গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫
মঙ্গলের পথে স্বপ্নবাজ ৩০ কিশোরী
Advertisement
আইটি ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মহাকাশ বিজ্ঞান, রোবোটিক্স ও প্রযুক্তি গবেষণায় কিশোরীদের আগ্রহী করে তুলতে অনুষ্ঠিত হলো ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫-বাংলাদেশ’। এ আয়োজনে মঙ্গল গ্রহে অভিযান পরিচালনার অনুকরণমূলক কার্যক্রমে অংশ নেয় ৩০ কিশোরী। রকেট উৎক্ষেপণ, মঙ্গলে অবতরণ, অনুসন্ধানী রোবট পরিচালনা এবং মানুষের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে হাতে-কলমে কাজ করেন তারা। গত শনিবার রাজধানীর ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি) এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের উদ্যোগে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর অ্যাস্ট্রোনমি, স্পেস সায়েন্স অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্সের (কাসা) সহযোগিতায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকরা জানান, কিশোরীদের মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি এবং ভবিষ্যতে নারী বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের পাঁচটি দলে ভাগ করা হয়। দলগুলোর কাজের বিষয় ছিল রকেট ও উৎক্ষেপণব্যবস্থা, মঙ্গল অবতরণযান, মঙ্গল অনুসন্ধানী রোবট, মঙ্গলে আবাসন এবং মঙ্গলবিষয়ক বিজ্ঞান ও জীবনধারণব্যবস্থা।
প্রতিটি দল মঙ্গল অভিযান পরিচালনার বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও প্রকৌশলগত বিষয় নিয়ে কাজ করে। এ সময় হাতে-কলমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান এবং দলগতভাবে সমস্যা সমাধানের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে মহাকাশ অভিযানের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক ধারণা পাওয়ার সুযোগ পায় অংশগ্রহণকারীরা। স্পেস ইনোভেশন ক্যাম্পের প্রেসিডেন্ট আরিফুল হাসান অপু বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী কিংবা উদ্ভাবক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য প্রয়োজন উপযুক্ত পরিবেশ, হাতে-কলমে শেখার সুযোগ এবং অনুপ্রেরণা।
তিনি বলেন, ‘গার্লস স্পেস মিশন ২০৩৫’-এর মাধ্যমে কিশোরীদের শুধু মহাকাশ সম্পর্কে শেখানো নয়, বরং তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলা, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনায় উৎসাহিত করা এবং বড় স্বপ্ন দেখার সুযোগ তৈরি করাই লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, অংশগ্রহণকারী কিশোরীদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের মহাকাশ বিজ্ঞান, রোবটিকস, প্রকৌশল ও গবেষণায় দক্ষতা বিকাশে সহায়তা দেওয়া হবে। আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারী ৩০ কিশোরীর জন্য পর্যায়ক্রমে উন্নত প্রশিক্ষণ, গবেষণাভিত্তিক প্রকল্প এবং বিভিন্ন মহাকাশ অভিযান অনুকরণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। রোবট ও আবাসনের মডেল তৈরির পাশাপাশি রকেট প্রযুক্তি ও জ্যোতির্বিজ্ঞানেও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের যুক্ত করে মেন্টরশিপ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা, গবেষণা উপস্থাপনা এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরির লক্ষ্য রয়েছে।
আয়োজকদের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য-২০৩৫ সালের মধ্যে মহাকাশ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গবেষণায় আগ্রহী দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী নারী প্রজন্ম গড়ে তুলতে অবদান রাখা।
