মঙ্গলে রেকর্ড গড়ল পার্সিভ্যারেন্স
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহ বা উপগ্রহের পৃষ্ঠে রোবোটিক যান চালানোর ইতিহাসে নতুন মাইলফলক গড়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোভার পার্সিভ্যারেন্স। লাল গ্রহ মঙ্গলের ভূখণ্ডে প্রায় পাঁচ বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে ৪৫ দশমিক ২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছে ছয় চাকার এ মহাকাশযান। এর মধ্য দিয়ে মঙ্গলে রোভার চালানোর আগের রেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে এটি। ২০২১ সালে মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে অবতরণের পর থেকে পার্সিভ্যারেন্সের মূল লক্ষ্য ছিল-গ্রহটিতে অতীতে অণুজীবের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ ছিল কি না, তার প্রমাণ খুঁজে বের করা। মঙ্গলবার নাসা জানিয়েছে, দীর্ঘ এ অভিযানে রোভারটি মঙ্গলের প্রাচীন ভূখণ্ডের বিভিন্ন অঞ্চল পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা করেছে।
পথচলায় প্রযুক্তির জয় : পার্সিভ্যারেন্সের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে এর স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি। ‘অটোনেভ’ নামের এ ব্যবস্থার সাহায্যে রোভারটি নিজেই সামনের ভূখণ্ডের ছবি বিশ্লেষণ করে ত্রিমাত্রিক মানচিত্র তৈরি করতে পারে। এরপর বাধা এড়িয়ে নিরাপদ পথে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যায়। নাসার প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্টিভেন লি জানিয়েছেন, এ প্রযুক্তির মাধ্যমে রোভারটির প্রায় ৯০ শতাংশ পথচলা সম্পন্ন হচ্ছে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই। আগের প্রজন্মের রোভারগুলোকে চলার প্রতিটি ধাপে থেমে পরবর্তী পথ নির্ধারণ করতে হতো। পার্সিভ্যারেন্সের উন্নত প্রসেসর ও স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার সেই সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। নাসার হিসাবে, এর সব ব্যবস্থা ভালোভাবে কাজ করছে এবং ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত কিংবা তার পরেও কার্যকর থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাণের সন্ধানে মঙ্গলে : বিজ্ঞানীদের ধারণা, জেজেরো ক্রেটার একসময় বিশাল হ্রদ ও পানিপ্রবাহের অঞ্চল ছিল। সেখানে প্রায় ৩২০ থেকে ৩৮০ কোটি বছর আগের শিলায় প্রাচীন অণুজীবের সম্ভাব্য আলামত পাওয়া গেছে। তবে এসব চিহ্ন অতীতের প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত করে না; সেগুলোর প্রকৃতি নির্ধারণে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বর্তমানে ক্রেটারের পশ্চিম প্রান্তের ‘লাক দ্য চার্মস’ এলাকা পেরিয়ে ‘ইদুবি’ অঞ্চলের দিকে এগোচ্ছে রোভারটি। নাসা ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। প্রাথমিকভাবে ২০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও এখন এর সক্ষমতা ১০০ কিলোমিটার বা তার বেশি পর্যন্ত যাচাই করা হচ্ছে।
