি আসনের সীমানায় পরিবর্তন এসেছে। সদর, মোল্লাহাট ও চিতলমারী উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-১, ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-২ এবং কচুয়া, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-৩ আসন হয়েছে।
ঢাকায় মোট ২০টি আসন রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-২, ৪, ৫, ৭, ১০ ও ১৪ এই ছয়টি আসনের সীমানায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যদিও খসড়ায় ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯ আসনের সীমানায় পরিবর্তন করেছিল ইসি। চূড়ান্ত গেজেটে ঢাকা-৩ ও ঢাকা-১৯ আসনে পরিবর্তন আনেনি। আবার খসড়ায় না থাকা সত্ত্বেও ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের সীমানায় পরিবর্তন করেছে কমিশন। কেরানীগঞ্জ উপজেলার তাড়ানগর, কলাতিয়া, হজরতপুর, রুহিতপুর, শাক্তা, কালিন্দি ও ভান্তা ইউনিয়ন এবং আমিনবাজার, তেঁতুলজোড়া ও ভাকুর্তা ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-২ আসন গঠন করা হয়েছে। বিদ্যমান সীমানার সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৬০ ও ৬১ নম্বর ওয়ার্ড যুক্ত করে ঢাকা-৪ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৪৮ থেকে ৫০, ৬২ থেকে ৭০ ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা-৫ আসন গঠন করা হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড ঢাকা-১০ আসনে এবং ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড ঢাকা-৭ আসনে যুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা-১৪ আসনে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়ন যুক্ত করা হয়েছে।
রংপুর সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ড রংপুর-৩ আসন থেকে কেটে রংপুর-১ আসনে যুক্ত করায় এ দুটি আসনের সীমানায় পরিবর্তন হয়েছে। একইভাবে বাহুলী ইউনিয়ন এক আসন থেকে আরেক আসনে সরিয়ে দেওয়ায় সিরাজগঞ্জ-১ ও ২ আসনের সীমানা রদবদল হয়েছে। পাবনা-১ আসনের সাঁথিয়া উপজেলা ও পাবনা-২ আসনের সুজানগর ও বেড়া উপজেলা অখণ্ড করা হয়েছে।
সদর ও দেবহাটা উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-২, কালিগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-৩ এবং শ্যামনগর উপজেলাকে সাতক্ষীরা-৪ আসন করা হয়েছে। বহুল আলোচিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩ আসনে উপজেলার অখণ্ডতা ভেঙে দিয়েছে ইসি। বিজয়নগর উপজেলার বুধন্তি ও চান্দুরা ইউনিয়ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে যুক্ত হয়েছে। এই কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সীমানা থেকে এ দুটি ইউনিয়ন বাদ হয়েছে।
বড় রদবদল হয়েছে কুমিল্লা জেলাতেও। নতুন সীমানা অনুযায়ী, কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা); কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস উপজেলা); কুমিল্লা-৬ (কুমিল্লা আদর্শ সদর, সিটি করপোরেশন, সেনানিবাস ও সদর দক্ষিণ উপজেলা) এবং কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলা)। এছাড়া নোয়াখালী-১ (চাটখিল উপজেলা এবং সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ, নদনা, চাষীরহাট, বজরা, সোনাপুর, দেওটি ও আমিশাপাড়া ইউনিয়ন এবং সোনাইমুড়ী পৌরসভা); নোয়াখালী-২ (সেনবাগ উপজেলা, সোনাইমুড়ী উপজেলার বারগাঁও, নাটেশ্বর ও অম্বর নগর ইউনিয়ন); নোয়াখালী-৪ (সুবর্ণচর উপজেলা এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার চরমটুয়া, দাদপুর, নোয়ান্নই, কাদিরহানিফ, বিনোদপুর, নোয়াখালী, ধর্মপুর, এওজবালিয়া, কালাদরাগ, পূর্ব চরমটুয়া ও আন্ডারচর ইউনিয়ন, নোয়াখালী পৌরসভা); নোয়াখালী-৫ (কবিরহাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা এবং নোয়াখালী সদর উপজেলার আশ্বদিয়া ও নেয়াজপুর ইউনিয়ন) এবং চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া উপজেলা) ও চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী উপজেলা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩ থেকে ৭ নম্বর ওয়ার্ড) নিয়ে গঠিত।
