Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে গ্রামের নারীরা

Advertisement

Icon

মনিকা চৌধুরী, বরিশাল

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে গ্রামের নারীরা

বরগুনার ভুতমারায় ধানের চিটা ছাড়াচ্ছেন এক নারী -আরিফুল ইসলাম মুরাদ

Advertisement

সংসারের কাজ সামলে কেউ বুনছেন শীতলপাটি, কেউ কেউ হাঁস-মুরগি, গরু লালনপালন করে বাড়তি আয় করছেন। আবার কেউ সেলাই মেশিনের চাকা ঘুরিয়ে সংসারে জোগাচ্ছেন টাকা। প্রত্যেকের কাজ আলাদা, কিন্তু লক্ষ্য এক-সংসারে সচ্ছলতা আনা, নিজের পায়ে দাঁড়ানো। বরিশালের গ্রামীণ জনপদে এমন অনেক নারী রয়েছেন, যারা নিজেদের শ্রম আর দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বদলে দিচ্ছেন পরিবারের অর্থনৈতিক চিত্র। তাদের উপার্জন হয়তো খুব বেশি নয়, কিন্তু সংসারের খরচ মেটানো, সন্তানদের চাহিদা পূরণ কিংবা স্বামীর আয়ের ওপর চাপ কমাতে রাখছেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী আয় করে সংসারের হাল ধরছেন তারা।

বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নের রাজারচরের প্রত্যন্ত এলাকার বাসিন্দা অমলা রানী। এলাকায় যাতায়াতের ভালো ব্যবস্থা নেই। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সংসারের কাজ সামলে শীতলপাটি বুনে আয় করেন তিনি। তার কাছে এই কাজ শুধু ঐতিহ্য ধরে রাখার মাধ্যম নয়, পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও উপায়। অমলা রানীর মতো অনেকেই সংসারের হাল ধরেছেন এই শীতলপাটি বুনে। অমলা রানী বলেন, ‘সংসারের কাজ তো করতেই হয়। পাশাপাশি পাটি বুনি। একটি পাটি বুনতে ৩-৪ দিন লাগে। কষ্ট হলেও কাজটা ছাড়তে চাই না।’

গ্রামীণ নারীদের অনেকের কাছেই গরু পালন আয়ের অন্যতম অবলম্বন। সংসারের কাজের ফাঁকে গরুর দেখাশোনা করেন নাজমা। গরু পালন করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটানোর স্বপ্ন দেখেন তিনি। নাজমা বলেন, ‘গরু লালনপালন করতে পরিশ্রম হয়, খরচও আছে। তারপরও চেষ্টা করি নিজের মতো করে কিছু আয় করতে।’

বাড়ির ছোট্ট আঙিনায় হাঁস-মুরগি পালন করা অনেক গ্রামীণ নারীর কাছে আয়ের সহজ সুযোগ। সালমাও সংসারের কাজের পাশাপাশি হাঁস-মুরগি পালন করেন। ডিম ও মুরগি বিক্রি করে যে টাকা পান, তা পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে কাজে লাগে। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করা এই কাজ তার সংসারে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

সেলাইয়ের কাজ জানেন সুরাইয়া। সংসারের কাজ সেরেই মেশিনের খটখট আওয়াজ তুলে জানান দেন নিজের দক্ষতা। এই পারদর্শিতাকে কাজে লাগিয়ে বাড়িতে বসেই আয়ের চেষ্টা করছেন তিনি। তার কাছে সেলাই মেশিন শুধু একটি যন্ত্র নয়, নিজের শ্রমের বিনিময়ে আয় করার মাধ্যম। সুরাইয়া বলেন, সেলাইয়ের কাজ জানি বলেই বাড়িতে বসে কিছু আয় করতে পারছি। অমলা রানী, নাজমা, সালমা কিংবা সুরাইয়া-কাজের ধরন আলাদা হলেও তাদের জীবনসংগ্রামের জায়গাটি একই। সংসারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তারা নিজেদের শ্রমকে আয়ের উৎসে পরিণত করেছেন। তাদের উপার্জন পরিবারের আর্থিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও বাড়াচ্ছে।

তবে গ্রামীণ নারীদের এই পথ সব সময় সহজ নয়। পুঁজি, প্রশিক্ষণ, পণ্যের ন্যায্যমূল্য ও বাজারজাত করার সুযোগের অভাব তাদের কাজের পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বাড়ির কাজের পাশাপাশি আয় করতে গিয়ে তাদের বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়।

গ্রামের এই নারীরা হয়তো বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের মালিক নন। তাদের কারও কর্মস্থল বাড়ির আঙিনা, কারও কাজের জায়গা ঘরের এক কোণে। কিন্তু নিজেদের শ্রমে তারা যে আয়ের পথ তৈরি করছেন, তা পরিবারের ভিতকে শক্ত করছে। প্রতিদিনের ছোট ছোট উপার্জন আর নিরন্তর পরিশ্রমেই তারা গড়ে তুলছেন টিকে থাকার লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার ভিত।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

যুদ্ধে হুমকিতে সৌদি আরবের শ্রমবাজার রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিপাকে

রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিপাকে

আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস আজ প্রান্তিক নারীর শ্রম বঞ্চনার বৃত্তেই

প্রান্তিক নারীর শ্রম বঞ্চনার বৃত্তেই

নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে গ্রামের নারীরা

নিজের পায়ে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে গ্রামের নারীরা

আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সভা বড় ঋণের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ টানার চেষ্টা

বড় ঋণের সঙ্গে বিদেশি বিনিয়োগ টানার চেষ্টা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম