৫ লাখ ভুয়া জিমেইলের জাল
তদন্তের মুখে গুগল
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সরকারি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি পাঠানোর জন্য পাঁচ লাখের বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত একটি অপরাধ চক্রকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। গুজরাটের সাইবার ক্রাইম শাখা জানিয়েছে, ধারাবাহিক অভিযানে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ২০২২ সাল থেকে অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও পাসওয়ার্ড জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, এত বড় সংখ্যক ভুয়া অ্যাকাউন্ট পরিচালনার পেছনে গুগলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাও কাজ করেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গুজরাট পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক ভেদা এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘এত বিপুলসংখ্যক ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট একত্রে ব্যবহারের ঘটনা এর আগে কখনো দেখা যায়নি, যা বিস্ময়কর। আমরা খুব দ্রুতই গুগলকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেব। তাদের প্ল্যাটফর্মের পলিসিতে কিছু পরিবর্তন আনতে বলা হবে, যাতে এ ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা সহজেই এড়িয়ে যাওয়া না যায়।’ পুলিশের পরিকল্পনা রয়েছে, মামলার তদন্তে গুগলকে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি পক্ষ হিসাবে যুক্ত করা হবে। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে রয়টার্সের কাছে সাড়া দেয়নি গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট। শেষ পর্যন্ত গুগলকে কোনো আইনি অভিযোগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়তে হবে কিনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বড় অপরাধ চক্রের নেপথ্যে গুগলের সিস্টেমের নিরাপত্তা দুর্বলতাও তদন্তের আওতায় এসেছে। পুলিশ সূত্র বলছে, এত বড় পরিসরে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি, ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার স্বাভাবিকভাবে সম্ভব হওয়া উদ্বেগজনক। ভারত গুগলের অন্যতম বড় বাজার। এর আগে আর্থিক কেলেংকারির ঘটনায় অপরাধীরা গুগলের ওয়েব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ফায়ারবেইসের অপব্যবহার করায় কোম্পানিটি ভারত সরকারের কড়া নজরদারিতে রয়েছে। এদিকে ভারতের সাইবার অপরাধে আর্থিক জালিয়াতির কারণে বার্ষিক ক্ষতি ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। তাই প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর অবস্থান নিচ্ছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের কয়েক দিন আগে গুজরাট রাজ্য সরকার বোমা হামলার হুমকির একটি ইমেইল পায়। ওই ইমেইলে ব্রিকস সম্মেলনের সময় ভারতের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ বিভিন্ন দেশকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ বলছে, হুমকিগুলো ভুয়া ছিল। তবে চক্রটির আন্তর্জাতিক সংযোগ পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের একজন বাংলাদেশের এক ক্রেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। ক্রেতা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আংশিক অর্থ পরিশোধ করে জিমেইল অ্যাকাউন্টের বিভিন্ন ব্যাচ কিনতেন এবং পরে সেগুলো দিয়ে ভুয়া ইমেইল পাঠাতেন।
পুলিশের উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো, প্রতিটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে গুগলের টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু ছিল। অপরাধ চক্রটি এত বড় সংখ্যক অ্যাকাউন্টে তা কীভাবে সক্রিয় করল, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে। ভারতীয় পুলিশের ভাষ্য, এ ঘটনা প্রমাণ করে, ভুয়া অ্যাকাউন্ট শুধু জালিয়াতি নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। গুগলের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সংস্কার ও জবাবদিহি এখন সময়ের দাবি।
