Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

তালতলীর টেংরাগিরি প্রজনন কেন্দ্র

শতাধিক কুমির শাবকের জন্ম, একটিও বেঁচে নেই

Icon

মু. আব্দুল মোতালিব, তালতলী (বরগুনা)

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

শতাধিক কুমির শাবকের জন্ম, একটিও বেঁচে নেই

বরগুনার তালতলী টেংরাগিরি ইকোপার্কের কুমির প্রজনন কেন্দ্রের দুই সদস্য ‘টেংরা’ ও ‘ছখিনা’। সম্প্রতি তোলা -যুগান্তর

Advertisement

বরগুনার তালতলী টেংরাগিরি ইকোপার্কের কুমির প্রজনন কেন্দ্র দীর্ঘ এক যুগ পেরিয়েও সফলতার মুখ দেখেনি। ‘টেংরা’ ও ‘ছখিনা’ নামের কুমির দুটি নিয়মিত ডিম দিলেও জন্ম নেওয়া কোনো শাবকই টিকে থাকছে না। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের চরম দায়িত্বহীনতা আর দক্ষ জনবলের অভাবে একের পর এক কুমির শাবকের মৃত্যু হচ্ছে।

টেংরাগিরি ইকোপার্কের প্রধান আকর্ষণ হিসাবে ২০১১-১২ অর্থবছরে বন বিভাগের উদ্যোগে মিঠাপানির কুমির সংরক্ষণ ও বংশ বিস্তারের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছিল কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি। শুরুতে একটি পুরুষ ও একটি স্ত্রী কুমির দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর মা কুমির ‘ছখিনা’ প্রতিবছর ৮ থেকে ১০টি ডিম দিয়ে ১৩ বছরে শতাধিক শাবক জন্ম দিলেও কোনো শাবককে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

প্রজনন নীতিমালা অনুযায়ী, ডিম ফুটে শাবক বের হওয়ার পরই সেগুলোকে বড় কুমির থেকে আলাদা করে নিরাপদ পরিবেশে লালন-পালনের কথা থাকলেও বাস্তবে তার সঠিক প্রতিফলন ঘটছে না। অভিযোগ উঠেছে, এই অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়ত বড় কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারাচ্ছে নবজাতক শাবকগুলো। এতে ব্যাহত হচ্ছে কুমির প্রজনন কেন্দ্রের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

কুমির প্রজনন কেন্দ্রটি ঘুরে দেখা যায়, কুমিরের একটি শাবক নতুন পৃথিবীর আলো দেখামাত্রই শুরু হয়েছে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। পানিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে সদ্যোজাত শাবকটি। তার এই অস্থির ছোটাছুটি দেখে দর্শনার্থীদের মনে আনন্দ নয়, বরং বেড়েছে আশঙ্কা। আগের শাবকগুলোও একইভাবে জন্ম নিয়েছিল, কিন্তু বড় কুমিরের আক্রমণে কেউ টিকে থাকতে পারেনি।

এ অবস্থায় সংশয় জেগেছে, এ নতুন শাবকটি টিকে থাকবে নাকি আগেরগুলোর মতো অকালে ঝরে যাবে।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম অমি বলেন, ‘মা কুমিরটি প্রতিবছর বাচ্চা জন্ম দেয়, কিন্তু সেগুলোকে বাঁচানোর কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই। তাই আমরা দক্ষ জনবল নিয়োগ ও কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’

পরিবেশকর্মী মো. শহিদুল ইসলাম মিলন বলেন, ‘দেশের অন্যান্য প্রজনন কেন্দ্রে কুমিরের সংখ্যা বাড়লেও টেংরাগিরিতে তার উলটো চিত্র দেখা গেছে। যার কারণে, প্রজনন কেন্দ্রটি তার উদ্দেশ্য হারিয়েছে এবং ব্যর্থ হয়েছে সম্ভাবনাময় সংরক্ষণ উদ্যোগ ও পর্যটন সম্ভাবনা।’

বন বিভাগের সখিনা বিট কর্মকর্তা রাহিমুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ‘শাবক জন্মের পর সেগুলোকে আলাদা করে লালন-পালনের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নেই। ফলে বড় কুমিরের আক্রমণ থেকে শাবকগুলোকে রক্ষা করা যাচ্ছে না।’

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘টেংরাগিরি কুমির প্রজনন কেন্দ্রের বিষয়টি ইতোমধ্যে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।’ শিগগির এর সমাধান হবে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন নজরুল ইসলাম মোল্লা

বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হলেন নজরুল ইসলাম মোল্লা

এক লাখ টাকা ঘুস না দেওয়ায় মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ

এক লাখ টাকা ঘুস না দেওয়ায় মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার অভিযোগ

আরও পড়ুন

আইসিসিডিআর,বি-স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতি কেজি সাদা ভাতে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম সিসা

প্রতি কেজি সাদা ভাতে ৩০৫ মাইক্রোগ্রাম সিসা

কচুরিপানার নতুন পরিচয়

কচুরিপানার নতুন পরিচয়

রহস্যজনক ভূমিকায় বিআইডব্লিউটিএ পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

পদ্মার ছয় মৌজায় অবাধে বালু ও মাটি লুট

ঢাকা জেলা পরিষদ টাওয়ার নির্মাণে দুর্নীতি তদন্তে দুদককে সুপারিশ

নির্মাণে দুর্নীতি তদন্তে দুদককে সুপারিশ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম