কালীগঞ্জে শিশু ধর্ষণ ও হত্যায় আসামির মৃত্যুদণ্ড
Advertisement
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ঝিনাইদহে শিশু হত্যায় মৃত্যুদণ্ড সাজাপ্রাপ্ত আবু তাহেরকে সোমবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ বছরের শিশু হত্যা মামলায় আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়েছে। জরিমানার টাকা শিশুর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ আসে।
সোমবার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ছালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। তিনি ঘটনাটিকে একটি জঘন্যতম অপরাধ হিসাবে উল্লেখ করেন। বিচারক যখন ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখ জলে ভরে যায়। উপস্থিত ছিলেন শিশুটির মা-বাবা ও বড় বোন। কাঠগড়ায় একেবারে চুপ ছিলেন আসামি আবু তাহের।
মামলার বিবরণে উল্লেখ রয়েছে, কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামে বাড়ি এক দম্পতির ছোট মেয়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। ওইদিনই কালীগঞ্জ থানায় জিডি করেন তার বাবা। পরদিন সকালে স্থানীয় বাদুড়গাছা আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংক থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে শিশুটির বাবা মামলা করেন। কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জেলাল হোসেন তদন্ত শুরু করেন। নিহতের বড় বোনের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসাবে পাশের বাড়ির রফিউদ্দিনের ছেলে আবু তাহেরকে আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। চার্জশিট হওয়ার পর জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা আসামির পক্ষ নিতে বিরত থাকেন।
জবানবন্দিতে আসামি তাহের জানিয়েছিল, সে শিশুটিকে একা পেয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে ধর্ষণ ও গলাটিপে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টা করে। তাহের একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি ছিল।
আদালতে রায় ঘোষণার পর আদালতে শিশুর পরিবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। তার বাবা জানান, দেশে আর কোনো বাবার কাঁধে যেন মেয়ের লাশ বহন করতে না হয়। রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানান তিনি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি আকিদুল ইসলাম ও জেলা জজ আদালতের পিপি এসএম মশিউর রহমান সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রায় দ্রুত কার্যকর করার আশাবাদ দেন। আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তা ছিল।
তদন্তকারীকে সতর্ক করলেন আদালত : মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার ওসি জেলাল হোসেনকে সতর্ক করেছেন আদালত। ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেটকে মামলার সাক্ষী না করায় তাকে সতর্ক করা হয়। ভবিষ্যতে এমনটি না করার জন্য নির্দেশ দেন আদালত। আসামি তাহেরের জবানবন্দি রেকর্ড করেছিলেন ঝিনাইদহ আদালতের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া বিনতে জাহিদ।
