বাজার পরিদর্শনে তিন মন্ত্রী
কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নিত্যপণ্যের বাজার স্বাভাবিক করতে কাঁচামরিচ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমদানির ওপর বিদ্যমান করও কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ফলে আজ থেকে আমদানি শুরু হলে বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং মূল্য দ্রুত কমে আসবে বলে মনে করছে সরকার। নিত্যপণ্যের বাজারে এখন চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সব ধরনের সবজি। একমাত্র আলু ছাড়া বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার ওপরে। ফলে বাজারে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় রোববার রাজধানীর শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শন যান কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম। পরিদর্শনের সময় মন্ত্রীরা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে কাঁচামরিচসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ, মূল্য এবং বাজার পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। সাম্প্রতিক সময়ে অতিবৃষ্টি, সরবরাহ সংকট ও মৌসুমি কারণে কাঁচামরিচের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে।
এ সময় কৃষিমন্ত্রী বলেন, কাঁচামরিচের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার আমদানির অনুমতি দিয়েছে। একই সঙ্গে আমদানির ওপর বিদ্যমান করও কমানো হচ্ছে। তিনি বলেন, সোমবার থেকেই আমদানি শুরু হবে। এতে দুই থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে কাঁচামরিচের দাম সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে বলে আমরা আশা করছি। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বাজার রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেবে। তিনি গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাজারের প্রকৃত চিত্র বস্তুনিষ্ঠভাবে তুলে ধরলে গুজব ও বিভ্রান্তি কমবে। একই সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা মূল্য কারসাজির সুযোগ পাবে না। এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অত্যাবশ্যকীয় ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও কৃষিপণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং করণীয় নির্ধারণে বৈঠক হয়। এতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, মূল্য নিয়ন্ত্রণ, আমদানি সহজ করা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে মন্ত্রীরা সরেজমিন শান্তিনগর কাঁচাবাজার পরিদর্শনে যান।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীর বৈঠক : এদিন মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিয়াও সোয়ে মোয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু, সরাসরি নৌযোগাযোগ, এলএনজি আমদানি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কৃষি ও মৎস্যপণ্যের বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ দ্রুত প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং এ বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতির ওপর জোর দেয়। পাশাপাশি উভয় দেশ নিয়মিত যৌথ কমিটির বৈঠক এবং সরাসরি নৌ-শিপিং যোগাযোগ চালুর বিষয়ে একমত হয়।
