Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস আজ

প্রান্তিক নারীর শ্রম বঞ্চনার বৃত্তেই

Advertisement

শিপন হাবীব

শিপন হাবীব

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

প্রান্তিক নারীর শ্রম বঞ্চনার বৃত্তেই

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দায়ে ধার দিচ্ছেন এক নারী -আনোয়ার হোসেন

Advertisement

কৃষি কিংবা গ্রামকেন্দ্রিক শ্রমে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। বাড়তি আয়ের আশায় পুরুষরা গ্রাম থেকে শহরে পাড়ি দেওয়ার ফলে গ্রামীণ কাজ পরিচালনার দায়িত্ব ক্রমশ নারীদের ওপর ন্যস্ত হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে কৃষিশ্রমে নারীর অবদানের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি নেই। সংসারে নারীর কাজের আর্থিক মূল্যায়ন ধরা হয় না। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আজ বাংলাদেশেও আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘গ্রামাঞ্চলের নারী চাষি ও কর্মীরা মাতৃ প্রকৃতির পরিচর্যা করছে’। দিবসটি আসে আবার চলেও যায়। কিন্তু বঞ্চনার একই বৃত্তে বন্দি থাকে গ্রামীণ নারীদের শ্রম। মাঠ থেকে সংসার, গ্রামীণ নারীরা সবখানেই বঞ্চনার শিকার।

সর্বশেষ জনশুমারি ও গৃহ গণনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘দেশের পল্লি বা গ্রামীণ এলাকায় মোট নারীর সংখ্যা ৫ কোটি ৭৮ লাখ ৯০ হাজার ৪৬২ জন। তাদের মধ্যে কৃষি খাতে সরাসরি নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ২ কোটি নারী।’ বর্তমানে দেশে পুরুষের তুলনায় নারী প্রায় ৩২ লাখ বেশি। গ্রামীণ নারী শ্রমিকদের মধ্যে পদে পদে বৈষম্য রয়েছে। বীজ বোনা, আগাছা তোলা, ফসল কাটা, ফসল ঝাড়াই এবং ফসল ঘরে তোলার সময় পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও কঠোর পরিশ্রম করে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, নারীরা এসব কাজ করেন বিনা মজুরিতে। আবার পারিশ্রমিক থাকলে তা পুরুষের তুলনায় খুবই কম। জমির মালিকানায়ও নারীর প্রতি বৈষম্য দৃশ্যমান। আইন ও দাপ্তরিকভাবে গ্রামীণ নারী শ্রমিকের বড় অংশকে এখনো ‘কৃষক’ হিসাবে গণ্য করা হয় না। সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও স্বল্পমূল্যে বীজ-সার পাওয়ার জন্য কৃষি কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এ কার্ড পাওয়ার প্রধান শর্ত হলো নিজের নামে জমির মালিকানা। ফলে কৃষিতে নারীর এই বিশাল শ্রমের কোনো আর্থিক মূল্যায়ন হয় না।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘গ্রামীণ নারীরাই কৃষিকে টিকিয়ে রেখেছে। গ্রামীণ কৃষি কিংবা সংসারের প্রায় যাবতীয় কাজ নারীরাই করছে। খাদ্য নিরাপত্তার প্রথম প্রহরী গ্রামীণ নারীরা। সমাজ-সংসারে নারী শ্রমের অথনৈতিক অধিকার না থাকায় সহিংসতা, নির্যাতনের মাত্রাটাও বেশি।’

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) আন্তর্জাতিক কৃষিব্যবস্থায় নারীর ভূমিকা নিয়ে ‘স্ট্যাটাস অব উইমেন ইন অ্যাগ্রিকালচার সিস্টেম’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে গ্রামীণ নারীদের কৃষিসহ নানা শ্রমে সম্পৃক্ততা বাড়ছে। তবে জমির মালিকানায় তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ ডেইলি ফারমার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, দেশের কুরবানিতে গবাদিপশুর বড় অংশ আসে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের কাছ থেকে। দেশে বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ খামার রয়েছে, যেগুলোর প্রায় ৬৫ শতাংশ চালান গ্রামীণ নারীরা। বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের ৯০ শতাংশ লালন-পালন করেন গ্রামীণ নারীরা। তারপরও নারীরা অর্থনীতি ও সমাজের সবক্ষেত্রেই যেন অদৃশ্য। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, শত দুর্যোগ ও সমস্যার মধ্যেও গ্রামীণ নারীরা স্বামী-সন্তানের ভিটেবাড়িতেই থেকে যাচ্ছেন। যাবতীয় কাজ তাদেরই করতে হচ্ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর তিতাস পাড়ের বাসিন্দা রহিমা খাতুনের ভাষ্য, স্বামী কৃষক ছিলেন। মারা গেছেন ১১ বছর হলো। ৪ সন্তান বিদেশে। স্বামী-সন্তানের কৃষিজমিসহ যাবতীয় জমিজমা তাকেই দেখতে হয়। সঙ্গে থাকা দুই পুত্রবধূও শ্রম দিচ্ছে দিনের পর দিন। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রসুলপুর চরপাড়া গ্রামে বিপুল গবাদিপশু লালন-পালন করা হয়। খামারগুলোতে অধিকাংশই নারী শ্রমিক। ৫৫ বছর বয়সি রত্না বেগম জানান, জীবন-যৌবন দিয়ে কাজ করলেও মূল্যায়ন নেই। পরিবারের আর্থিক কোনো হিসাবনিকাশে নারীর অংশগ্রহণ নেই।

মৌলভীবাজার এলাকায় প্রায় ৯৩টি চা বাগান রয়েছে। শ্রীমঙ্গলে প্রায় ৪৩টি। চা বাগানের শ্রমিকদের মধ্যে অধিকাংশ নারী। গ্রামীণ এসব নারী শ্রমিকরা নামমাত্র মজুরিতে কাজ করেন। শ্রীমঙ্গলের নারী চা শ্রমিক রিনা সিং বারাইকের ভাষ্য, নারীদের রোজগারের টাকায়ও থাবা দিচ্ছে ঘরের পুরুষরা। দিনাজপুরের আদিবাসী নারীদের বঞ্চনার অভিযোগ যুগ যুগ ধরে। তারা কৃষির ওপর নির্ভরশীল হলেও তাদের নিজস্ব কৃষিভূমি নেই। অথচ তাদের এলাকায় প্রচুর খাসজমি রয়েছে। বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) একটি প্রতিবেদন বলছে, মাত্র ৩০ শতাংশ গ্রামীণ নারী কৃষি প্রশিক্ষণ পান, যেখানে পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার ৭০ শতাংশের বেশি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

যুদ্ধে হুমকিতে সৌদি আরবের শ্রমবাজার রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিপাকে

রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিপাকে

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস আজ প্রান্তিক নারীর শ্রম বঞ্চনার বৃত্তেই

প্রান্তিক নারীর শ্রম বঞ্চনার বৃত্তেই

নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে গ্রামের নারীরা

নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে গ্রামের নারীরা

আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সভা বড় ঋণের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ টানার চেষ্টা

বড় ঋণের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ টানার চেষ্টা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম