টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল
সুনামগঞ্জে বন্যার শঙ্কা, সাদাপাথর বন্ধ ঘোষণা
Advertisement
যুগান্তর ডেস্ক
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়ক। বিঘ্নিত হচ্ছে যানচলাচল। রোববার দুপুরে আনোয়ারপুরে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কয়েকদিন ধরে বৃষ্টি ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সুনামগঞ্জের সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে তলিয়ে গেছে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর। রোববার পর্যটকদের নিরাপত্তা বিবেচনায় পর্যটনকেন্দ্রটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। পাহাড়ি ঢলে ভেসে গেছে আরেক পর্যটনকেন্দ্র জাফলংয়ের শতাধিক দোকানপাট। প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদ-
সুনামগঞ্জ : পাহাড়ি ঢলের পানিতে ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে তাহিরপুরের আনোয়ারপুর সড়ক। এতে সুনামগঞ্জ জেলার সঙ্গে তাহিরপুর উপজেলার সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রোববার জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে জেলার নদ-নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
ইতোমধ্যে সুরমা, বৌলাই, রক্তিসহ বিভিন্ন নদীর পানি বেড়েছে। ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি ৭৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। বর্তমানে পানি বিপৎসীমার প্রায় ৪৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী দুদিন ভারি বৃষ্টিপাত হলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এতে জেলার নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন হাওলাদার বলেন, ভারতের চেরাপুঞ্জিতে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নদীর পানি বাড়ছে। বৃষ্টিপাত আরও হলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান মানিক জানান, রোববার সকালে পানির স্রোত কিছুটা কম ছিল। কিন্তু বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানিও বেড়েছে। স্থানীয়রা যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।
কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট (সিলেট) : টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে সিলেটের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র ভোলাগঞ্জ সাদাপাথর। রোববার ভোর ৪টার থেকে ঢলের পানি বাড়তে শুরু করে। ডুবে যায় পর্যটনকেন্দ্রের বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে পর্যটনকেন্দ্রের অস্থায়ী দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ১৮০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর দোকানের মালামাল পানিতে ভেসে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, তাদের আনুমানিক ১৫ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
রোববার কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও রবিন মিয়ার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, সাদাপাথর নৌকাঘাটে বাঁধা পর্যটকবাহী নৌকা। ঘাটে বসে আছেন মাঝিরা। পর্যটকরা ফিরে যাচ্ছেন নৌকাঘাট থেকে। এছাড়া প্রশাসনের নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরা পাথর লুট ঠেকাতে নজরদারি করছেন সাদাপাথর এলাকায়। ঢাকা থেকে আসা মুসলিম উদ্দিন বলেন, পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্ধ পর্যটনকেন্দ্র। আমরা আগে জানতাম না। নৌকাঘাট থেকে আমাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।
সাদাপাথর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি জাবেদ মির্জা বলেন, আমার কয়েক লাখ টাকার কসমেটিকস পণ্য ভেসে গেছে। অল্প পরিমাণে মালামাল উদ্ধার করেছি। বিকাল থেকে পানি কমতে শুরু করেছে। পর্যটনকেন্দ্রের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ তালুকদার। তিনি বলেন, পর্যটনকেন্দ্রের মূল স্পটের ৯০ শতাংশ রোববার পানিতে তলিয়ে যায়।
এদিকে মেঘালয়ের পাহাড়ি ঢলে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে সিলেটের আরেক পর্যটনকেন্দ্র জাফলং। শনিবার রাতে পিয়াইন নদীর পানি বেড়ে জাফলং জিরো পয়েন্ট এলাকার কয়েকশ দোকানপাট লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে অনেকেই ব্যাংক বা বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে দোকানে মালামাল তুলেছিলেন। রাতের দুর্যোগ তাদের সম্পূর্ণ নিঃস্ব করে দিয়েছে।
জাফলং পর্যটন কেন্দ্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বলেন, গভীর রাতে পাহাড়ি ঢলের কারণে আমাদের কয়েকশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ পথে বসে গেছেন। গোয়াইনঘাটের ইউএনও রতন কুমার অধিকারী জানান, ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতি ও পরবর্তী করণীয় বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
