গ্রামাঞ্চলে উৎসবের আমেজ
‘গণভোট কুনডারে কয় জানি না’
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকার উপকণ্ঠ মানিকগঞ্জ। রাজধানী থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটারের দূরত্ব। তবে এখানে শিল্পায়নে তেমন বিস্তার ঘটেনি। উন্নয়নের দিক দিয়েও অনেক পিছিয়ে। মানিকগঞ্জ সদর থেকে আরও ১৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে পিছিয়ে থাকা এক জনপদের নাম চৌবাড়ীয়া। এই গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম মিয়া কাজ করেন গাজীপুরের কোনাবাড়ির একটি গার্মেন্টে। ভোট দিতে বাড়িতে এসেছেন। তার কাছে প্রশ্ন ছিল গণভোট সম্পর্কে কতটুকু জানেন-ঝটপট জবাবে তিনি বললেন ‘গণভোট আবার কুনডারে কয়, ইডা নিয়া কিছু কইতে পারুম না।’
পাশের গ্রাম ধুলন্ডী বাজারে ছোট ছোট কয়েকটি চায়ের দোকানে চলছিল জমজমাট আড্ডা। আড্ডা-আলোচনার কেন্দ্রে এখন ভোট ছাড়া অন্য কিছু নেই। আলোচনায় যোগ দিয়ে কৃষক মনজু মিয়ার কাছে গণভোট নিয়ে আপনার ভাবনা কি জানতে চাইলে-এক গাল হাসি দিয়ে তিনি বলেন, ‘ইডা নিয়া আমার কিছু জানা নাই। আমারে কেউ কিছু বলে নাই। আমি খালি এমপি প্রার্থীর ভোট দিমু।’
মনজু মিয়ার পাশেই বসা দুলাল মিয়া। তিনিও কৃষিকাজ করেন। গণভোট নিয়ে তার ভাবনার কথা জানতে চাইলে বলেন, ‘কি কমু কন। আমারে একজন কয় ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে। আবার আরেকজন কয় ‘না’ ভোট দিতে। বেশির ভাগ মানুষ কিসে ভোট দেব তা বোঝে না।’
ইসলাম, মনজু ও দুলালের মতো গ্রামীণ জনপদের বেশির ভাগ সাধারণ ভোটার গণভোট সম্পর্কে রীতিমতো অন্ধকারে। গণভোটের সুফল বা কুফল কি এটা তারা বোঝেই না। তাই এই ভোট প্রদানে তাদের মধ্যে অনিহা দেখা গেছে।
বুধবার মানিকগঞ্জের তিনটি উপজেলার (মানিকগঞ্জ সদর-ঘিওর-শিবালয়) বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার গণভোটের প্রচার চালাতে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও গ্রামীণ জনপদে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। সাধারণ ভোটাররা গণভোট নিয়ে তেমন কিছুই জানেন না। তাই তাদের এই ভোটের ব্যাপারে আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি।
তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট নিয়ে গ্রামীণ জনপদে উৎসবের আমেজ তুঙ্গে। বিভিন্ন শহরে কর্মব্যস্ত মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গ্রামে ছুটে এসেছেন। অনেক বাড়িতে পিঠা-পুলির আয়োজনও দেখা গেছে।
শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নে গিয়ে কথা হয় ঢাকার আরামবাগের মুদ্রণ শিল্প ব্যবসায়ী আমির হোসন বিল্টুর সঙ্গে। পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোট দিতে তিনি গ্রামে এসেছেন। জানালেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে একের পর এক বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে। ওই সব নির্বাচনে কোনো আমেজ ছিল না। তবে ভোট দিতেও আসেননি। এবার ভোট দিতে এসেছি। আশা করছি পছন্দের প্রতীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারব।’
সদর উপজেলার গিলন্ড বাজারে কথা হয় রেস্টুরেন্ট মালিক আব্দুল ওয়াহাবের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ভোট দিতে ঢাকা থেকে অনেক মানুষ বাড়িতে আসছেন। তারা সকাল-বিকাল আমার এখানে এসে নাস্তা খাচ্ছেন। আড্ডাও দিচ্ছেন। বলতে পারেন ঈদের মতো উৎসব চলছে।’ গণভোট নিয়ে জানতে চাইলে ওয়াহাবের সাফ জবাব, গণভোট দিলে কি হবে জানি না। দিতে হবে তাই দেব।’ জানা গেছে, গণভোটের প্রচারের নামে অন্তর্বর্তী সরকার ১৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। ছয়টি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই অর্থ দেওয়া হয়। এর মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪৬ কোটি, তথ্য মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৭১ লাখ, ধর্ম মন্ত্রণালয় ৭ কোটি, এলজিইডি ৭২ কোটি, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৫২ লাখ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এছাড়াও নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব জনসংযোগ শাখা গণভোটের প্রচারে ব্যয় করছে ৪ কোটি টাকা।

