রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের দুর্ঘটনা প্রতিবেদন
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৩৮ শতাংশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মার্চে দেশে ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৩২ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ হাজার ২২১ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৬ জন নারী ও ৯৮ শিশু রয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের ৩৮ দশমিক ৩৪ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে সড়ক দুর্ঘটনার এ তথ্য উঠে এসেছে।
দুর্ঘটনা পর্যালোচনা করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছিলেন ১৫ দশমিক ৪২ জন। আর মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে নিহত হয়েছেন ১৭ দশমিক ১৬ জন। এই হিসাবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। ৯টি জাতীয় দৈনিক, ১৭টি জাতীয় ও আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
মার্চ মাসে ১৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৭ জন আহত এবং ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৪৮টি রেল ট্র্যাক দুর্ঘটনায় ৬৭ জন নিহত এবং ২২৪ জন আহত হয়েছেন। সংস্থাটি মনে করে, অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে অতিরিক্ত গতির কারণে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। গতি নিয়ন্ত্রণে তাই প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি এবং চালকদের প্রশিক্ষণ দরকার।
দুর্ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণ করে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। ৫৭৬টি সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে ২৬৪টি আঞ্চলিক সড়কে ঘটেছে। আর জাতীয় মহাসড়কে ঘটেছে ১৭১টি। গ্রামীণ সড়কে ৭০টি। শহরের সড়কে ৬২টি এবং অন্যান্য স্থানে ৯টি দুর্ঘটনা ঘটছে।
ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি ১২৬টি দুর্ঘটনায় ১৩৭ জন নিহত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় সম্পৃক্ত যানবাহনের মধ্যে ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি-ড্রাম ট্রাক-হ্যান্ড ট্রলি-ট্যুরিস্ট জিপ ২৪ দশমিক ৬০ শতাংশ। যাত্রীবাহী বাস ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ। মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার-অ্যাম্বুলেন্স-পাজেরো জিপ ৭ দশমিক ৪ শতাংশ। মোটরসাইকেল ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ। থ্রি-হুইলার (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা) ১৯ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহন (নছিমন-পাখি ভ্যান-ভটভটি-টমটম-মাহিন্দ্রা) ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ। বাইসাইকেল ১ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং অজ্ঞাতনামা যানবাহন ৩ দশমিক ১৭ শতাংশ।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলোর মধ্যে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানোসহ ১১টি কারণ উল্লেখ করেছে সংগঠনটি। প্রতিবেদনে ১২টি সুপারিশ উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে রয়েছে- সড়ক থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন প্রত্যাহার, দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বৃদ্ধি ও বেতন-কর্মঘণ্টা-স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত, আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার, জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল (এনআরএসসি) পুনর্গঠন ইত্যাদি।
