Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

মিঠামইনে বিএনপি নেতা হত্যা

কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করা হয় খুনিদের

নেপথ্যের মাস্টারমাইন্ড ‘খোকা’

Advertisement

Icon

কিশোরগঞ্জ ব্যুরো

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করা হয় খুনিদের

Advertisement

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যাকাণ্ডে আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাদের একজন হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সিরিয়াল কিলার। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে তাদের ভাড়া করে আনা হয়। পুলিশের কাছে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারায় জবানবন্দিতে এসব কথা স্বীকার করে আটক বরগুনার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া এলাকার মো. হেলাল।

বুধবার রাতে মিঠামইনের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে হত্যা করে বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীরকে। পরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে আটক করা হয়। হেলাল ছাড়াও আটক অন্য দুজন হলো-লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার দুধরাজপুর এলাকার মো. মহিন উদ্দিন ও একই উপজেলার নাগমুদ বাজার মধ্যপাড়া এলাকার মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫)। হেলাল স্বীকার করে, তারা গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিল। জাহাঙ্গীরকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের জামিনে মুক্ত করে আনে ‘খোকা’ নামের এক ব্যক্তি। সে এই হত্যার মাস্টারমাইন্ড।

জিজ্ঞাসাবাদে হেলাল জানায়, ওই খোকাকে আমরা চিনি না। আমাদের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত করে আনা হয়েছে। পরে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মিঠামইনে হত্যা মিশনে পাঠানো হয়।

কে এই মাস্টারমাইন্ড : আসামিদের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ যখন অজ্ঞাত ওই মাস্টারমাইন্ডকে খুঁজতে ব্যস্ত, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ছাত্রদল নেতার নাম ভাইরাল হয়েছে। তার ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। তিনি হলেন মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকা। পুলিশের ধারণা, সিরিয়াল কিলারদের অপরিচিত ওই মাস্টারমাইন্ড ‘খোকা’ আর কেউ নয়-সে হচ্ছে মোকাররম হোসেন খোকা। এরপর থেকে ছাত্রদল নেতা খোকাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, জাহাঙ্গীর হত্যার মাস্টারমাইন্ডসহ জড়িত সব নেপথ্য নায়কদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলছে। আটক তিনজনকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

যেভাবে খুন হন জাহাঙ্গীর : ১৫ জুলাই রাত ৯টার দিকে মিঠামইন বাজার থেকে হাদিস মিয়া নামে এক সহকর্মীকে নিয়ে বাড়ি যাচ্ছিলেন বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর। নিজ বাড়ির সামনে আসলে ওতপেতে থাকা দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার শরীর ক্ষতবিক্ষত করে দেয় তারা। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় তাকে বাঁচাতে চেষ্টা করে গুরুতর আহত হন হাদিস মিয়া। এ সময় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।

শুক্রবার বাদ জুমা জানাজা শেষে জাহাঙ্গীরকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। জানাজায় বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মো. ফজলুর রহমান, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলামসহ এলাকাবাসী অংশ নেন।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ফেব্রুয়ারিতে বন্ধ হচ্ছে সামিটের তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র

বন্ধ হচ্ছে সামিটের তিন বিদ্যুৎকেন্দ্র

কলাগাছের সুতায় কলাবতী শাড়ি

কলাগাছের সুতায় কলাবতী শাড়ি

ঝুঁকিতে প্রাণ-প্রকৃতি: পর্ব-১ তিন উৎসে সুন্দরবনে ঢুকছে প্লাস্টিক বর্জ্য

তিন উৎসে সুন্দরবনে ঢুকছে প্লাস্টিক বর্জ্য

লালমোহন ও উজিরপুরে যুবদলের দুই নেতাকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

লালমোহন ও উজিরপুরে যুবদলের দুই নেতাকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম