Logo
Logo
×

শেষ পাতা

বাইরে থেকে ভাড়া নেওয়ায় ক্ষোভ

রোগীবাহী গাড়ি আটকে দিল ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’ পথেই মৃত্যু

Icon

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

রোগীবাহী গাড়ি আটকে দিল ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’ পথেই মৃত্যু

শরীয়তপুরে ঢাকাগামী একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুদফা আটকে রাখার ঘটনায় অসুস্থ অবস্থায় জমশেদ আলী ঢালী নামের এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি স্বজনদের। শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স না নেওয়ায় ‘অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট’র সদস্যরা দেড় ঘণ্টা ওই রোগীবাহী গাড়ি আটকে রাখে বলে জানা গেছে।

জমশেদ আলী ঢালী ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা। এর আগেও ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জেলায় একই ধরনের ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল।

রোগীর স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে অসুস্থ জমশেদ আলীকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্সেস অ্যান্ড হাসপাতালে (নিউরো সায়েন্স) নেওয়ার পরামর্শ দেন। স্বজনরা হাসপাতাল চত্বরে থাকা একটি অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করে রোগী উঠান। তবে পরে চালক অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করলে স্বজনরা বাধ্য হয়ে রোগী নামিয়ে অন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

পথে স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সিন্ডিকেটের সদস্য সুমন, মানিক এবং চালক পারভেজ ও সজীবসহ ৭-৮ ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করেন। এ সময় প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বাগবিতণ্ডা চলে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তারা গাড়িটি ছেড়ে দেন। কিছুদূর যাওয়ার পর জামতলা এলাকায় আবারও একই ব্যক্তিরা অ্যাম্বুলেন্সটির পথরোধ করে রোগীকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালান। প্রায় ৪০ মিনিট পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাড়িটি ছাড়া পায়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথেই রোগীর মৃত্যু হয়। বেলা ৩টার দিকে নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জমশেদ আলীর নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান অভিযোগ করে বলেন, অ্যাম্বুলেন্স চালক ও তাদের লোকজন দুদফা গাড়ি আটকে রাখার কারণে নানাকে সময়মতো ঢাকায় নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

অ্যাম্বুলেন্স চালক সালমান বলেন, হাসপাতাল এলাকার অ্যাম্বুলেন্স মালিক সুমন খানের নেতৃত্বে ৮-১০ জন লোক ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া ও নড়িয়া উপজেলার জামতলা এলাকায় দুই দফায় দেড় ঘণ্টা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে আমাদের লাঞ্ছিত করে। হাসপাতালে পৌঁছালে জানতে পারি রোগী মারা গেছেন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, যারা এ ধরনের অমানবিক কাজ করেছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া উচিত নয়। আমি কখনো কাউকে জোর করে রোগী বহন বা গাড়ি আটকানোর নির্দেশ দেইনি।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, রোগীর একজন স্বজন মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম